ওমর দামির।।
পাল্টে যাচ্ছে আমাদের পৃথিবীটা! দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনে এক রকম স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততা, ঘড়ির কাটার সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা মানুষগুলোর ছুটোছুটি, কোলাহল সব থেমে গেছে।কিছুদিন আগেও এ শহরে সকালে ঘুম ভাঙ্গা মানে ছিল ‘লাফিয়ে বাস ধরার’ প্রস্তুতি নেওয়া। যানজট, তীব্র বায়ূদূষণ আর শব্দদূষণ ছিল এর নিত্যদিনের চিত্র। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে গাড়ির ‘প্যাপু’ থেমে থেমে রিক্সার ক্রিং ক্রিং শব্দ, বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠছিল এক প্রজন্ম।
বিষাক্ত বাতাস, তীব্র যানজট, শব্দ দূষণের মাঝেও হাসিখুশি উচ্ছল ছিল শহরগুলো। কিন্তু হঠাত লকডাউনে পাল্টে গেছে শহরের চিরচেনা রূপ। চারদিকে নেমেছে সুনসান নিরবতা। স্বজন হারানোর যন্ত্রণা, ক্ষণে ক্ষণে নিজের জীবনের আশঙ্কা ভাবিয়ে তুলেছে আমাদের।
এতোসব দুখের মাঝেও আশ্বাসের বাণী শোনাতে চাইছেন পরিবেশবিদরা, তারা বলছেন হু হু করে কমছে বায়ুদূষণের মাত্রা!
চীন, ইতালী বা ব্রিটেনের আকাশে অবিশ্বাস্য গতিতে কমছে নাট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড আর কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা! পরিবেশবিদদের হতবাক করে নিউইয়র্কের আকাশে দূষণের মাত্রা কমেছে ৫০%য়েরও বেশী! স্রেফ উপগ্রহ ছবিতে নয়, ঘরবন্দী ইউরোপের মানুষ খালি চোখেও দেখতে পাচ্ছে ঝকঝকে নির্মল আকাশ! স্মরণকালের মধ্যে যা কখনো দেখেনি তারা!
দল বেঁধে ফিরে আসছে পরিযায়ী পাখির দল। দূরে সরে যাওয়া নিরীহ ডলফিনের ঝাঁক ফিরে আসছে মানুষের কাছে! রাশ পড়েছে বিশ্ব ঊষ্ণায়নের হারেও।
করোনা ভাইরাসের কারণে পাল্টে যাচ্ছে পৃথিবীর রূপ। পাল্টে যাচ্ছে আমাদের মানসিকতা, আমাদের জীবনযাত্রা। অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসের সুতোয় নিজেকে আবদ্ধ করতে মরিয়া। সীমান্ত মুছে গিয়ে গোটা পৃথিবী দাঁড়িয়েছে এক আকাশের নীচে, অজানা অচেনা বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরের সহযোগী হয়ে কাজ করতে চাইছে পৃথিবী।
সময়ের স্রোত শেষে স্বাভাবিক হবে একদিন পৃথিবী! ঘরবন্দী হয়ে যাওয়া মানুষ প্রাথমিক ধাক্কাটুকু সামলে হাত বাড়িয়ে দেবে প্রতিবেশীর দিকে। চারপাশের পরিবেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার আগে ভাববে আত্মীয়, বন্ধু, পড়শীদের কথা।
করোনা স্রেফ এই এক-দু’মাসের গল্প নয়। একটা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে বাজারে আসতে সময় নেবে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ মাস। এরমধ্যে পৃথিবীর অন্ততঃ দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ আক্রান্ত হবে দফায় দফায় যতদিন ভ্যাকসিন না আসবে।
বিজ্ঞানীদের মতে আগামী একবছরে করোনা-বিপর্যস্ত মানুষ, দফায় দফায় ঘরবন্দী থাকা মানুষের কারণে পৃথিবীর দূষণ কমে যাবে প্রায় ৪৫%! পরিবেশ ফিরে যাবে ৫০০ বছর আগে, বিশুদ্ধতার নিরিখে। মাস’ছয়েকের মধ্যে কমতে থাকবে হিমবাহের গলন, বন্ধ হয়ে যাবে বছরখানেকের মধ্যে। কমবে ক্যানসার, কিডনী, শ্বাসযন্ত্র ও অন্যান্য দূষণজনিত রোগ।
মহামারী পরবর্তী পৃথিবীতে নতুনভাবে নামবে মানুষ, ভাঙাচোরা অর্থনীতি, থমকে যাওয়া শিল্প, আমূল বদলে যাওয়া জীবনকে নতুন করে বাঁধতে। ধূলো-ধোঁয়া-অন্ধকার পেরিয়ে সেই নতুন পৃথিবীর আশ্বাস শোনাতে চাইছেন পরিবেশবিদরা! কিন্তু প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়া, শোকে মুহ্যমান এ পৃথিবী কি প্রাণ খুলে হাসতে পারবে নতুন সে পৃথিবীতে!
















