আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী রহ: বর্ণাঢ্য ও সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী মনীষী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী রহ.। বর্তমান বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির আলিমদের একজন। বৃহত্তর সিলেট বিভাগের আলিমকূল শিরোমণি। এক বর্ণাঢ্য ও সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী। দাওয়াত-তাবলিগ, ওয়াজ-নসিহত, সমাজ সংস্কার, শিক্ষকতা, রচনা ও রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে রয়েছে তাঁর সরব পদচারণা। ‘মুহাদ্দিস সাহেব হুযুর’ নামে ছোট-বড় সকলের নিকট পরিচিত তিনি।

হবিগঞ্জ শহরের অদূরে কাটাখালী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৩৫৯হি. মোতাবেক ১৯৩৮ই. তিনি জন্মলাভ করেন। তাঁর পিতা শাইখ আব্দুন-নূর রহ.ছিলেন বিজ্ঞ আলিম ও সমাজ সংস্কারক। তাঁর নানা আল্লামা আসাদুল্লাহ রহ. বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারির একজন মুজাহিদ ছিলেন। হবিগঞ্জ এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সমাজ সংস্কারকও ছিলেন।

অন্যদের মত তাঁরও পড়াশোনার হাতেখড়ি পিতা-মাতার কাছেই। এরপর তিনি হবিগঞ্জের অদূরে রায়ধর গ্রামের ঐতিহাসিক মাদরাসা ‘জামিয়া সা’দিয়্যায়’ প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনা শেষ করে উপমহাদেশের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া আহলিয়্যা মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় চলে যান।

সেখানে তিনি ফিক্হ, উসূলে ফিক্হ, তাফসীর, উসূলে তাফসীর, হাদীস ও উসূলে হাদীস, মানতেক-ফালসাফাসহ ইসলামের বিভিন্ন শাখার গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেন। এখানে তিনি মুফতী আযম মুফতী ফায়যুল্লাহ রহ. এর বিশেষ সান্নিধ্য লাভে ধন্য হন।

১৯৬০-৬১ইং সনে হাটহাজারী মাদরাসায় দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করে আরও উচ্চ শিক্ষার জন্য পাকিস্তানের জামিয়া আশরাফিয়া লাহোর-এ আরো গভীরভাবে হাদীস অধ্যয়নের জন্য দ্বিতীয়বার দাওরায়ে হাদীস ক্লাসে ভর্তি হন। লাহোরে থাকাকালীন তিনি প্রসিদ্ধ বুযুর্গ ও আল্লাহর ওলী শাইখ আব্দুল ক্বাদের রায়পুরী রহ.- এর ইসলাহী মজলিসে উপস্থিত হতেন। তাঁর খানকায় এক সপ্তাহ অবস্থানও করেছেন। তাঁর জানাযায়ও উপস্থিত হয়েছিলেন

আরও পড়ৃন: আল্লামা হবিগঞ্জীর জানাযা সম্পন্ন, লাখ লাখ মুসল্লির অশ্রুসিক্ত বিদায়   

এরপর তিনি খানপুরে গমন করেন। সেখানে উপমহাদেশের বিখ্যাত তাফসীরবিদ ও হাদীস বিশারদ হাফিযুল হাদীস আব্দুল্লাহ দরখাস্তী (মৃত.১৪১৫হি.) রহ.এর নিকট তাফসীরের বিশেষ পাঠ গ্রহণ করেন।

এরপর ‘জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া করাচী’ মাদরাসায় বিশ্ববিখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা ইউসূফ বিনূরী রহ.-এর নিকট গমন করেন। তাঁর কাছে তিনি হাদীস, তাফসীরসহ বিভিন্ন বিষয়ের দরস গ্রহণ করেন। এখানে তিনি কয়েক মাসের মত ছিলেন।

এরপর তিনি ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ-এ গমন করেন। দেওবন্দ গমনের পথে অনাকাঙ্খিত ভাবে তিনি তাবলীগ জামাতের বড় মুরুব্বী ও দাঈ আল্লামা ইউসূফ ইবনে ইলইয়াস কান্ধলভী রহ. এর সঙ্গ লাভে ধন্য হন। এক সফরেই তাঁর সাথে হযরতের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

