আদ, ছামুদ, কওমে শুয়াইব: আল্লাহর আযাবে ধ্বংস হওয়া তিন জাতি

ওলিউর রহমান ।।

আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে পার্থিব উৎকর্ষতা প্রদান করেন তার শোকর আদায়ের জন্য। আল্লাহর নেয়ামতের যারা শোকর আদায় করে দুনিয়াতে সফলতার পাশাপাশি পরকালেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে অনন্তের শান্তি। তবে পার্থিব উৎকর্ষতাকে যারা নিজেদের অর্জিত সম্পদ মনে করে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয় পরকালে মর্মন্তুদ শাস্তির পাশাপাশি দুনিয়াতেও তাদেকে কখনো কখনো আল্লাহর আযাব পাকড়াও করে।

কালপরিক্রমায় আল্লাহর আযাবে ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক জাতি। তাদের কথকের বিবরণী আল্লাহ তাআলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। আদ, ছামুদ, কওমে শুয়াইব, কওমে সাবাকে আল্লাহ তাআলা অনেক নেয়ামত দান করেছিলেন। পরে তারা যখন আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছে তাদেরকে ধ্বংসও করে দিয়েছেন। কুরআনে বারবার তাদের আলোচনা করে আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে এ থেকে নসিহত গ্রহণের নির্দেষ দিয়েছেন। এসব জাতির ধ্বংসাবশেষ আল্লাহ রেখে দিয়েছেন। যেন তাদের পার্থিব উৎকর্ষতা এবং অসহায়ত্ব দেখে মানুষ নসিহত গ্রহণ করে।

১. ছবিটি আদ জাতির ইরাম নগরির। কুরআনের সূরা ফাজরে এ নগরির উল্লেখ আছে। নির্মাণ শিল্পে আদ জাতি ছিল জগত সেরা। তারা সুরম্য দালান এবং মনোরম বাগান তৈরি করত। তদানীং সময়ে জ্ঞানচর্চা এবং সংস্কৃতিতে তারা ছিল অনন্য। তবে যখন নাফরমানির কারণে আল্লাহর আযাব তাদের গ্রাস করল সমূলে ধ্বংস হয়ে গেলো আদ জাতি। তাদের ইরাম নগরী ঢাকা পড়ল মরুভূমির বালুকারশির তলে।

টানা সাত রাত এবং আট দিন অব্যাহতভাবে তাদের উপর বয়ে গেলো ঝড়। আকারে আদ সম্প্রদায়ের লোকেরা ছিল বিশাল। ঝড়ের পর তারা খেজুরের ঢালের মত পড়ে ছিল মরুভূমিতে। হযরত হুদ আলাইহিস সালামের দাওয়াতে ঈমান কবুল না করার কারণে তাদের উপর নেমে এসেছিল এই শাস্তি। ইরাম নগরী দীর্ঘদিন ওমানের রুবউল খালি মরুভূমিতে বালুকারশির তলে লুকায়িত ছিল। গত শতকে এটিকে আবিস্কার করা হয়।

২. ছবিটি ছামুদ জাতির পাহাড় কেটে নির্মিত দালানের। তাদের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন সালেহ আলাইহিস সালাম। সালেহ আলাইহিস সালাম তার জাতিকে একত্ববাদের দাওয়াত দিতেন। বিনিময়ে পার্থিব সফলতার পাশাপাশি তাদেরকে পরকালের সফলতার ওয়াদা করতেন। তবে দুর্ভাগা ছামুদ জাতি সালেহ আলাইহিস সালামের দাওয়াত কবুল করেনি। ফলে এক বিকট আওয়াজ আল্লাহর আযাব হিসেবে তাদের উপর নেমে আসে এবং গোটা জাতি উপুর হয়ে নিজেদের বাড়িঘরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

আদ জাতির পরেই পার্থিব উৎকর্ষতায় শীর্ষে ছিল ছামুদ জাতি। তারা পাহাড় কেটে নিজেদের গৃহ নির্মাণ করত। পাথর খোদাই করে তৈরি করত আসবাব। তারা গরমের সময় শীতল ঘরে এবং শীতকালে অবস্থান করত পাহাড়ের অট্টালিকায়। তবে সুরম্য দালান তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

৩. ছবিটি মাদায়েন নগরীর। হযরত শুয়াইব আলাহিস সালামের জাতি কওমে শুয়াইবের জীবনযাত্রা ছিল খুবই উন্নত। তারা ব্যবসা করে জীবীকা নির্বাহ করত। ব্যবসায় আল্লাহ তাদেরকে অনেক অগ্রসর করেছিলেন। তদানীং সময়ে ব্যবসায় তারা ছিল বিশ্বখ্যাত। তবে তারা আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত হয়। মানুষকে ঠকানো এবং ওযনে কম দেওয়া শুরু করে।

আল্লাহ তাআলা শুয়াইব আলাইহিস সালামকে তাদের কাছে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন। শুয়াইব আলাইহিস সালাম নিজ জাতিকে তাওহিদ এবং উত্তম উপায়ে ব্যবসার দাওয়াত দেন। জাতি তার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে এবং আমরা ‘তোমার কথা বুঝি না’ বলে শুয়াইব আলাহিস সালামকে তাচ্ছিল্য করে।

পরিণামে তাদের উপর নেমে আসে নির্মম শাস্তি। প্রথমে কয়েকদিন তাদের বসতিতে দেখা দিল সীমাহীন গরম। গরমে তারা ছটফট করতে লাগল। অতপর কিছুক্ষণের জন্য শীতল বাতাস প্রবাহিত হতে লাগল। কওমে শুয়াইব যখন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল তখন তাদের উপর নেমে এলো অগ্নিবৃষ্টি। আগুন গোটা জাতিকে পুড়িয়ে দিল। জ্বালিয়ে ভস্ব করে দিল।

পূর্ববর্তি সংবাদ‘চলতি বছরে গত ছয় মাসে নৌ দুর্ঘটনায় নিহত ১৫৩, আহত ৮৪’
পরবর্তি সংবাদইসলামী আন্দোলন কর্মীর সহায়তায় ৮ বছর পর ছেলেকে ফিরে পেলেন মা