বিধ্বস্ত পৃথিবীতে কবে থামবে মৃত্যুর মিছিল!

তারিক মুজিব ।।

ওয়ার্লড মিটারের তথ্য অনুযায়ী ১ লাখ ৪ হাজার ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ভার্সিটির তথ্য বিবরণীতে মৃতের সংখ্যা দেখাচ্ছে ১ লাখ ৩ হাজার ৮ শত ৭৪ জন। সকাল হতে হতে এ তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরও কয়েক হাজার সংখ্যা।

করোনায় বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। আজ সর্বশেষ অনাহারের নগরী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনেও করোনা শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে।

করোনা সংক্রমণের পর চীনে যখন প্রথম প্রথম একদিনে মৃত্যু সংখ্যা দু’শো তিন শো ছাড়িয়ে গিয়েছিলো আমরা তখন হা হুতাশ করছিলাম। সপ্তাহ দুয়েক পরে দেখা গেলো, ইরানে একদিনে ছয় শো লোকের মৃত্যু হয়েছে। তখনও পুরোপুরি আন্দায করা যায়নি সামনে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

হঠাৎ একদিন দেখা গেলো ইতালিতে একদিনেই ৯৫০ জনের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের তখন মনে হচ্ছিল, এটাই হয়তো কোনো দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর চূড়ান্ত সংখ্যা হবে। বিভিন্ন দেশের মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে খবরের কাগজের প্রেডিকশন সম্বলিত নিউজগুলো আমাদের তখনও অতিরঞ্জিত মনে হতো।

কিন্তু সকল ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে ফ্রান্সে যখন একদিনে চৌদ্দ শো এবং যুক্তরাষ্ট্রে পরপর দুইদিন উনিশ শোর আজ দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হলো; আমাদের বিশ্বাস অবিশ্বাসের কিছুই আর বাকী রইলো না। ভারতে আশি হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে মর্মে পত্রিকায় যেসব খবর প্রচার হয়েছে সেগুলোও এখন আমাদের বিশ্বাস হতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা। আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ সংক্রমণের চতুর্থ স্তরে আছে। সংক্রমণ ছড়ানোর নির্দিষ্ট কোনো স্থান চিহ্নিত করতে না পারায় যে কোনো মুহূর্তে যেকোথাও বিস্ফোরক হয়ে দেখা দিতে পারে করোনা। জানা নেই, কোথায় গিয়ে থামবে এ মৃত্যুর মিছিল। লাশের সারি।

অনেকদিন পর আজ প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টি হচ্ছে। আমি খুব খুব করে কামনা করছি আল্লাহর রহমত বৃষ্টি হয়ে নেমে আসুক যমিনে। আমরা আমাদের একজন আত্মীয়কেও করোনায় হারাতে চাই না। গোটা বাংলাদেশ আমার আত্মীয়। সকল মুসলিম ভাই ভাই। সমগ্র মানবজাতিকে আল্লাহ হেদায়েত দিক।

পূর্ববর্তি সংবাদত্রাণ বিতরণের নামে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লোক জড়ো করলেই ব্যবস্থা: পুলিশ
পরবর্তি সংবাদরাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হঠাৎ ঝড়