হযরতের আবেদনে আল্লামা ইউসূফ কান্ধলভী রহ. হযরতকে সাহারানাপুরে শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রহ.এর সোহবতে পৌঁছিয়ে দেন। এখানে অবস্থানকালীন সময়ে তিনি শাইখের সহীহুল বুখারীর দরসেও উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।

এরপর আল্লামা ইউসূফ কান্ধলভী রহ.-ই হযরতকে দারুল উলূম দেওবন্দে নিয়ে যান। দেওবন্দে তিনি আসআদ মাদানী রহ.-এর মেহমান হয়ে ধন্য হন। এখানে তিনি ঐতিহাসিক ‘মাদানী মনযিলে’ মেহমান হিসাবে অবস্থান করেন।

আল্লাহর কুদরতের কী কারিশমা! মাত্র একটি সফরে তিনি পৃথিবী বিখ্যাত কয়েকজন মনীষীর সান্নিধ্য পেয়ে গেলেন। সবই তাকদিরের ফায়সালা। আল্লাহ পাক যাকে বড় করতে চান তাকে এভাবেই পর্দার আড়াল থেকে গড়ে তুলেন তিলে তিলে। একসময় তা ফুল হয়ে সুবাস ছড়ায় পৃথিবীর বুকে।

আরও পড়ুন: স্মৃতিচারণে আমার দেখা মনীষীরা : শায়খুল হাদিস আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী রহ.

দারুল উলূম দেওবন্দে তখন পাকিস্তানী কোন ছাত্র ভর্তি হওয়ার নিয়ম ছিল না। এদিকে ভর্তির সময়ও শেষ। এই দুই কারণে তিনি ভর্তি না হয়ে তৎকালীন মুহতামিম ক্বারী তৈয়ব ছাহেব রহ.এর অনুমতিতে খুসূসী দরস গ্রহণ করেন। জামে তিরমিযী পড়েন শাইখ ইবরাহীম বলিয়াভী রহ.এর নিকট। তাফসীরে বায়যাবী পড়েন আল্লামা ফখরুল হাসান মুরাদাবাদী রহ.এর নিকট। তখন ক্বারী তৈয়ব ছাহেব রহ.এর হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার-দরসেও উপস্থিত হয়েছেন। এভাবে ‘খুসূসী দরস’ শেষ করে বার্ষিক পরীক্ষার আগেই ১৯৬৩ সনে দেশে ফিরে আসেন।

পাকিস্তান ও ভারতে পড়ালেখা শেষ করে দেশে ফিরে প্রথমে কুমিল্লার দারুল উলূম বরুড়া মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। ৬৪-৬৬ ঈ. মোট তিন বছর এ মাদরাসায় হাদীস, তাফসীর ও ফুনূনাতের বিভিন্ন কিতাবের দরস দানের সুযোগ হয় তাঁর।এরপর বড়দের নির্দেশ অনুযায়ী ৬৬ ঈ. সনের শেষে ময়মনসিংহের আশরাফুল উলূম বালিয়া মাদরাসায় যান এবং ৬৯ ঈ. সন পর্যন্ত মোট তিন বছর বালিয়া মাদরাসায় ছিলেন। ১৯৬৯-৭১ ঈ. ১৬ ডিসেম্বরের পূর্ব পর্যন্ত ময়মনসিংহ জামেয়া ইসলামিয়ায় তিন বছর দরসে হাদীসের খেদমত করেন।

এরপর ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরে এলাকাবাসী ও মুরুব্বীদের অনুরোধে হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আরাবিয়া উমেদনগর মাদরাসায় যোগদান করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ মাদরাসাতেই মুহতামিম ও শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করেন।

বাইতুল্লাহর যিয়ারত : আল্লাহর রহমতে হযরতের বহুবার হজ্জ ও উমরা করার সুযোগ হয়েছে। সর্বপ্রথম ৭৫ সালের শেষ দিকে বাইতুল্লাহর যিয়ারতের জন্য রওয়ানা হন। হজ্ব হয়েছিল ৭৬ এর শুরুতে।

