সাইফ নূর ।।
পৃথিবীতে যখনই কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তখন বিশ্ব মোড়লরা মানবিক-ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দেশটির ওপর কর্তৃত্বের ছড়ি ঘুরাতে সমবেদনার চেহারা নিয়ে হাজির হয়ে যায়। শুরু হয় তখন সাম্রাজ্যবাদী ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির নোংরা খেলা। বিশ্ব রাজনীতিতে এটি অত্যন্ত কমন একটি প্রসঙ্গ।
এই মুহূর্তে লেবাননের পরিস্থিতি সেদিকেই মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
গত ৪ আগস্ট বিকালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে। সরকারি হিসাবে, বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ হাজার মানুষ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতি হয়েছে শত শত কোটি ডলারের।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের পর থেকে লেবাননে ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা নেমে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, লেবাননের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো তিনটি হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য কার্যকর হয়ে ওঠেনি। দেশটিতে বিস্ফোরণের আগে শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে শতকরা ৩৩ ভাগ মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছেন। শুধু তাই নয় দেশটিতে দশ লাখের মত মানুষ এখন দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে।
আরো পড়ুন: বৈরুত ট্রাজেডিতে আত্মমর্যাদার সংকট: লেবাননে আবার ফ্রান্সের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি
উত্তপ্ত লেবাননে পদত্যাগ করলেন চার পার্লামেন্ট সদস্য
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা
সরকার বিরোধী ক্ষোভ-অনলাইন পিটিশন
১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধের পর এখন লেবাননের অর্থনৈতিক অবস্থা সবচেয়ে খারাপ৷ তাই গত অক্টোবরে সে দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়৷ আর্থিক দুরবস্থার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অদক্ষতাকে দায়ী করেন অনেকে৷
বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শতাধিক প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে লেবানিজরা। ৪ আগস্টের ওই বিপর্যয়ের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন তারা। সরকারের প্রতি তীব্র অনাস্থা জানিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে মানুষ। এরইমধ্যে আগামী ১০ বছরের জন্য লেবাননের কর্তৃত্ব ফ্রান্সের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশন খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে এতে স্বাক্ষর করেছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার জন এতে সাক্ষর করেছেন৷ কিন্তু কেন?
মঙ্গলবার বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণের পর বুধবার কমিউনিটি পিটিশন ওয়েবসাইট avaaz.com-এ একটি পিটিশন শুরু হয়৷ ‘লেবাননকে আগামী ১০ বছরের জন্য ফ্রান্সের অধীনে নিন’ শীর্ষক এই পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘‘লেবাননের কর্মকর্তারা দেশ পরিচালনায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন৷… তাই আমরা মনে করি, একটি সুষ্ঠু পরিচালনা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করতে লেবাননের ফ্রান্সের অধীনে যাওয়া উচিত৷’’
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মাক্রোঁর লেবানন সফর
১৯২০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত লেবানন ফ্রান্সের অধীনে ছিল৷ মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ লেবানন সফরে যান৷ সেখানে বৈরুতের বাসিন্দারা তার কাছে লেবাননের নেতাদের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভের কারণ তুলে ধরেন৷
ফরাসি প্রেসিডেন্ট লেবাননের বাসিন্দাদের জানান, তিনি লেবাননের নেতাদের কাছে ‘একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা’ প্রস্তাব করবেন৷ এরপর ১ সেপ্টেম্বর আবারও লেবাননে আসবেন৷ এই সময়ের মধ্যে লেবাননের নেতারা প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে তার দায়িত্ব তিনি নেবেন বলে বৈরুতের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেন মাক্রোঁ৷
সংস্কারের ডাক
দেশের অর্থনীতি ঠিক করতে ২০ বিলিয়ন ডলার চায় লেবানন৷ এ লক্ষ্যে মে মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছিল৷ কিন্তু সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় আলোচনা স্থগিত আছে৷ ফ্রান্স, জার্মানিও লেবাননে রাজনৈতিক সংস্কারের উপর জোর দিয়েছে৷
বিদেশি ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখছে সরকার
এদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদেশি ষড়যন্ত্র খতিয়ে দেখতে চায় দেশটির সরকার।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, লেবাননের ভয়াবহ বিস্ফোরণ নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, একটি পরিকল্পিত হামলা। বোম কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। খবর আরব নিউজের। বিস্ফোরণের চার দিন পর শুক্রবার বৈরুতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সন্দেহের কথা তুলে ধরেন আউন। তিনি বলেন, শস্যভাণ্ডার ধ্বংসের কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে এতে বাইরের কোনো দেশের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
তদন্তে এই বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বাইরে থেকে রকেট হামলা, বোমা অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে গুদামঘরে হামলা হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন লেবানিজ প্রেসিডেন্ট। খবর আলজাজিরার।
মঙ্গলবার বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনভাবে তদন্ত চলছে, প্রথমত বিস্ফোরক উপাদান কিভাবে গুদামঘরে ঢুকল এবং সংরক্ষণ কিভাবে করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনাবসত অথবা অবহেলার কারণে হয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবশেষ এতে বাইরের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তবে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদী লেবাননের প্রেসিডেন্ট।
আন্তর্জাতিক সহায়তা
মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন দেশ লেবাননে সহায়তা পাঠাচ্ছে৷ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন৷
এ ঘটনায় লেবাননের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে সাইপ্রাসের সরকার। তাছাড়া কাতার, ইরাক ও কুয়েত দেশটিতে চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট দুটি ফিল্ড হাসপাতাল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কাতার।
যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে লেবাননকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানো হবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবাননের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ফিলিস্তিন সরকার ও ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারসহ নানা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের অধীনে লেবাননের আন্তর্জাতিক ত্রাণ সম্মেলনে কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করবেন জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দখল
এদিকে আজকের (৯ আগস্ট) সংবাদ হচ্ছে, লেবানিজ আর্মির অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন অফিসারের নেতৃত্বে একদল আন্দোলনকারী দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দখলের ঘোষণা দিয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, শনিবার ধারাবাহিক বিক্ষোভের পর বিক্ষোভকারীরা মন্ত্রণালয়ের ভবনে ঢুকে পড়েন।
বৈরুতের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মন্ত্রণালয়টি প্রায় ২০০ মানুষ ঘেরাও করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দখলের এই ঘটনা দেশটির টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সামি রামমাহ হ্যান্ডমাইকে বলেন, ‘বিপ্লবের অংশ হিসেবে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দখল করছি। লেবাননের ভারাক্রান্ত সব মানুষ দুর্নীতির বিচার চায়।’ বিক্ষোভকারীদের আরেকটি দল লেবাননের অ্যাসোসিয়েশন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় দখলের চেষ্টা করে। সামি রামমাহ আরব দেশগুলোকে তাদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আরব লিগসহ সব মিত্র দেশগুলোকে আমাদের এই বিপ্লবকে লেবাননের সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।’
অভিমত ও আশংকা
এই মুহূর্তে লেবাননের মানুষ ভারাক্রান্ত এবং যেকোনো সময়ের চাইতে সরকারের প্রতি বেশি ক্ষুব্ধ । তাদের এ ক্ষোভ ও প্রতিবাদকে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তাকারী শক্তিগুলো যে ব্যবহার করতে চাইবে না, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। এর কিছুটা আভাস এখন পর্যন্ত সংবাদগুলোর প্রতি নজর করলে অনুমান করা যায়।
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশ লেবানন। দেশটির বেশিরভাগ খাদ্যই আমদানি নির্ভর। ৪ আগস্টের বিস্ফোরণে ৮৫ ভাগ খাদ্য মজুদ ধ্বংস হয়ে গেছে। অর্থনীতি ঠিক করতে আগেই তাদের ২০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন ছিল৷ কয়েক মাস আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিলেন তারা৷ কিন্তু সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় আলোচনা স্থগিত আছে৷ ফ্রান্স, জার্মানিও লেবাননে রাজনৈতিক সংস্কারের উপর জোর দিয়েছে৷ অর্থাৎ রাজনীতি সংস্কার করবেন, তাহলে টাকা দেওয়া হবে! গরিবদের সঙ্গে সবসময় এমনই ঘটে। বিনা স্বার্থে কেউ টাকা দিতে চায় না।
সাবেক উপনিবেশবাদী দেশ ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীও ঘুরে গেলেন বিস্ফোরণের পর। ‘নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা’র ইঙ্গিতও দিয়ে গেলেন। লেবাননের নেতারা প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে দায়িত্ব তিনি নেবেন বলে বৈরুতের বাসিন্দাদের ‘আশ্বস্ত’ করে যান ফ্রান্স প্রধানমন্ত্রী ম্যাক্রো। একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যা স্পষ্ট হুমকি।
অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত জনগণের মধ্যে সরকার বিরোধি ক্ষোভ-প্রতিবাদ জন্ম নেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কয়েকজন আর্মি অফিসারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দখল এবং ৬০ হাজার মানুষের সরাসরি ফ্রান্সের অধীনে যাওয়ার জন্য অনলাইন পিটিশনের মধ্যে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ইন্ধন যে নেই, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও এসব আন্দোলনক ফলাও করে প্রচার করে যাচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লেবানন পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য বৈরুত বন্দরের বিস্ফোরণের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনো নির্ণয় করা না গেলেও ভালো কিছুর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এখনো।
দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতনে যাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশগ্রহণ ও ইন্ধন থাকে, যেসব ক্ষমতাবানরা ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় রাজনৈতিক দাবার খেলায় মুসলমানদের রক্তের নেশায় সবসময় বুঁদ হয়ে থাকেন, তাদের হঠাৎ লেবাননের জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা সম্মেলনের ডাক দেওয়া, ট্রাম্পের মতো মুসলিম বিদ্বেষী এবং চরম অর্থনীতির হিসাব কষা লোক তাতে উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাবকে বিশ্বের সচেতন রাজনৈতিক বিশ্লেষণগণ সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছেন।
লেবানন সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ। যেখানে সরকারের সর্বোচ্চ পদগুলি আনুপাতিক হারে কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোকদের প্রতিনিধির জন্য নির্ধারিত। সংবিধান অনুসারে প্রতি ৪ বছর অন্তর সংসদীয় নির্বাচন হয়। লেবানন ধর্ম ও গোষ্ঠীগতভাবে বিভক্ত একটি রাষ্ট্র। এখানে সুন্নী মুসলমান, শিয়া ও খ্রিস্টানরা একত্রে বাস করেন। গোষ্ঠীগুলি লেবাননের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যাপারে চুক্তি করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী লেবাননের রাষ্ট্রপতি হবেন একজন ম্যারোনীয় খ্রিস্টান, প্রধানমন্ত্রী হবেন সুন্নী মুসলমান এবং স্পিকার হবেন শিয়া মুসলমান। সংসদের আসনসমূহের অর্ধেক খ্রিস্টান ও অর্ধেক মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত।
বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে লেবাননের খ্রিস্টান অধিবাসীরা যদি ফ্রান্সের অধীনতা চায় তবে তা স্বাভাবিক। শিয়া জনগোষ্ঠীরা যদি বাশার আলআসাদ বা ইরানের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। লেবাননের সঙ্গে বিশাল সীমান্তজুড়ে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার অবস্থান। আল্লাহ মাফ করুন, লেবানন হয়ে উঠতে পারে আরেক সিরিয়া । কিন্তু লেবাননের মুসলিম জনগণের ডাকে পশ্চিমাদের অনুগত মুসলিম দেশগুলো যে এগিয়ে আসবে না- তা যে কেউ অনুমান করতে পারেন। সাম্প্রতিককালের রাজনীতির ইতিহাস সেটাই প্রমাণ করে। ফলে বেশি বিপদে পড়বেন মুসলমান জনগোষ্ঠী। তাছাড়া লেবাননের সঙ্গে রয়েছে ইহুদিবাদি রাষ্ট্র ইসরাঈলের সীমান্ত। যাদের স্বপ্নের ইসরাইলের মধ্যে গোটা লেবানন শামিল। আগ্রাসন যাদের জন্মগত। লেবাননের এই দুর্বল সময়ে তারাও যে বসে থাকবে না পরিষ্কার অনুমেয়।
বৈরুত বিস্ফোরণের ঘটনায় বিদেশি ষড়যন্ত্র থাকার আশংকা ব্যক্ত করেছে লেবানন সরকার। প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, লেবাননের ভয়াবহ বিস্ফোরণ নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, একটি পরিকল্পিত হামলা। বোম কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এটা যদি সত্য হয়, তাহলে পরিস্থিতি ধারণার চেয়েও ভয়াবহ।
সবকিছু মিলিয়ে আশংকা করা হচ্ছে, লেবানন আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতির নতুন ক্রীড়াক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। যেখানে মানুষের চেয়ে মাটিকে বেশি মূল্য দেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা অগণিত নবী-রাসূল ও সাহাবা-তাবেঈনের পূণ্যভূমি লেবাননকে সমস্ত ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন আমীন।
















