ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আবরার ফাহাদ। নৃশংস হত্যার শিকার। গতকাল রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে কয়েকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছি। অভিযুক্ত সন্দেহে ছাত্রলীগের চার নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। অনেকেই এখনও পলাতক। সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশের চুক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুক একটি পোস্ট করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে যে স্ট্যাটাসের জেরে আবরারকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সে স্ট্যাটাসটি ফেসবুকে ইতোমধ্যে শেয়ার হয়েছে ৩২ হাজারেরও বেশিবার। ফেসবুক পোস্টটিতে লাইক সংখ্যা দেখা যাচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার। এছাড়াও বিভিন্ন জনকে কপি পোস্টও করতে দেখা গেছে।
আবরার হত্যার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ’র বিরুদ্ধে অনেকে আওয়াজ তুলছেন। হত্যা-পরবর্তী ‘শিবির সন্দেহে’র ধোঁয়া তুলে অপরাধকে বৈধকরণের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও ফেসবুকে প্রচুর লেখা হচ্ছে।
বিশিষ্ট রাজনীতি-বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্যবিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন
“নিশ্চিত থাক, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী ভালবাসার স্ট্যাটাস হবে এটা।
আবরারকে কি তোরা সত্যি খুন করতে পারলি?
সে চিরদিন থাকবে বাংলাদেশে মানুষের দোয়া, প্রার্থনা ভালোবাসায়।
তোরা থাকবি ঘৃনা আর ধিক্কারে!”
আবরারের পোস্টটি ছিল-
১. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশেে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।
২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।
৩.কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।
হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।”
















