এমনই ছিলেন আমাদের আসলাফ

আতাউল কারীম মাকসুদ ।।

যদি জানতে চান আমার কাছে, বাংলাদেশের প্রথম সারির একজন বুজুর্গের নাম বলুন?
আমি বলব, মাওলানা মুহাম্মাদ বিন ইদরিস লক্ষিপুরি দামাত বারাকাতুহুম। (আল্লাহু আ’লামু)
অনেক দেখেছি কিন্তু এই মানুষটির কোনো তুলনা খুঁজে পাইনি। আমাদের এলাকার সবাই একমত, এই মানুষটির সকল দুআ কবুল হয়। এজন্য তাঁকে মুসতাজাবুদ্দাওয়া বলা হয়।

কাছে গিয়ে সামান্য সময় বসে আসুন, কিছু বলা লাগবে না, পরশ পাথর কাকে বলে? আল্লাহওয়ালা কাকে বলে? খুব ভালো করে বুঝতে পারবেন। আমাদের অঙ্গনে নমুনায়ে আসলাফ বলে একটা কথা আছে। পূর্বসূরীদের সাচ্চা জা-নাশিনকে এই উপাধি প্রদান করা হয়। ৩০ বছর বয়স তো হয়ে গেল। তাঁকে পেয়েছি অনেক বড় একজন নমুনায়ে আসলাফ হিসাবে।

তাঁর ব্যক্তিত্ব ও অবদান বিষয়ে কথা না হয় অন্য সময় বলা যাবে। একটা কথা আজকে শুনে যান। বয়স হয়ত ৯০ এর কোটায়। দু বছর আগে একবার গিয়েছিলাম তাঁর বরকতময় সংস্পর্শে। গিয়ে দেখি, বৃদ্ধ এই মানুষটি ইবনে সাদ রাহ. লিখিত আত তাবাকাতুল কুবরা মুতালাআ করছেন। আবারও বলছি কিতাবের নাম, আত তাবাকাতুল কুবরা। ইলমে রিজালের সর্বপ্রাচীন কিতাব এটি। লেখক ২২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এই বৃদ্ধ বয়সে এই ফনের একটা কিতাব মুতালাআ করা সহজ কথা নয়। ইলমের প্রতি প্রবল আকর্ষণ, কিতাব মুতালাআর প্রচন্ড ভালোবাসা ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়। কল্পনার চোখে দেখুন তো, যুবক বয়সে কেমন মুতালাআ করেছেন? মুতালাআকে কীভাবে নিজের সবকিছু বানিয়েছিলেন?

আর আমরা যারা তাঁকে চিনি, তাঁকে ভালোবাসি, তাঁর উত্তরসূরী হওয়ার দাবি করি, তাঁর চেতনার হামিল হওয়ার দাবিদার, আমাদের কী অবস্থা?

আসুন, প্রতিদিন কমেপক্ষে ৫ঘন্টা দরসিয়াতের বহির্ভূত মুতালাআ করি নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য। নইলে চ্যালেঞ্জময় এই যুগে টিকে থাকা সম্ভব হবে না হয়ত।

আসলে এমনই ছিলেন আমাদের আসলাফ। এখনো যারা আছেন, তাঁরা এমনই। আমরা শুধু শুধু …..খালি খালি….

লেখকের ফেইস বুক পাতা থেকে নেয়া, ঈষৎ পরিবর্তিত
পূর্ববর্তি সংবাদসফরনামা: কায়রোর সমাধি, সমাধির পাঠ
পরবর্তি সংবাদমদের বোতল দিয়ে জবি ছাত্রলীগ কর্মীর মাথা ফাটাল আরেক কর্মী