হযরত বাল্যকাল থেকেই প্রখর মেধার অধিকারী। তাই সহজেই উস্তাযগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হতেন। ছোটবেলায় হযরতের কুরআনুল কারীম হিফয করার সুযোগ হয়নি। হাটহাজারী মাদরাসায় যখন তিনি সহীহ বুখারী পড়েন। তখন তাঁর শাইখ ও মুরশিদ মুফতী আযম মাওলানা ফায়যুল্লাহ রহ. হযরতকে কুরআনুল কারীম হিফয করার প্রতি উৎসাহিত করেন। কিন্তু পড়াশোনার ব্যস্ততায় তখন তা হয়ে উঠেনি।

আরও পড়ুন: আল্লামা হবিগঞ্জী-র ইন্তেকালে আলেমদের শোকপ্রকাশ

এরপর যখন লাহোরে জামিয়া আশরাফিয়ায় গমন করেন, তখন কুরআন হিফযের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। এ মর্মে তিনি তাঁর হজ্বযাত্রী শাইখ রসূল খান ছাহেবকে লিখিতভাবে দুআর আবেদন করেন। শাইখ রসূল খান ছাহেব হযরতের জন্য কুরআন হিফযের দোআ করেন। এর বরকতেই তিনি নিজে নিজে মাত্র ছয় মাসে দাওরায়ে হাদীসের পড়াশোনার ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও পুরো কুরআনের হিফয সম্পন্ন করেন।

এছাড়া হযরতের উক্ত গুণের অন্যতম সাক্ষী প্রকাশিতব্য ‘মনীষীদের স্মৃতিচারণ’। তাতে তিনি তাঁর উস্তায ও সমসাময়িক মাশায়েখদের স্মৃতিচারণ করেছেন। হযরতের বয়স এখন প্রায় আশি। আজ থেকে ৫০ বছরের আগের স্মৃতি এখনও আয়নার মত মনে আছে। স্থান, কাল, সময়, তারিখ ও শাইখদের বক্তব্য হুবহু উর্দূতে এখনও মনে আছে।

শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ছোট-বড় সকলের কথাই তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। কাউকে নিরাশ করতেন না। মানুষ যেকোন সমস্যা বা পরামর্শের জন্য আসলে উদার মনে তার সাথে কথা বলতেন। সময় দিতেন। জ্ঞান ও গুণে এত বড় হওয়া সত্ত্বেও কোন ধরনের অহমিকা বা অহংকারমূলক আচরণ থেকে মুক্ত ছিলেন তিনি।

হযরতের এলাকার জনৈক লোক এক যামানায় হযরতকে অনেক কষ্ট দিয়েছিলেন। কিন্তু হযরত যখন তাঁর প্রকাশিতব্য স্মৃতিচারণে ঐ লোকের আলোচনা করেছেন তখন তাঁর কেবল ভাল দিকগুলো তুলে ধরেছেন। ঐ আলোচনা থেকে কোনভাবেই এটি বুঝার উপায় নেই যে, এক যামানায় তিনি ঐ আলিম থেকে কষ্ট পেয়েছিলেন। এমন উদার মননশীলতার এখন বড় অভাব।

প্রতিদিনের কাজ যথাসময়ে যথানিয়মে করা এটি হযরতের জীবনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। হযরতের সাধারণ আদত ছিল, ফজরের নামায জামেয়া আরাবিয়া উমেদনগরে পড়া বা ফজরের পরই মাদরাসায় চলে আসা। (মাদরাসা থেকে হযরতের বাসায় হেঁটে আসলে প্রায় দশ মিনিটের দূরত্বে) সেই শীতের সময়ও হযরত ভোর বেলা মাদরাসায় হাযির হয়ে যেতেন।

আল্লাহ তা’আলা হযরতকে যেমন মেধা ও জ্ঞান দিয়েছেন, তেমনি সেই জ্ঞান বিতরণের জন্য চিত্তাকর্ষক বয়ানের যোগ্যতাও দান করেছেন। হযরতের বয়ান ও ওয়াজ শুনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চলে আসতো। হযরতের কুরআন তেলাওয়াত এত সুন্দর ও মুগ্ধকর, যা খুব সহজেই আকৃষ্ট করে। বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী নয়; সরাসরি কুরআন-হাদীসের আলোকে ওয়াজ করতেন তিনি। সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো এতটা দরদমাখা ভাষা ও যুক্তিসহ পেশ করতেন যে, মানুষ সহজেই অভিভূত হয়ে যেতো।

