যেভাবে কাটতে পারে করোনাকালীন ইতিকাফ

ওমর দামির।।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারীর মাঝেই এসেছে এবার রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। দেখতে দেখতে রমজানের শেষ দশকে পৌঁছে গেছি আমরা। করোনাকালে রমজানের শেষ দশকের বিশেষ আমল ইতিকাফ কিভাবে পালন করতে পারেন দেশের মানুষ, জানতে চাইলে মারকাযুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া ঢাকার শিক্ষক মাওলানা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই দেশের বিশিষ্ট আলেমরা স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কিছু নির্দেশনা মেনে মসজিদে নামাজ আদায়ের কথা বলছিলেন, আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে আমাদের দেশে সেসব নির্দেশনা মেনে মসজিদ খোলা রয়েছে, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সরকার ও আলেমদের নির্দেশনা মেনে ইতিকাফ করা যেতে পারে তার মতে।

ইতিকাফে কারা যেতে পারেন এক্ষেত্রে তিনি বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃদ্ধদের ইতিকাফে না বসাই সঙ্গত হবে। এছাড়া যারা বিদেশ থেকে ফিরেছেন তারা ও তাদের আত্মীয়রা এবং যাদের ঘরে অসুস্থ রোগী রয়েছেন, এবারের রজমানে তারা ইতিকাফে না বসে অন্যান্য আমল বাড়িয়ে দিয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে মহামারী থেকে মুক্তির দোয়া করতে পারেন, বলছিলেন মাওলানা যাকারিয়া আব্দুল্লাহ।

এদিকে করোনার কারণে রমজানের শুরুতে মসজিদে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবার দেখা যায়নি কোথাও রমজানের চিরচেনা উৎসবমুখর পরিবেশ। বাংলাদেশে পরবর্তীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জনসাধারণের জন্য মসজিদ খুলে দেওয়া হলেও তারাবিতে হাফেজদের সুললিত কণ্ঠ শোনে কুরআন খতমের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে সবার। তবে মসজিদে গিয়ে খতম তারাবি পড়তে না পরলেও বাংলার ঘরে ঘরে দেখা মিলেছে ভিন্ন এক দৃশ্যের। ঘরে ঘরে গুঞ্জরিত হয়েছে কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ। পরিবারের সাথে খতম তারাবি পড়ার আনন্দ ও নতুন অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন অনেকে। যাদের ঘরে কুরআন পড়ার মতো মানুষ নেই তারা নিজের সন্তানদের ইলমে দ্বীন শিখাতে আগ্রহী হয়েছেন এই পরিস্থিতি থেকে।

করোনায় শত কষ্টের মাঝেও এযেন ছিল কিছুটা স্বস্তির দিক। করোনার এসময়টাতে মসজিদে ইতিকাফের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা থাকায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের ঘর হতে পারে আমলের জীবন্ত পরিবেশ, অনেক বিশিষ্টজনদের বলতে শোনা গেছে এমন কথা।

আরো পড়ুন: এলাকার পক্ষ থেকে পারিশ্রমিক দিয়ে কাউকে ইতিকাফ করালে কি সহিহ হবে?

পূর্ববর্তি সংবাদনীলফামারীতে সরকারের সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পেলেন ১৮ বন্দি
পরবর্তি সংবাদভারত থেকে দেশে ফিরলেন আরও ৪৮২ বাংলাদেশি