ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বিজেপি–র আসামে সংখ্যালঘুরাই শুধু নন, তাঁদের ভ্রূণও নিরাপদ নয়। সপ্তাহখানেক আগে পুলিশি অত্যাচারে এক মুসলিম মহিলার ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়। রাজ্য সরকার অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে বরখাস্ত করে। কিন্তু বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য দেব প্রকাশ্যেই প্রশংসা করেন সেই ভ্রূণহত্যাকারী পুলিশকর্মীর।
এ ঘটনার লেশ কাটতে না কাটতেই আবারো আসামে রুকেয়া খাতুন (২৫) নামে আরও এক মুসলিম মহিলার পুলিশি জুলুমে গর্ভপাত হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের উৎসাহেই পুলিশ আরও বেশি হিংস্র হয়ে উঠছে। শুক্রবার রাতে আসামের বরপেটা জেলার আমগুড়ি থানার খুদুনাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শুক্রবার রাতে পুলিশ রুকেয়া খাতুনের বাড়িতে আসে। দরজা বন্ধ করে বাড়ির অন্যদের সঙ্গে তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। দরজা খুলতে দেরি হওয়ার ‘অপরাধ’–এ পুলিশ ঘরে ঢুকেই অকথ্য অত্যাচার শুরু করে।
বাদ যাননি ২ মাসের গর্ভবতী রুকেয়াও। শুরু হয় রক্তপাত। তারপরও পুলিশের অত্যাচার থামেনি। রুকেয়াদের ‘অপরাধ’, তাঁর দাদা শহিদুল আলি ভালবেসে বিয়ে করেছেন জয়নাব খাতুনকে। জয়নাবের বাড়ির লোকের অমতে। তাঁরা পুলিশে অভিযোগ জানান। তারপরই শুরু হয় পুলিশি অত্যাচার।
ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে কংগ্রেস। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়ার মতে, পুলিশ হিংস্র হয়ে উঠছে। আর বিজেপি নেতারাই তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন। সম্প্রতি আসামেরই দরং জেলার বুরহায় আরেক গর্ভবতী সংখ্যালঘু মুসলিম মহিলাও পুলিশি বর্বরতার শিকার হয়েছিলেন। তাঁরও গর্ভপাত হয়ে যায়। তাঁর ভাই ভালবেসে গ্রামেরই এক সাবালিকা হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। সেই ‘অপরাধ’–এ গর্ভবতী ওই মহিলা–সহ সেই যুবকের তিন বোনের ওপর চলে অত্যাচার। গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়তে রাজ্য পুলিশ অভিযুক্ত ওসি মহেন্দ্র শর্মা এবং পুলিশ কনস্টেবল বিনীতা বোড়োকে বরখাস্ত করে।
কিন্তু ওই ঘটনার পরই বিজেপি বিধায়ক শিলাদিত্য অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের হয়ে সাফাই গাইতে শুরু করেন। তাঁর মতে, ‘লাভ জিহাদ’ বন্ধে ঠিক করেছে পুলিশ। তিনি আসামে ‘ফেসবুক জিহাদ’ বা ‘ইনস্টাগ্রাম জিহাদ’ বন্ধে কড়া দাওয়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করেন। প্রয়োজনে হলে এ ধরনের ‘জিহাদি’দের গুলি করে মারার কথাও বলেন বঙ্গতনয় শিলাদিত্য।
মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী তথা অসমের শিলচরের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব বলেছেন, ‘বিজেপি নেতাদের কথাতেই পুলিশ সংখ্যালঘুদের ওপর আরও বেশি করে হিংস্র হয়ে উঠছে।’ বিজেপি নেতারা উস্কানি দিয়ে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আসামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ দুটি ঘটনারই বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।
সূত্র: আজকাল
















