ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এখন বোতলজাত পানির দামের চেয়েও দুধের দাম কম। এক লিটার পানির দাম ৩০ টাকা (এখানে আধা লিটারের বোতল ১৫ টাকা) আর খামারিরা দুধ বিক্রি করছেন ২৫ টাকা লিটার। কিন্তু প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ছে ৪৫ টাকার বেশি।
সারা দেশে লকডাউনের কারণে সাটুরিয়ার বাইরে দুধ পাঠানো বন্ধ। তাই দাম পড়ে গেছে। প্রতিদিন ৫০ লিটারের বেশি দুধ হয় এমন একটি খামারের মালিক জানালেন, এখন তাঁর দৈনিক ক্ষতি প্রায় দেড় হাজার টাকা। এই পরিস্থিতিতে এখানকার দুধ উৎপাদনকারীরা বাস্তবিকই চোখে সরষে ফুল দেখছেন।
একদিকে কমছে সরবরাহ, অন্যদিকে বেড়ে চলেছে গরুর খাদ্যের দাম। তার ওপর নেই দুধের দাম। সব মিলিয়ে উপজেলার ডেইরি খামারিরা পড়েছেন বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতির শিকার হয়ে ছোট ছোট খামারি এখন গরুকে অর্ধেক খাবার দিতে বাধ্য হচ্ছেন। খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের চড়া দামের মধ্যে সরবরাহও কমে চলেছে।
করোনাভাইরাসের কারণে অঘোষিত লকডাউনের ফলে গো-খাদ্যবাহী ট্রাক বা অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। গরুর খাদ্যবোঝাই ট্রাক দেখেও আটকে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল না করলে খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
গ্রামের খামারিরা জানান, বিভিন্ন শহরে দুধের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা লিটার হলেও তারা দাম পান অর্ধেকেরও কম। দুধ বিক্রি করে কোনো দিন তারা লাভ করতে পারেন না। বছরশেষে গরুর বাছুরটা যে বিক্রি হয় সেটাই মূলত লাভ। এর মধ্যে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি খামারিদের আরও বিপাকে ফেলেছে। এখন দুধ এলাকাভেদে প্রতি লিটার ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। এদিকে সরকারের নজর দেয়া উচিৎ। গো-খাদ্য পরিবহনের যে ট্রাক সেগুলো আসতে পারলে সংকট কিছুটা কমবে।
ছনকা এলকার ফজলু মিয়া বলেন, সর্বোচ্চ চাই না। ন্যুনতম বেঁচে থাকার সুযোগ চাই। সরকারিভাবেই যদি কিছু দুধ বিক্রির সুযোগ করে দেয়া হয়, কিছু মিষ্টির দোকান পর্যায়ক্রমে খোলা রাখা, গো-খাদ্যের দোকান খোলা রাখার ব্যবস্থা করলে, আমরা বেঁচে থাকতে পারব।
সাটুরিয়ার মো. রমজান আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগে যে ভুষির দাম ৩৫ টাকা কেজি ছিল, সেটা এখন ৪২ টাকা হয়েছে। গাভীর জন্য যে ক্যাটল ফিড ৩৩ টাকা কেজি কিনেছি, সেটা এখন ৪০ টাকা হয়েছে। চালের ভাঙা ক্ষুদ ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা, সেই ক্ষুদের দাম হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি। এমনিতেই দুধের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে, তার ওপর খাদ্যের দাম যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে আমাদের মতো খামারিরা টিকে থাকতে পারবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন বলেন, কাঁচা ঘাস থাকলে গাভীর জন্য ভুষি বা দানাদার খাবারের কোনো প্রয়োজন হয় না। কাঁচা ঘাসেও দুধের ঘনত্ব বাড়ে। এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে লকডাউন। কেউ কোথাও মুভ করতে পারছে না। তারপরও কৃষকদের জন্য কী করা যায়, সে উপায় খোঁজা হচ্ছে।
















