চীন : অভূতপূর্ব উন্নতির পেছনে রয়েছে যে গভীর ক্ষত

মাওয়ের অধীনে কয়েক লাখ মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল।

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

চীনে কমিউনিস্ট পার্টির শাসনের ৭০ বছর পূর্তিতে  গতকাল ১ অক্টোবর নানা অনুষ্ঠান, প্যারেডের মধ্য দিয়ে বিশেষভাবে দিনটি পালন করেছে বেইজিং।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক বিমান ও সাঁজোয়া যানের মহড়াসহ সামরিক বাহিনীর কসরতের আয়োজন করেছিল চীন। মহড়ায় ছিল  ১৫ হাজার সেনা, ১৬০টি ফাইটার জেট, ৫৮০টি ট্যাংকার এবং অন্যান্য এমন কিছু অস্ত্র, যা আগে কখনো জনসমক্ষে দেখানো হয়নি।

Military vehicles carrying DF-41 intercontinental ballistic missiles

যে জায়গায় দাঁড়িয়ে মাও সেতুং গণচীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক সে জায়গায় দাঁড়িয়ে মাওয়ের মতো স্যুট পরে গতকাল চীনা প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং বক্তব্য রাখেন। দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে একমাত্র তিনিই মাও স্যুট পরেছিলেন।

আধুনিক চীনে মাও সে তুংকে নায়ক হিসেবে দেখা হয়৷ কারণ, তিনি চীনকে বিশ্বে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন বলে মনে করেন অনেক চীনা৷ কিন্তু  ষাটের দশকে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় মানুষের হত্যাকারী হিসেবে মাও সে তুংকে দেখে থাকে অনেকে। বলা হয়, চীনের উন্নতি শুরু হয়েছে মাও সে তুংয়ের শাসন অবসানের পর। মাও এর শাসনকালে চীন দরিদ্রই ছিল।

বেইজিং-এর সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক গুও ইউহুয়া চীনের বিরুদ্ধে ইতিহাস ‍বিকৃতির অভিযোগ এনে বিবিসিকে বলেন, “বেশ কয়েকটি প্রজন্ম ধরে মানুষ এমন এক ইতিহাস জেনেছে যা কিনা মিথ্যা, নকল, মহিমান্বিত এবং কোন কোন ক্ষেত্রে হোয়াইট ওয়াশ করা হয়েছে।”

দেশটির ইতিহাস পুনঃঅধ্যয়ন করার ব্যাপারে জোর দেন তিনি। শুধুমাত্র এর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বিশ্বাস করেন যে একটি কুচকাওয়াজ কমিউনিস্ট পার্টিকে গল্পের প্রথমে এবং কেন্দ্রস্থলে রাখে।তবে সেখানে একটি বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয় আর সেটা হল, মাও এর শাসনের পরই চীনের অগ্রগতি শুরু হয়েছিল।

চীনে বাইরে থেকে নতুন যারা আসেন, আকাশচুম্বী অট্টালিকা, হাইটেক মেগাসিটিগুলির চাকচিক্যময় মহাসড়ক আর হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্ক দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। কিন্তু ভেবে দেখেন না, আধুনিক চীন গড়ে ওঠার পেছনের ক্ষত কত গভীর ও বিস্তৃত।

default

মাও-এর কৃষি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনায় যেসব লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছিল চীনের পাঠ্যপুস্তকে তার বিবরণ নেই ।

তার সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলে এক দশক ধরে সহিংসতা আর নিপীড়নের উন্মত্ততায় লক্ষাধিক মানুষের যে মৃত্যু হয়- নেই তাদের কথাও।

মাও সেতুং এর মৃত্যুর পরেও, এক সন্তান নীতি প্রায় ৪০ বছর ধরে জনসংখ্যায় এক বিপর্যয় নিয়ে আসে।

বর্তমানের দুই সন্তান নীতির মাধ্যমেও,  একজন সাধারণ মানুষ তার পছন্দমতো সন্তান নিতে চাইবার অধিকারকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এখনও চীনের একটি পরিবারে কয়টি শিশু থাকতে পারে তা নিয়ন্ত্রণ করে বেইজিং সরকার।

একদলীয় শাসনে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসপ্রাপ্তদের সংখ্যার তালিকা তাই অনেক দীর্ঘ।

রয়েছে ধর্মীয় দমন, স্থানীয় সরকারের ভূমি দখল ও দুর্নীতির চিত্র।

শিশু

দেশটির শিল্প সাফল্যের যারা মেরুদণ্ড- সেই লক্ষ লক্ষ অভিবাসীরা বহুদিন বঞ্চিত ছিল নাগরিক সুবিধা থেকে।

সাম্প্রতিক সময়ে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং-এর প্রায় দেড় মিলিয়ন মুসলিম- ইউঘুর, কাজাখ এবং অন্যান্যদের ভিন্ন বিশ্বাস ও জাতিসত্তার জন্যে বন্দীশিবিরে রাখা হয়েছে।

মৃত, কারাগারে বন্দী ও প্রান্তিক মানুষের গল্প, সাফল্যের কাহিনীর তুলনায় অনেক বেশিই গোপন থাকে।

সূত্র: বিবিসি

 

 

পূর্ববর্তি সংবাদবিশ্বকাঁপানো হত্যাকাণ্ড : খাসোগির মরদেহ কাটার সময় গান শুনছিল প্যাথলজিস্ট
পরবর্তি সংবাদএবার চট্টগ্রাম মেডিকেলের বালিশের দাম ২৭ হাজার, কভারের দাম ২৮ হাজার !