বিবাদ প্রকাশ্যে: আনাস মাদানীর ‘ফোনালাপে’র প্রতিবাদ জানালেন আল্লামা বাবুনগরী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীর একটি ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে তিনি হাটহাজারী মাদরাসার সাবেক সহযোগী পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সাথে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং তিনি ৫-ই মে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচীর সময় জামায়াতের সাথে মিলে হেফাজত কর্মীদের মার খাইয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আনাস মাদানীর এই ফোনালাপের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। এর মধ্য দিয়ে হাটহাজারী মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো।

ফোনালাপের প্রতিবাদে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, মাওলানা আনাস মাদানী কর্তৃক একটি ফোনালাপে আমার বিরুদ্ধে “জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ও ২০১৩ সালের ৫ ই মে শাপলা চত্বরে আমি মানুষকে নিয়ে মার খাইয়েছি” বলে যে কথা বলেছে, তা সম্পূর্ণ নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়।

জামায়াতের সাথে আমার বিন্দুমাত্রও সম্পর্ক নেই। অতীত-বর্তমানে কোন সময়ই জামাতের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল না; বরং পুরো জীবন আমার লেখালেখিতে ও লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল সমাবেশে বয়ান-বক্তৃতার মধ্যে জামায়াতের ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে আমি দেশবাসীকে সচেতন করে আসছি।

তিনি বিবৃতিতে আরও বলেন – জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আমার সম্পর্কে সে যা বলেছে, সেটা তার পরিকল্পিত মিথ্যাচার। তার এহেন মিথ্যাচার আমাকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে আমি মনে করি । এগুলো আমার মানহানি করার অপচেষ্টা।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন – কিছুদিন থেকে আমি লক্ষ্য করছি যে, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি কুচক্রীমহলের ইন্ধনে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং সাজানো কথা রটিয়ে, উস্কানিমূলকভাবে সরকার এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চক্রান্ত করে যাচ্ছে। এসবের নিন্দা ও ধিক্কার জানানোর ভাষা আমার নেই।

মাওলানা আনাস মাদানী ফোনালাপে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনার সম্পূর্ণ দায়ভার আমার ওপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করেছে। সে শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে আমাকে জড়িয়ে এমন ডাহা মিথ্যে কথা বলতে পারবে, তা আমি আশা করিনি। অথচ জেলে গেলাম আমি, রক্ত দিলাম আমি। রিমান্ডে অমানুষিক নির্যাতন ভোগ করলাম আমি। সেই রাতে হেফাজতের সমাবেশে কী হয়েছিল তা সকলেই জানে, কিন্তু মামলার আসামী হলাম আমি।

আমীরে হেফাজতের আনুগত্য করে, লক্ষ লক্ষ নবীপ্রেমিক জনতাকে বিপদের মুখে ঠেলে না দিয়ে আমার জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঝুঁকি নিয়ে শাপলার মঞ্চে অটল থাকাই কি আমার অপরাধ? এমন প্রশ্নও রাখেন বাবুনগরী।

তিনি ৫-ই মে বিষয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন – আমি আমীরে হেফাজতের নির্দেশ মতে লালবাগ থেকে শাপলা চত্বরে গিয়েছি এবং আমীরে হেফাজতের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত শাপলা চত্বরে অবস্থান করেছি। বার বার মিডিয়াকে বলা হয়েছে যে, সেদিন যা হয়েছে আমীরে হেফাজতের নির্দেশেই হয়েছে। সুতরাং এতদিন পর আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর নামান্তর।

তিনি আরও বলেন – সচেতন মহল ভালো করেই জানেন যে, শাপলা চত্বরে আমি মানুষকে মার খাওয়াইনি; বরং সেই রাতে মুহুর্মুহু গুলিবৃষ্টির মধ্যেও আমি নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছি।

তিনি বলেন- ২০১৩ সালে কারা জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে সুবিধা ভোগ করেছে আর আজ সরকারের সাথে আঁতাত করে কওমিদের নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে হেফাজতকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে, তা জাতি ভালো করেই জানেন। সময় মতো তাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

যারা আমার বিরুদ্ধে এসব নির্জলা মিথ্যাচার করে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করতেছে ও ষড়যন্ত্র করে হেফাজতকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করতেছে, তাদের বিচার আমি আল্লাহ তা’আলার দরবারে দিলাম।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ফোনালাপটি আনাস মাদানীর কি না এব্যাপারে এখনো কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি মাওলানা আনাস মাদানী। এছাড়া ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপের বিষয়ে জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়ায়ও এখনো কোন মন্তব্য করেননি মাওলানা আনাস মাদানী।

পূর্ববর্তি সংবাদচিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন অর্থমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের মাথা ফাটালেন বাসচালক