নকীব বিন মুজীব ।।
‘সত্যের সঙ্গে সময়’ এ আহবানকে ধারণ করে গত ১০ই অক্টোবর ২০১৮ বুধবার রাত বারোটায় শুভসূচনা হয়েছিল ‘ইসলাম টাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকম’-এর ৷ অবশ্য মাস খানেক আগেই নিজস্ব ফেইসবুক পেইজে এ সময়টার প্রচার করেছিল কর্তৃপক্ষ৷ তখন থেকেই প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিলাম; কখন সূচনা হবে প্রিয় পোর্টালটির!? পেইজগুলো দেখতে কেমন হবে!? প্রথমদিন কী কী লেখা আসবে? কার কার লেখা সূচনার স্বাক্ষী হবে? এমন নানান জল্পনা কল্পনা করতে করতে রাত বারটার অপেক্ষা করছিলাম৷ এখন রাত বারটা বাজার বিশ সেকেন্ড বাকী৷ আমি মোবাইল স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে আছি! বিসমিল্লাহির রাহমানির রহীম শিরোনামে সম্পাদকের সংক্ষিপ্ত লেখাটির মাধ্যমে সূচনা হল ৷ আমি দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে কমেন্ট করলাম৷ অন্যরকম এক অনুভূতি। অন্যরকম এক ভাল লাগা৷ একে একে বিভিন্ন লেখা আপলোড হতে থাকল, পড়তে থাকলাম আর লাইক-কমেন্টে অংশ নিয়েছিলাম৷ তখন থেকে এখন অবধি ইসলাম টাইমসে নিয়মিত চোখ রাখছি ৷
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, বিজ্ঞাপন নীতিমালা, ছবি দেয়া প্রসঙ্গ ও যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রচার না করার সিদ্ধান্তে এখনো অটল আছে ইসলাম টাইমস৷ দু-একটা সংবাদের সাথে আমার সম্পৃক্ততার কারণে বিষয়টি আমি সহজে অনুধাবন করতে পেরেছি ৷ যেমন: গত ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখে আমার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ট্রেন এক্সিডেন্টে শহীদ হন ৷ একটি পোর্টাল এ রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে এভাবে; ‘ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে এক ব্যক্তি নিহত’ ৷ ভেতরের সংবাদটাও তেমন তথ্যপূর্ণ হয়নি ৷ অথচ ইসলাম টাইমসের শিরোনামটা ছিল ‘ট্রেন দুর্ঘটনায় এয়ারপোর্টে হাফেজ হাসানের ইন্তেকাল’ ৷ এখানে চয়নকৃত শিরোনাম ও ভেতরের তথ্যগুলো পড়ে দীনদার যে কোন ব্যক্তি হাসান ভাইয়ের জন্যে রব্বে কারীমের নিকট একটু দুআ করতে আগ্রহী হবেন ৷
শুরু থেকেই লক্ষ্য করেছি ইসলাম টাইমস যে কোন সংবাদ প্রচারে পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে৷ একটা রিপোর্ট কিংবা সংবাদ প্রচারে ইসলাম টাইমসের প্রতিনিধিগণ সংবাদ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নানান জনের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে তারপরই প্রচার করছে ৷ যা ইতিবাচক সাংবাদিকতার জন্য খুবই জরুরি বলে মনে করি৷
প্রায় সময় লক্ষ্য করতাম, বিভিন্ন পোর্টালে কোনো সংবাদ ভাইরাল হওয়ার পর কে কার আগে প্রচার করতে পারবে এমন প্রতিযোগিতায় বিভোর থাকে৷ কিন্তু ইসলাম টাইমস কখনো এক্ষেত্রে ৩/৪ ঘন্টা বিলম্ব করে এই নিউজ করেছে৷ আমি একদিন দুইটা নিউজ মিলিয়ে পড়েছি এবং উপস্থাপনায় যথেষ্ট ফারাক উপলব্ধি করেছি৷অন্য পোর্টাল পড়ে শুধু একটা সংবাদ জানা যেত আর ইসলাম টাইমসের উপস্থাপনায় সংবাদের সূত্রপাত কেন? কারা এর সাথে জড়িত? কী উদ্দেশ্যে ঘটনা ঘটল? নাকি পরিকল্পিতভাবে তা ঘটানো হল!? এমন নানান কারসাজির দিকে ইঙ্গিত থাকত৷ এছাড়াও প্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী কোন প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কোন অবদান, বড় কোন বুযুর্গ আলেম-ওলামার মৃত্যুসংবাদ ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে ইসলাম টাইমস স্বউদ্যোগেই রিপোর্ট করে, সংবাদ প্রচার করে৷এতে আলেম সমাজের অবদান কিছুটা হলেও সহজেই সাধারণ মানুষ জানতে পারে৷
আমার দিলের দোয়া, যে স্বপ্ন ও টার্গেট নিয়ে ইসলাম টাইমসের সূচনা হয়েছে; রব্বে কারীম যেন তাঁর গায়েবী খাযানা থেকে প্রয়োজনীয় সকল ওসায়েল ব্যবস্থা করে দেন ৷ ইসলাম টাইমসের হাত ধরেই যেন বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক সফল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত হয়। ৷
লেখক: শিক্ষক, জামিয়াতুল মাআরিফ আলইসলামিয়া, ঢাকা
















