ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দেশের বিদ্যুৎ খাতে একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের বিপুল অপচয়, অনিয়ম চলছে, অন্যদিকে উচ্চমূল্য ও ভৌতিক বিলের কারণে গ্রাহক ভোগান্তিও চরমে গিয়ে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। জমিয়ত নেতা আরো বলেন, জনগণের কাছে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা উপেক্ষিত থাকায় এই খাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দিন দিন বাড়ছেই।
আজ (৫ জুন) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জমিয়ত মহাসচিব এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যমতে দেশে সরকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাইরে বেসরকারীভাবে যে পরিমাণ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, তার ৫৭ ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোন কার্যক্রমই নেই। বিগত অর্থ বছরে এসব অলস বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী সচল কেন্দ্রসমূহে ব্যবহৃত তেল, গ্যাস, কয়লাসহ জ্বালানির মূল্য দিতে হয় পিডিবিকে। আর এই কয়লা, তেল ও এলএনজি আমদানি হয় বেসরকারী খাতের মাধ্যমে। এতেও ব্যবসায়ীরা উচ্চমূল্য আদায় করে পিডিবি থেকে। সারা বছর কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ থাকে। এরপর উৎপাদিত বিদ্যুতের উপর মূল্য ধার্য হয়। ফলে বিদ্যুৎখাতের অযৌক্তিক সকল ব্যয়ভার জনগণের কাঁধেই ওঠছে। এভাবে বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির নামে জাতীয় অর্থনীতি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকায় ব্যবসায়ীদের পকেট ভারি হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে ৫৭ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস থাকা সত্ত্বেও নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেমে নেই। অন্যদিকে রাজধানী ও কয়েকটা মহানগরী বাদে মফস্বলের জেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে সমানে লোড শেডিং চলছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল আশংকাজনকহারে বাড়ছে।
জমিয়ত মহাসচিব বলেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিদ্যুৎখাতকে ব্যবসায়িক বৃত্ত থেকে বের করে আনতে হবে। অন্যথায় বিদ্যুৎ খাতের এই বিপুল ব্যয়ভার জাতীয় অর্থনীতিতেই কেবল বিরূপ প্রভাব ফেলবে না, বরং জনদুর্ভোগ ও শোষণের বিশাল কারণ হয়ে দেখা দেবে।
















