নেতানিয়াহু-গন্টেজ: ফিলিস্তিন দখল প্রশ্নে মিটে যায় দু’জনের সব তিক্ততা

তারিক মুজিব ।।

ইসরায়েলে এক বছরে অনুষ্ঠিত পরপর তিনটি নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দেশটির বিকল্প প্রেসিডেন্ট বেনি গন্টেজ গত ৯ জুন তার ৬১ তম জন্মদিনে উত্তর-পূর্ব ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ঘুরতে বেরিয়রছিলেন। আনন্দ ভ্রমণ প্রাক্কালে বেনি গন্টেজ সেদিন এক ছোট মজলিসে চিরন্তন বাণীর মতো বলেছিলেন, “জ্যাকেব ( ইয়াকুব আলাইহিস সালাম) স্বপ্ন দেখতেন এই সমগ্র ভূ-খণ্ড তার এবং তার বংশধরদের ( দাবি অনুযায়ী ইয়াহুদিরা) অধীনে থাকবে। জ্যাকবের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের প্রধানতম কর্তব্য”।

বেনি গন্টেজ ইসরায়েলে মধ্যপন্থী হিসেবে খ্যাত হুয়াইট এন্ড ব্লু পার্টির প্রধান হিসেবে পরপর তিন নির্বাচনে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দল লিকুদ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। কোনোদল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুই থাকছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এবং গন্টেজ হচ্ছেন বিকল্প প্রধানমন্ত্রী।

এক সময় দেশজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় নেতানিয়াহু এখন দুর্নীতির একাধিক মামলায় আদালতে দৌঁড়াচ্ছেন। পাশাপাশি জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে জোরদারভাবে ইসরায়েলে দখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। সর্বশেষ ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলে সংযুক্তকরণ তার বড় একটি প্রকল্পের অংশ।

যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর বিকল্প প্রেসিডেন্ড ইসরায়েলের মধ্যপন্থী দলের প্রধান বেনি গন্টেজ ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে কেমন মনোভাব পোষণ করেন এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধম আল জাজিরা একটি সবিস্তার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গন্টেজের উপরের বক্তব্যটি সেখান থেকেই নেওয়া।

কুরআনে ইয়াহুদিদেরকে মুসলমানদের প্রতি চরম বিদ্বেষভাবাপন্ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণভাবে সকল ইয়াহুদিই এর অন্তর্ভূক্ত। পাশাপাশি হাদিসে এসেছে, “নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সকল কুফুরি শক্তি একই জাতিভূক্ত”। কুরআন, হাদিসের বিশ্লেষণ এবং গন্টেজের উপরের বক্তব্য থেকে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তার মনোভাব স্পষ্টই বুঝা যায়।

নির্বাচনী প্রচারণায় গন্টেজ নেতানিয়াহুর যুলুম এবং দখলের ব্যাপারে সামান্যও আওয়াজ করেনি। তার পূর্ণ মনোযোগ ছিল লিকুদ পার্টির নেতাদের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরা। আসলে ইসরায়েলের ফিলিস্তিন দখল প্রসঙ্গে সকল ইয়াহুদিরই নিরব বা প্রকাশ্য সমর্থন রয়েছে। গন্টেজও তার বাইরের কেউ নয়। আসলে এই যুলুম এবং দখলের উপরেই ইয়াহুদি জাতির ভবিষ্যত নির্ধারিত।

অভিযোগ আছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির যে চরম আগ্রাসী মনোভাব-হুয়াইট এন্ড ব্লু পার্টি যেন তাদের রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে না পারে- অনেকটা তা নিশ্চিত করার জন্য। বরং বলা হয়ে থাকে, মধ্যপন্থী দাবি করা গন্টেজ ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ‘শিথিল মনোভাব’ পোষণ করলে তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে দেওয়া হতো না।

গন্টেজের মধ্যপন্থী হওয়ার চমৎকার একটি উদাহরণ হাজির করেছে আল জাজিরা। ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের অধিভূক্ত করণে নেতানিয়াহু যেখানে ট্রাম্পের সম্মতিতে ফিলিস্তিনিদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই দখল শুরু করে দিয়েছে মধ্যপন্থী ইসরায়েলি নেতা গন্টেজ বলছেন দখল ফিলিস্তিনিদের সাথে আলোচনা করে করা কর্তব্য ছিল।

অর্থাৎ, আদিবাসী ফিলিস্তিনিদের বসতিকে অবৈধভাবে দখলের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে গন্টেজ নিজেরর মধ্যপন্থার পরিচয় দিয়েছেন-‘একটু আলোচনা করে নেওয়া কর্তব্য ছিল’ বক্তব্যের মাধ্যমে।

ফিলিস্তিনিরা এ ভূখণ্ডের হাজার বছরের বাসিন্দা। শত দুর্যোগেও তারা পবিত্র ভূমিকে আগলে রেখেছে। অথচ নিজেদের মাতৃভূমি তারা এখন অভিবাসী। মূল ভূখণ্ডের তিন চতুর্থাংশ বিশ্ব মোড়লদের সহায়তায় অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল দখল করে নিয়েছে। শরণার্থী শিবির এখন ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়। এখন পশ্চিমতীরকে ইসরায়েল দখল করে নিলে আদিবাসী ফিলিস্তিনিদের জীবন কেবল গাজা স্ট্রীপেই আবদ্ধ হয়ে পড়বে।

এ অবস্থায় সফলতার তেমন আশা নেই জেনেও তুমুল প্রতিবাদে নেমেছে ফিলিস্তিনিরা। হামাস এবং ফাতাহ এক হয়ে এখন আন্দোলন করছে।

প্রতিবাদের মুখে ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বিকল্প ‘মধ্যপন্থী’ গন্টেজের কাছে সমর্থন প্রত্যাশা করেছে। গন্টেজ সমর্থন তো করেছেনই। পাশাপাশি জন্মদিন পালন করতে ফিলিস্তিনে বেড়াতে গিয়ে মুখে মধুবাণীও বর্ষণ করেছেন- ‘জ্যাকবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের প্রধানতম কর্তব্য’।

এদিকে গন্টেজের আগে আমাদের নবীই তাদের ব্যাপারেই চিরন্তন বার্তা দিয়ে গেছেন- ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেররা এক জাতিভূক্ত’।

ফিলিস্তিনি মজলুম ভাইদের প্রতি আল্লাহ সহায় হোন।

পূর্ববর্তি সংবাদকরোনার উপসর্গ নিয়ে বিএনপি নেতা এম এ হক মারা গেছেন
পরবর্তি সংবাদএবার বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত