মুহাম্মদ ইলিয়াস খান।।
৬ এপ্রিল ৷ ২০১৩ সাল৷ শাপলা চত্ত্বরে জমায়েত হয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ। ইসলামপ্রেমী জনতা সমবেত হয়েছিলেন মতিঝিলের শাপলায়৷ সাত বছর পার হল। কিন্তু আজো সেই স্মৃতি লালন করি। এই স্মৃতি আমাদের গর্বের। আমাদের চেতনার। আমাদের আদর্শের সংগ্রামের। ঐতিহাসিক লংমার্চ৷ ঈমানী মার্চ৷ আল্লাহর ভালোবাসার পথের দীর্ঘ সফর৷
দাবী ছিল ঈমানের । দেশটাকে সুন্দর করার। কাঁটাগুলোকে দূর করার। হিংসা ও বিদ্বেষের কাঁটা। নাস্তিক্যবাদের বিষাক্ত কাঁটা। ছিল শান্তিপূর্ণ লংমার্চ৷ গোটা বাংলাদেশ এক হয়ে গিয়েছিল। এক শ্লোগানে মুখরিত হয়েছিল দেশ। যেন গোটা দেশ এক ভাষায় কথা বলেছিল। এক সুরে তাল মিলিয়েছিল। ঈমানের ইস্যুতে এ দেশের তাওহীদী সমাজ এখনো এক।
মাথায় টুপি-পাগড়ি। সাদা ধবধবে সুন্নতি জামা। মুখে জিকির আল্লাহু আকবার। কাফেলা চলছে শাপলার পানে ৷ আওয়ামী-বিএনপির কোন ভাগ ছিল না। কওমী-আলিয়ার কোন ফারাক ছিল না। ধনী-গরিবের কোন বিভেদ ছিল না। ছিল একটাই ভাগ। নাস্তিক, সংশয়বাদী ও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী। বিপরীতে পুরো দেশ। পুরো দেশের আপামর জনতা।
সেদিনের স্মৃতি আজও মনে পড়ে। মিছিলের দিকে তাকিয়ে মনটা বিশাল হয়ে যেত। বুকটা ভরে উঠত। আশার পায়রাগুলো ডানা মেলত। এ দেশ থেকে ইসলামকে দূর করে দেওয়া এতটা সহজ নয় । ঈমানের এই চেতনাগুলো নিঃশেষ করে দেওয়া এতটা সহজ নয়। আমাদের আগামীটা অনেক সুন্দর হতে পারে। যদি আমরা দায়িত্বটা পালন করে যাই।
মাদানীনগর মাদরাসার সামনের রোডে দাঁড়িয়ে ছিলাম সকলের সাথে। নূরানী কাফেলাগুলো আসত। সত্তর পেরুনো বৃদ্ধও ছুটে এসেছেন অর্ধ হাজার মাইল দূর থেকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, আমাদের আগামীটা অনেক সুন্দর হতে পারে । ঈমানী এই জযবাগুলোকে যদি টিকিয়ে রাখতে পারি। দিন দিন পুষ্ট করার চেষ্টা করতে পারি। ঠুক ঠুক করে লাঠিতে ভর করে মাইলের পর মাইল হেঁটে হেঁটে আসছেন সত্তর বছরের বৃদ্ধ। তার এই চেতনাটা টিকিয়ে রাখতে হবে। যেন আজকের পঁচিশের তরুণও সত্তরে গিয়ে এই চেতনাটা লালন করে। যেন আগামীর তরুণও সেদিনের বৃদ্ধের মাঝে খুঁজে পায় এই চেতনা।
















