ছুটির বাধ্যবাধকতা না থাকায় চালু আছে অনেক পোশাক কারখানা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে  আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ছুটি ঘোষণার বাধ্যবাধকতা না থাকায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় কারখানা খোলা রাখার খবর পাওয়া গেছে। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

খবরে বলা হয়েছে,  ছুটি না দিয়ে আগে থেকেই গাজীপুরে প্রায় তিনশ’ কারখানা তাদের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসব কারখানায় কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ সুরক্ষা পাওয়ার সব নিয়মও মেনে চলা হচ্ছে না। ঢাকার সাভারেও বেশকিছু কারখানায় কাজ চলছে।

প্রথম দফার ঘোষণা অনুযায়ী ১০ দিন ছুটি কাটিয়ে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) কাজে যোগ দিতে লাখ লাখ শ্রমিক দূর দূরান্ত হতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গাজীপুরে আসেন। এতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে  দ্বিতীয় দফায় এক সপ্তাহ ছুটি বৃদ্ধি করে বিজিএমইএ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইন্টিলিজেন্স শাখার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইসলাম হোসেন জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানা ছুটি ঘোষণা করে বন্ধ রাখা হয়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার নলজানী এলাকার (জিএমপি হেডকোয়ার্টারের সামনে) কোজিমা গার্মেন্টস, দক্ষিণ সালনার মোল্লাপাড়া এলাকার টিএমএস ফ্যাশন, ডেগেরচালা এলাকার এমাজিন ফ্যাশন, শ্রীপুরের বহেরারচালা এলাকার নান্তাবুর গ্রুপের তাকওয়া গার্মেন্টস, বড়বাড়ি এলাকার পাক স্টার বাংলাদেশ লিমিটেডসহ ২৭৭টি কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে তাদের এসব কারখানা খোলা রেখেছেন।

শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের পাথার পাড় এলাকার ‘ক্রাউন এক্সক্লুসিভ ওয়ার্স লিমিটেড’ (সোয়েটার কারখানা) শ্রমিকদের কোনও রকম স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ছাড়াই জোর করে তাদের কাজে যোগদান করাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার নিটিং জ্যাকার্ড অপারেটর, মেন্ডিং অপারেটর, সুইং অপারেটর ও ক্লিনারসহ অন্যরা জানান, করোনা আতঙ্কের মধ্যেও কর্তৃপক্ষ কারখানা খোলা রেখে শ্রমিকদের জোর করে কাজ করাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, নামমাত্র হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে শ্রমিকদের কোনও ধরনের নিরাপত্তা ছাড়াই কর্তৃপক্ষ কারখানাটি চালু রেখেছেন।

তারা আরও বলেন, করোনার বিষয়ে আরও অধিকতর সতর্কতার কথা বললে কর্তৃপক্ষ চাকরিচ্যুত করে দেয়। চাকরিচ্যুতির ভয়ে শ্রমিকেরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।

কারখানার মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা করোনাভাইরাসের সরকারি নির্দেশনার শতভাগ নিয়ম মেনে কারখানা চালু রেখেছি।’ শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু শ্রমিক কারখানার ভালো চায় না। তাই তারা কারখানার নামে বদনাম রটাচ্ছে। শিপমেন্টর অর্ডার থাকায় আমরা শ্রমিকদের শতভাগ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা দিয়েই কাজ করাচ্ছি। আজ মঙ্গলবার শ্রমিকদের সব বেতনভাতা পরিশোধ করে কারখানা বন্ধ করা হবে।’

 

পূর্ববর্তি সংবাদঈদের ছুটি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ
পরবর্তি সংবাদকরোনা আতঙ্কে পটুয়াখালীতে মাদ্রাসাছাত্রীর লাশ দাফনে আসেনি কোন প্রতিবেশী