ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ৭ ঘণ্টা পর নিভেছে গাজীপুরে মিনিস্টার হাইটেক পার্কের আগুন। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের চেষ্টার পর মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডের কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকার ওই কারখানায় আজ শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় আগুন লাগে। দুপুর সোয়া ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলামের নির্দেশনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল্লাহকে (এডিসি-শিক্ষা) প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রতিবেদন জামা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ জানান, ‘কারখানা ভবনটি ছয় তলা। ষষ্ঠ তলাতেই আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু আগুন লাগার কারণ আমরা এখনই বলতে পারছি না। কারখানা ভবনের ষষ্ঠ তলা ও পঞ্চম তলা পুড়ে গেছে। দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হয়েছে।
তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেই কারখানাটিতে। পাশের মার্কওয়্যার লিমিটেডের ডোবা থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এখন ডাম্পিং এর কাজ শুরু হয়েছে।’
এদিকে টঙ্গী কলকারখানা অধিদফতরের সহকারী মহা-পরিদর্শক মোতালিব মিয়া জানান, ‘এই কারখানায় নিয়মিত অগ্নি নির্বাপন মহড়ার আয়োজন করা হতো না। ছয় তলার ওপরে গুদাম রাখারও নিয়ম নেই। কারখানায় ফায়ার অ্যালার্ম ও অগ্নি নির্বাপনের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছিল না।
‘এ ব্যাপারে প্রায় তিন সপ্তাহ (আনুমানিক ২০/২২দিন) আগেও আমরা নোটিশ দিয়েছিলাম। নোটিশের বিপরীতে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনও জবাব দেয়নি। এ কারণে কলকারখানা অধিদফতর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে’, যোগ করেন তিনি।
মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম জানান, ‘শুক্রবার কারখানাটি বন্ধ ছিল। কারখানায় রাইস কুকার, ইস্ত্রিসহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি ও টিভি, ফ্রিজ সংযোজন করা হতো। দুই হাজার কর্মী এখানে কাজ করেন। উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী কারখানা ভবনের ষষ্ঠ তলায় মজুদ রাখা ছিল। কীভাবে আগুন লাগতে পারে বা কী পরিমাণ মালামাল ওই গুদামে ছিল তা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা না থাকা ও অগ্নি নির্বাপনের মহড়া না করার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজিএম রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
একইসঙ্গে অগ্নি নির্বাপনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তা এড়িয়ে যান মাই ওয়ান ইলেকট্রনিক্স ও মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগুন লাগার সময় কারখানায় কাজ বন্ধ ছিল। কীভাবে ছয় তলায় আগুন লাগলো তা আমরা এখনও বুঝতে পারছি না।’
















