ভোলায় আহলে হাদিস মসজিদ নিয়ে উত্তেজনা, মামলা, গ্রেফতার..

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ভোলায় আহলে হাদিসের কেন্দ্রে হামলার অভিযোগে দায়েরকৃত একটি মামলায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পূর্বে দায়ের করা মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিতে আদালতে উপস্থিত হলে তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ ২ অক্টোবর ভোলা জেলা ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।

প্রসঙ্গত কথিত আহলে হাদিস অনুসারীরা ২০১৬ সালে ভোলার সদর থানার বাপ্তা ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় পৃথক একটি নামাযখানা নির্মাণ করে। ঠিক ৫০ হাত দূরত্বে একটি জামে মসজিদ থাকলেও আলাদা নামাযখানা নির্মাণ করে হাদিসের অনুসরণের নামে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগে ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং উত্তেজনা চরমে পৌঁছে।

ভোলা জেলা ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে কমিটির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ নিবার্হী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গৃহীত না হওয়ায় উত্তেজিত জনতা একযোগে হামলা করে সে নামাযখানা ভেঙ্গে ফেলে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

জানা যায়, কিছুদিন আগে বিদেশী অর্থায়নে পূর্বের নামাযখানার জায়গায় পাঁচতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা করছে আহলে হাদিসরা। এসময়  বিভেদের আশঙ্কায় তাদেরকে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়। দাবিতে বলা হয় এত কাছে একটি মসজিদ থাকা অবস্থায় মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরীর জন্য আলাদা মসজিদ তৈরি করা যাবে না।

গত সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি। স্মারকে বলা হয়, যদি মসজিদ তৈরি করতেই হয় তাহলে ভোলার জেলা প্রশাসক থাকবেন এই মসজিদের সভাপতি এবং এখানকার ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ দেওয়া হবে ভোলার ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে। যদিও সে দাবি প্রশাসন এবং আহলে হাদিস কেউই গ্রহণ করেনি।

পরবর্তীতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তারা শহরে সংবাদ সম্মেলন করে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এবং ভোলা জেলায় আহলে হাদীসদের যাবতীয় অপতৎপরতা বন্ধের জোর আহ্বান জানায়। অন্যথায় এটাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এমতাবস্থায় চলতি উত্তেজনার মধ্যেই সাড়ে তিন বছর আগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে ভোলা জেলা ইসলামী আন্দোলনের একজন দায়িত্বশীল রয়েছেন। বাকি ১৮ জন স্থানীয় সাধারণ মুসল্লি।

এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে রাস্তায় নেমে আসে সাধারণ তৌহিদী জনতা। শহরের কালিনাথ বাজার মোড়ে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আটক মুসুল্লিদের অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এতে ইসলামী আন্দোলনসহ ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ থেকে বক্তারা প্রশাসনকে এক দিনের আল্টিমেটাম প্রদান করেন।

পূর্ববর্তি সংবাদকাশ্মীরের ১৪৪ বালককে আটকের কথা স্বীকার করল স্থানীয় প্রশাসন
পরবর্তি সংবাদপ্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে তার চিকিৎসার খোঁজ নিলেন ইমরান খান