থার্টি ফার্স্টে মাদকের অভিষেক! অভিভাবকরা সাবধান!!

শরীফ মুহাম্মদ ।।

থার্টি ফার্স্ট নাইট। ৩১ ডিসেম্বরের  মধ্যরাত। পশ্চিমা সংস্কৃতির জীবন ধসিয়ে দেওয়া অনুসঙ্গ। বাঁধভাঙ্গা মাতোয়ারা বিনোদনের এ মধ্যরাতটি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে গত দেড় যুগ ধরে। বহু শ্লীলতা-বিনাশী অপকর্মের সঙ্গে এ রাতের ভয়ংকর একটি উপসর্গ হলো, লাখো লাখো তরুণ-তরুণীর জীবনে প্রাণ সংহারী মদ ও মাদকের অভিষেক ঘটে যাওয়া।

কৈশোর পেরুনো তারুণ্যে যখন নিষিদ্ধ যে কোনো হাতছানি পিশাচের মতো মায়াবী অবয়ব নিয়ে হাজির হয়, তখন বহু কিশোর-তরুণ সে অবয়বের আয়োজনে ভেসে গেলেও লাজুক সংযমের জীবনটা ধরে রাখে তার চেয়ে বেশি সংখ্যক কিশোর-তরুণ। কখনো ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে, কখনো পারিবারিক শৃঙ্খলা ও দ্বীনী শরাফতের অনুভূতি জাগ্রত হয়ে ওঠায়। কিন্তু কোনো বাধঁভাঙ্গা উদ্দাম বিনোদন-আয়োজনে যখন বখে যাওয়া সঙ্গী বা বন্ধুরা মাদকের একটি ঢোক বা একটি মুহূর্তের ‘উপভোগ” এগিয়ে দেয় তখন ভেসে যায় লাজুক ও নৈতিক সব প্রতিরোধ। মুহূর্তের জন্য  হারিয়ে ফেলে বহু তরুণ নিজের নিয়ন্ত্রণ, খেলাচ্ছলে, দুষ্টুমির প্রবণতায়। এভাবেই একবারের বা এক মুহূর্তের ‘উপভোগ” তাকে ধ্বংসের খাদে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয় আরেক বেলায়।

এ ধরণের একটি আয়োজনই ঘরে-বাইরে তৈরি করে থার্টি ফার্স্ট নাইট। অভিভাবকরা একটু ঢিল দেন, ফূর্তি করার জন্য মধ্যরাতের কয়েকটি ঘন্টা সময় আলগা করে দেন। এই সময়টাতেই ঠোঁটে ‘রঙ্গিন’ পানির স্পর্শ লাগানোর মতো ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটে যায় বহু তরুণ-তরুণীর জীবনে। এরপর আর তাকে সুস্থতার পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয় না। তার ধ্বংসের জন্য নতুন কোনো কসরত ও আয়োজনেরও দরকার হয় না। বাকি জীবনটা তার ভয়ংকরভাবে রঙিন হয়েই যায়। যার সূচনাটা হয় এই থার্টি ফার্স্ট নাইটে। গণমাধ্যমের বহু প্রতিবেদনে এই তেতো সত্যটা বারবার সামনে এসেছে।

সুতরাং শধু একটি রাতের বে-লাগাম ফূর্তিবাজি থামানোর প্রয়োজনেই নয়, জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনেই বছর শেষের এই মধ্যরাতের ব্যাপারে নীতিনিষ্ঠ দায়িত্বশীল সব অভিভাবকের পূর্ণ সচেতনতা জরুরি। যারা ক্ষয় ও অবক্ষয় থেকে নিজের আত্মাজকে বাঁচাতে চান, থার্টি ফার্স্ট নাইটে তারা সেই আত্মজকে নিজের সঙ্গে রাখুন। কিংবা রাখুন নিজেকে তার সঙ্গে। মধ্যরাতের বাঁধবন্ধনহীন বিনোদনের কয়েকটি ঘন্টার অভিশাপে যে ভয়ংকর সর্বনাশের অভিষেক হতে পারে সেখান থেকে তাকে বাঁচান। আর সেই হৃদয়ের ধন আত্মজকে বাঁচালেই তো আপনি বাঁচবেন, বাঁচবে আপনার পরিবার, এবং একইসঙ্গে বাঁচবে এ দেশ ও জাতির আগমী প্রজন্ম।

শুনতে কঠিন লাগবে, প্রিয় অভিভাবক! চলুন আলাদা বিশেষত্বের রাত না হওয়া সত্বেও এ রাতে এবং আগামী প্রহরে এবং বছরজুড়ে সব রাতে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দোয়ার জন্য হাত তুলি আল্লাহর দরবারে। চোখে পানি নিয়ে দোয়া করি বছরজুড়ে, জীবনজুড়ে যেসব গুনাহ করেছি তা থেকে মাফ পাওয়ার জন্য এবং ভবিষ্যতের দিনগুলিতে নেকির জীবনের তাওফিক পাওয়ার জন্য।

আল্লাহ তাআলার কাছে মাফ চাওয়া আর নেকির তাওফিক চাওয়ার চেয়ে উত্তম আয়োজন এবং উত্তম আনন্দ আর কী আছে মুমিনের জীবনে!

পূর্ববর্তি সংবাদসিলেটে বাম জোটের মিছিলে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তদের হামলা, আহত ১২
পরবর্তি সংবাদএকটি বর্ষের আগমন মানে একটি বর্ষের বিদায়