ইসলাম টাইমস ডেস্ক : বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী প্রশাসনের ইমেজ বিনষ্টকারী জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীর অবশেষে শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। তদন্ত কমিটি ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। তারা ২৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
এতে বলা হয়েছে- জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিওটি সত্য। জাল বা ফেব্রিকেট নয়। এ ঘটনায় তার নারী সহকর্মী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনাও অভিযুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে বিধিবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনের শেষদিকে ২৫ ও ২৬নং পৃষ্ঠায় ৫টি সুপারিশ করেছে। যাতে বলা হয়েছে,
১) এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী তথা বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই অভিযুক্ত সাবেক ডিসি আহমেদ কবীর ও অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
২) জেলা প্রশাসন সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অনৈতিক বিষয়টির ভিডিও ধারণ ও প্রচারের ফলে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে। তাই এ ঘটনার পেছনে যারা ভূমিকা রেখেছে, বিশেষ করে, চাঁদা দাবি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩) ডিসি পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন। ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী এ পদে কাউকে নিয়োগ দেয়ার পূর্বে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে নৈতিকতার বিষয়টি আরও গভীর, ব্যাপক ও সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
৪) ডিসির সার্বিক কার্যক্রম, জেলা প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে সার্বিক সমন্বয় এবং জেলা প্রশাসনের ইমেজের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিবীক্ষণ করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসনের কাজকর্মসহ জেলায় কর্মরত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আচার-আচরণ আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।
সে ক্ষেত্রে ডিসিদের সার্বিক মূল্যায়নসহ জেলার যাবতীয় হালনাগাদ বিষয় সম্পর্কে বিভাগীয় কমিশনাররা প্রতি ৩ মাস অন্তর একটি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করবেন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
৫) ডিসিসহ মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তা যাতে প্রাধিকার অনুযায়ী অফিস কক্ষ সজ্জাকরণ, আসবাবপত্র সংগ্রহ ও ব্যবহার করতে পারেন সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ ও ২৩ আগস্ট থেকে এ সংক্রান্ত ভিডিওটি ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির প্রধান ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান।
তদন্ত কমিটির সার্বিক মতামত : ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা, সাইবার ফরেনসিক প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত পর্যালোচনান্তে তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালকৃত জামালপুর জেলার সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরের আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ দুটি সঠিক।
অর্থাৎ জালকৃতভাবে (ফেব্রিকেট/কাটপেস্ট) তৈরি করা হয়নি। ভাইরাল হওয়া আপত্তিকর ভিডিও দুটিতে দৃশ্যমান পুরুষ ব্যক্তিটি জামালপুর জেলার সাবেক ডিসি আহমেদ কবীর এবং মহিলাটি তার কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা। ভিডিওটি ধারণের স্থান ডিসির বিশ্রাম কক্ষ।
সার্বিক বিষয় পর্যালোচনায় তদন্ত কমিটির কাছে মনে হয়েছে, ডিসি আহমেদ কবীর ও অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করেছেন, যা অসদাচরণ মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওটি ধারণ ও প্রচারের ব্যাপারে সাধনাসহ ডিসি কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের লোকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
















