করোনায় মৃত্যু: গোসল, জানাযা, দাফনে যে পন্থা গ্রহণ করা যায়

তারিক মুজিব ।।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের গোসল, কাফন, দাফন এবং জানাযা নিয়ে দেশের জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে নানা প্রস্তাবনা করতে দেখা গেছে। যেগুলো ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত নয়। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে করোনায় মৃতদের লাশ পুড়িয়ে ফেলারও প্রস্তাব করা হয়েছিল।

দেশের অভিজ্ঞ ডাক্তাররা অবশ্য প্রাথমিকভাবে ধর্মীয় সেনসেটিভ ইস্যুকে আলেমদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে বিশ্লেষণ, গবেষণা করে দেখা গেছে সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ই মৃত ব্যক্তির কাফন দাফন করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টেও এমনই বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট আলেম ডাক্তার মসিহুল্লাহ জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন ফলো করেই ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী করোনায় মৃতদের দাফন কাফনে কোনো ভাইরাস ছড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

সিএমসির সহকারি অধ্যাপক ডা শাকিল আহমদের বরাতে ডা. মসিহুল্লাহ বলেন, করোনা ছড়ায় মানুষের শ্বাস কাশ আর তার সিক্রেশন থেকে। কাফনে জড়ানো মৃতব্যক্তি শ্বাসও নেয় না, তার সিক্রেশনও কোথাও থাকে না। দাফন করে দিলে মৃত ব্যক্তির শরীরের সব ভাইরাসও মরে যাবে। তাই লাশ দাফন শতভাগ নিরাপদ।

তবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের গোসল দেওয়াতে সামান্য ঝুঁকি আছে বলে জানান ডা. মসিহুল্লাহ। অবশ্য জীবিত শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংস্পর্শের তুলনায় সে ঝুঁকি নেহায়েতই কম বলে জানান তিনি। কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তি শ্বাস নেয় না তাই সে বাতাসে জীবানু ছড়ায় না। কেবল মৃত্যুর পর যদি তার নাক থেকে সিক্রেশন বের হতে থাকে বা গায়ে তা লেগে থাকে তাহলে তা ইনফেকটিভ।

করোনায় মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার সময় গ্রহণীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে ডা. মসিহুল্লাহ বলেন, গোসল দেওয়ার সময় গ্লাভস সহ ফুল পিপিই পড়ে সাবান দিয়ে ডলে গোসল করালে আর প্রয়োজনে নাকে তুলো দিয়ে দিলে আর কোন ঝুঁকি থাকে না। তখন মৃত ব্যক্তিকে যেকোনো জায়গায়ই দাফন করা যায়। অবশ্য গোসল শেষে পুরো জায়গা ব্লিচিং সল্যুশন দিয়ে ধুয়ে ফেলা এবং যিনি গোসল করাবেন তাকে সাবান দিয়ে ভালভাবে গোসল করে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ডা. মসিহুল্লাহ উদাহরণ দিয়ে বলেন, করোনা মৃতদের গোসল দেওয়ার চেয়েও হাজার গুন অনিরাপদ হচ্ছে রোগীর ওরো ফ্যারিঞ্জিয়াল আর নেসোফ্যাঞ্জিয়াল সোয়াব সংগ্রহ, সিভিয়ার নিউমোনিয়ার রুগীকে ইন্ট্যুবেট করা, সাকশান দেওয়া বা ব্রংকিয়াল টয়লেটিং করা যা পৃথিবীর বহু চিকিৎসক হরহামেশাই ঝুঁকি নিয়ে করে যাচ্ছেন।

অবশ্য ডা. মসিহুল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, জীবিত অবস্থায় যারা রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের মধ্যে কেউ আগেই করোনায় সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে তাই তারা কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন এবং লাশ দাফন কাফনে কোন ভাবেই জড়াবেন না। অন্যদের লাশ দাফনে কোন সমস্যা নেই।

পূর্ববর্তি সংবাদভারতের উত্তর প্রদেশে হিন্দু প্রতিবেশির সৎকার করলেন মুসলিমরা, বন্ধু-স্বজন কেউই এলেন না!
পরবর্তি সংবাদজাতিসংঘ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আমাদের প্রশংসা করেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী