মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে তরন জেলায় ৬৩ জন, গুরুদাসপুরে ১২ জন ও অমৃতসরে ১১ জন রয়েছেন।
জুলাইয়ের ২৯ তারিখ থেকে ভেজাল মদের মৃত্যুর খবর আসা শুরু হয়।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং বিষাক্ত মদে মৃত্যুর ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে আবগারি দপ্তরের ৬ জন আর ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে দিয়েছেন।
বিষাক্ত মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার সাথে জড়িতদের আটক করতে শনিবার পাঞ্জাবে ১০০’র বেশি অভিযান চালায় পুলিশ। ইতিমধ্যে ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে তারা।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া খবর থেকে ধারণা করা হচ্ছে বিপুল আয়তনে উৎপাদিত অবৈধ মদ রাস্তার পাশে অবস্থিত খাবারের দোকানগুলোতে বিক্রি করা হয়, যা পরে স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি কর্মকর্তারা এখন হিসাবও দিতে পারছেন না যে আসলে কত মানুষ ওই মদ পান করে হাসপাতালাতে ভর্তি আছেন।
এর আগে শুক্রবারই এমন একটি খবর এসেছিল যে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশে স্যানিটাইজার পান করে দশ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভারতের অনেক জায়গাতেই অবৈধভাবে তৈরি করা মদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অবৈধভাবে তৈরি মদগুলো প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের মদের চেয়ে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম দামের হয়ে থাকে।
অবৈধ মদ উৎপাদনকারীরা অনেকসময় মদের সাথে মেথানল মিশিয়ে থাকে, যেটি অ্যালকোহলের একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রূপ।মেথানল কম পরিমাণ গ্রহণ করলেও এর ফলে যকৃতের পচন থেকে শুরু করে অন্ধত্ব, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ভারতের সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়াল এক প্রতিবেদনে জানায়, এখনও প্রায় শতাধিক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
এ নিয়ে সরাসরি কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে পাঞ্জাবের শিরোমনি আকালি দল। আকালি দলের নেতা সুখবীর সিং বাদল সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, এই গণমৃত্যুর দায় নিয়ে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংয়ের পদত্যাগ করা উচিত।
আকালি নেতা সুখবীর সিং বাদল সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় সরাসরি কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তার কথায়, ‘কংগ্রেসের নেতা ও বিধায়কদের লাইসেন্সেই এই বেআইনি ব্যবসা চলছিল। এত মানুষের মৃত্যুর দায় কংগ্রেসকেই নিতে হবে।’
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং শনিবার রাতে জানিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে। শনিবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে আবগারি দপ্তরের ৭ জন কর্মকর্তা ও ৬ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে।
পাল্টা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা কোনো দায়িত্বশীল দলের কাজ নয়। এখন করোনা সংক্রমণ চলছে। তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের যদি মনোভাব থাকত কাউকে আড়াল করবে তাহলে এতজনকে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করত না।
















