করোনা সঙ্কটে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে যা বললেন ডা. আবদুল বারী

ওলিউর রহমান ।।

মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রাণহানী হয়েছে ৫ জনের। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ জন। করোনা সন্দেহে বিভিন্ন জায়গায় হোম কোয়ারান্টাইনে আছে অসংখ্য মানুষ।

করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ এড়াতে এরই মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি সকল অফিস বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকল প্রকার গণ পরিবহন, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা করে দেওয়া হয়েছে পুরোপুরি লক ডাউন। ফলে করোনা পরিস্থিতিতে দেশে তৈরি হয়েছে নানামুখী সঙ্কট।

তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হল চিকিৎসার সঙ্কট। করোনা ছাড়াও বর্তমানে অন্য স্বাভাবিক রোগের চিকিৎসাও দূরহ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও হাসপাতালে ডাক্তাররা রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছে। সর্দি,কাশি জনিত সাধারণ অসুস্থতাকেও করোনা মনে করা হচ্ছে। এছাড়া কোয়ারান্টাইন ভীতির কারণে অনেকে আবার নিজের অসুস্থতার কথা গোপন রাখছে। এছাড়া দেশে করোনা শনাক্তকরণের পর্যাপ্ত মেডিক্যাল ইকুয়েপমেন্ট না থাকায় এবং শনাক্তকরণ পদ্ধতি জটিল হওয়ায় করোনা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়, অনিশ্চয়ত। ফলে করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা বিষয়ে দেখা দিয়েছে চরম সঙ্কট।

করোনায় চিকিৎসা বিষয়ক সঙ্কট এবং উত্তরণে করণীয় প্রসঙ্গে কথা হয় বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সিবিএমসির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. আবদুল বারির সঙ্গে।

ডা. আবদুল বারি বলেন, শীতের পরবর্তী মুহূর্ত হিসেবে এই সময়টাতে এমনিতেই মানুষের সর্দি,জ্বর হয়ে থাকে। তবে কোনটা করোনা এবং ঋতু পরিবর্তনের জ্বর তা নির্ণয় করতে না পারার কারণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে সাধারণ ঠাণ্ডার কারণেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠছে।

আর জনগণের মাঝে প্রকৃত সচেতনতা এবং
করোনা বিষয়ক পরিস্কার ধারনা তৈরি না হওয়ায় কোয়ারান্টাইন, আইসোলশন নিয়ে তাদের মাঝে ভীতি তৈরি হয়েছে। ফলে জ্বর হলেই তা গোপনের চেষ্টা করছে অনেকে। এটা ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

ডা. আবদুল বারি প্রবাস ফেরত কারো সংস্পর্শে যাওয়া ছাড়াই জ্বর আসলে আতঙ্কিত না হয়ে এটাকে স্বাভাবিক জ্বর মনে করা যেতে পারে।
তবে এই সঙ্কটময় মুহূর্তে যেভাবেই জ্বর হোক সবারই বাড়িতে পৃথক স্থানে থাকা, পরিবারের অন্য সদস্যের নিরাপত্তার জন্যই তাদের থেকে কিছুটা দূরত্ব অবলম্বন করা, প্রচুর পানি পান করা এবং লেবুসহ অন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।

লকডাউন এবং পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার কারণে যাতায়াত বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগের চিকিৎসার অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ডা. আবদুল বারি বলেন, এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে অনেক ডাক্তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রোগীর জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমি নিজেও এই সেবাটা করছি। অনেক মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যোগাযোগ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসা বিষয়ক তাদের নানা অভিযোগ শুনে আন্দায করতে পারছি সঙ্কটটা কত গভীর।

ডা. আবদুল বারি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে এ জাতীয় মুহূর্ত টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের চিকিৎসা এত উন্নত হয়নি। তাই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জরুরী সেবা প্রদান করা যেতে প্রদান করা যেতে পারে। কোনো ডাক্তার চাইলে অনলাইনেও রোগীর জরুরী সেবা নিশ্চিত করতে পারেন।

বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা প্রদানে অনীহা প্রসঙ্গে ডা. আবদুল বারী বলেন, করোনা তো আসলে ডাক্তার, রোগী বিবেচনা করে না। রোগীর যেমন চিকিৎসা দরকার ডাক্তারেরও তেমনি নিরাপত্তা দরকার। নিজেদের নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়েই ডাক্তাররা প্রাথমিক পর্যায়ে অনীহা প্রকাশ করেছিল। ডাক্তারদেরকে প্রটেকশন ইকুয়েপমেন্ট সরবরাহ করলে জাতির এমন চরম সঙ্কটে তারা অবশ্যই জরুরী ভূমিকা পালন করবে।

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনা: ইটালির পর স্পেনেও ৪ হাজার ছাড়াল মৃতের সংখ্যা
পরবর্তি সংবাদঅমূলক ভীতি ও অস্থিরতার নাম সতর্কতা নয় বরং তা বাড়াবাড়ি : সতর্কতা কাম্য বাড়াবাড়ি পরিত্যাজ্য