‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’ নিয়ে বিদিশা ও এরশাদ ট্রাস্টের জটিলতা বাড়ছে

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বারিধারার ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’ নিয়ে সাবেক স্ত্রী বিদিশা ও তারই প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের মধ্যে জটিলতা বেড়ে চলেছে। এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ তার মা বিদিশাকে নিয়ে এই বাড়িতে থাকতে চাইলেও সেই ইচ্ছের পথে বড় বাধা এই ট্রাস্ট। দায়িত্বশীলরা বলছেন, বিদিশা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে না গেলে তারা আদালতে যাবেন। তবে, ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন’ সন্তানের পাশে থাকতে অনড় বিদিশা। প্রয়োজনে তিনিও আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। তেমনই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

এরশাদ ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খালেদ আখতার বলেন, ‘বিদিশা কোনও অবস্থায়ই প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকতে পারেন না। ট্রাস্টের দলিলে পরিষ্কার বলা আছে,  বিদিশা এই সম্পত্তির কোনও কিছুই ভোগদখল করতে পারবেন না। এখন বিদিশা যদি প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকেন, সেটা কি ভোগদখলের পর্যায়ে পড়লো না? এখন তিনি যদি ছেলে এরিক এরশাদের দেখভাল করতে চান, তাহলে ছেলেকে তিনি অন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারেন। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’

বিদিশা  বলেন, ‘ট্রাস্টের কোথাও লেখা নেই এরিক তার সঙ্গে আমাকে রাখতে পারবে না। ট্রাস্টে উল্লেখ আছে, এর অর্থের একটি অংশ পাবে এরিকের ফ্যামেলি। এরিক বিয়ে করেনি, তাই তার পরিবার বলতে কেবল মা আছি। এরিকের বয়স ১৮ বছর হয়ে গেছে। সেই নিজেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে তার বাড়িতে তার মা থাকবে। এখন আমি না থাকতে পারলে কে থাকবে এই বাড়িতে? খালেদ আখতার থাকবেন তার পরিবার নিয়ে?’

প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর থেকে বিদিশা প্রেসিডেন্ট পার্কে ছেলে এরিক এরশাদের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। এরপর ১৮ নভেম্বর বিদিশাকে প্রেসিডেন্ট পার্কে নিজের সঙ্গে রাখতে থানায় জিড়ি করেন এরিক এরশাদ। এরপর গত ২৩ নভেম্বর  প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশার থাকাকে অবৈধ বলে দাবি করে থানায় জিডি করেন মেজর (অব.) খালেদ আখতার।

প্রসঙ্গত, এরশাদ তার মৃত্যুর আগে গত ৭ এপ্রিল ‘এরশাদ ট্রাস্ট’ গঠন করে যান।  ট্রাস্টের সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে, এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসা, গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট, বাংলামোটরের দোকান, রংপুরের কোল্ডস্টোরেজ, পল্লিনিবাস, রংপুরে জাতীয় পার্টির কার্যালয়, ১০ কোটি টাকার ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিটসহ কিছু সম্পত্তি।

গত ২৩ নভেম্বর ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক খালেদ আখতার জানান, এরশাদের ট্রাস্টের সম্পত্তির মূল্য ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান এইচ এম এরশাদ। এরপর থেকে বিদিশা অভিযোগ করে আসছেন, তাকে তার ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন’ ছেলে এরিক এরশাদের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছেন না জিএম কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দুদক ও রাষ্ট্রপতিকে এরিক চিঠি দিয়েছে উল্লেখ করে বিদিশা বলেন, ‘এখন প্রধানমন্ত্রী কী বলেন, সেই অপেক্ষায় আছে এরিক। এরপর সে ট্রাস্ট নিয়ে রিসিভার নিয়োগের জন্য কোর্টে আবেদন করবে। আবেদন মঞ্জুর হলে রিসিভার নিয়োগ দেবেন আদালত। তখন  এরিকের মৃত্যুর পরেও কেউ তার সম্পত্তি ভোগ করতে পারবে না। এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চলে যাবে। গত তিন মাসে ট্রাস্টের টাকা কোনও জনকল্যাণে ব্যবহার করা হয়েছে তার খোঁজ আদালতই নেবেন।’

 

পূর্ববর্তি সংবাদপেঁয়াজ আসে ৩৮ টাকায়, বিক্রি হয় ১৮০ টাকায়
পরবর্তি সংবাদনরওয়ে : যেখানে কুরআন পোড়ানো হয়েছে, সেখানে এবার কুরআন তেলাওয়াত হচ্ছে