৬৩ সন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সহীহ বুখারীসহ বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থের পাঠ দিয়ে এসেছেন। এ কারণে তিনি ‘মুহাদ্দিস সাহেব হুয়ুর’ নামেও পরিচিত। তাঁর অধ্যাপনার নীতি ছিল, এক প্রতিষ্ঠানে থেকে অধ্যাপনা করা। খুব বেশি প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার দায়িত্ব না নেয়া। কারণ, এতে কোন প্রতিষ্ঠানই পূর্ণরূপে উপকৃত হতে পারে না। তাই তিনি- একই ব্যক্তি বহু মাদরাসায় শাইখুল হাদীস হওয়াকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করতেন।

হযরতের দরসের বৈশিষ্ট্য : হযরতের আলোচনা অত্যন্ত সাজানো গুছানো ও পরিপাটি হতো। কঠিন থেকে কঠিন বিষয়কেও তিনি বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে সহজ করে ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর তুলনা তিনি নিজেই ছিলেন। ক্লাসের দুর্বল ছাত্রদেরও তাঁর দরস বুঝতে বেগ পেতে হতো না। শেষ বয়সেও তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকরীর ও আলোচনা করেছেন। চেহারায় কোনরূপ ক্লান্তির ছাপ দেখা যেতো না।

হযরতের দরসের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল, নিয়মিত দরস করা। দেখা গেছে, কাল ফ্লাইট হবে। কিন্তু ঐ দিন ফজরের পর দরসগাহে এসে তিনি হাযির হতে। অথবা রাতে বিদেশ থেকে ফিরেছেন। পরদিন ফজরের পর দরসগাহে হাযির। এমনও হয়েছে যে, বিদেশ থেকে ফিরে প্রথমেই মাদরাসায় এসেছেন। দরস করে এরপর বাসায় গেছেন। অথচ সফরে লাগাতার দুই রাত নির্ঘুম কাটিয়ে এসেছেন।

গভীর রাত পর্যন্ত মাহফিল করেছেন। ওয়ায করেছেন। ঠিকমত ঘুম হয়নি। কিন্তু পরদিন ঠিকই ফজরের পরপরই দরসদানের জন্য হাযির। চেহারায় কোন ক্লান্তির ছাপ নেই। হযরত আরো অগণিত গুণের অধিকারী ছিলেন।

হযরত হবিগঞ্জী সাহেব জীবনের দীর্ঘ সময় বিভিন্ন মনীষীদের সান্নিধ্য থেকে আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্রতী হয়েছিলেন। সর্ব প্রথম তিনি মুফতী আযম শাইখ ফায়যুল্লাহ রহ. এর নিকট বায়আত হয়েছিলেন। হযরতের ইন্তেকালের পর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বৃহত্তর রেঙ্গা এলাকার প্রখ্যাত বুযুুর্গ, খলিফায়ে মাদানী আল্লামা বদরুল আলম শায়খে রেঙ্গা রহ. এর নিকট বায়আত হন।

আল্লামা হবিগঞ্জী শুরু থেকেই ইসলামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের তিনি সহ-সভাপতি ছিলেন। হবিগঞ্জ ও দেশে ইসলাম বিরোধী কিছু হলে তিনি জমিয়তের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানাতেন। মিছিল, মিটিং করতেন। রাজপথে জনগণের সাথে নেমে একাত্মতা ঘোষণা করতেন। শষ বয়সেও যেকোন ইসলামী ইস্যুতে রাজপথে হুইল চেয়ারে বসে প্রতিবাদ করতেন।

পূর্ববর্তি সংবাদমানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, মোহাম্মদ আলীকে পদ থেকে অপসারণ
পরবর্তি সংবাদইভিএম ‘ভোটাধিকার হত্যার নিঃশব্দ প্রকল্প’ : ফখরুল