বিজেপি নেতার মুসলিম বিদ্বেষী পোস্ট: ভারতের ফেসবুক প্রতিনিধিকে সংসদীয় কমিটিতে তলব

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ব্যবসায়িক লাভের কথা মাথায় রেখে এক বিজেপি নেতার ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিটের এই রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশে তীব্র নিন্দা ও বিতর্কের ‍মুখে পড়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। পাশাপাশি ফেসবুক কর্তৃপক্ষও পড়ে ইমেজ সংকটে।

আগামী ২ সেপ্টেম্বর ফেসবুকের প্রতিনধিকে ডাকা হয়েছে ভারতের সংসদীয় কমিটির সামনে। শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন কমিটিই এই বক্তব্য শুনবে বলে জানা গিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে এই সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবির মাঝেই এই নির্দেশ দেওয়া হল ফেসবুককে।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিসেটর এই রিপোর্টকে সামনে রেখে বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে আক্রমণ হানেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বলেন, ভারতে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপকে নিয়ন্ত্রণ করছে বিজেপি আরএসএস। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান হিসাবে কংগ্রেস এমপি শশী থারুর চেয়েছিলেন, ফেসবুকের কোনও প্রতিনিধিকে ডাকা হোক। স্ট্যান্ডিং কমিটি এবিষয়ে তাঁর বক্তব্য শুনুক।

এরপরেই বিজেপি নেতা নিশিকান্ত দুবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে বলেন, শশী থারুরকে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠোর অভিযোগ করেন, শশী তারুর বিধিভঙ্গ করেছেন।

রাজ্যবর্ধন রাঠোর বলেন, “কোনও সংস্থার প্রতিনিধিকে ডাকা যেতেই পারে। তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু শশী থারুরের আগে আমাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা উচিত ছিল। তার বদলে প্রথমেই তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন।”

নিশিকান্ত দুবে লিখেছেন, “শশী থারুর একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছেন। তিনি নিখুঁত উচ্চারণে ইংরেজি বলতে পারেন ঠিকই, কিন্তু তা বলে সংসদীয় বিধি উপেক্ষা করতে পারেন না।” নিশিকান্ত দুবে ও শশী থারুর পরস্পরের বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের নোটিশ দিয়েছেন। তারমধ্যেই ফেসবুকের প্রতিনিধিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তেলেঙ্গানার বিজেপি বিধায়ক টি রাজা প্রকাশ্যে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার কথা বলেছিলেন। সেই বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল দাবানলের মতো। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই হয়নি। কেন হয়নি তাও উল্লেখ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছ, ভারতে ফেসবুকের পাবলিক পলিসি বিষয়ক আধিকারিক আঁখি দাস মূলত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়, “টি রাজার বক্তব্য ছিল হিংসা ও উস্কানিতে ভরা। তবু ফেসবুক ব্যবস্থা নেয়নি। এটা এক ধরনের কেন্দ্রের শাসকদলের হয়ে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ।”

যদিও এই অভিযোগ ওঠার পরে ফেসবুকের তরফে মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেন, “আমরা ঘৃণা ছড়ানোর নিন্দে করি, সেটা যে কোনও রাজনৈতিক দল বা তাঁর যে কোনও রাজনৈতিক অবস্থান হোক না কেন। এই ধরনের বার্তা আমরা ছড়াই না। গোটা বিশ্বজুড়ে এই ক্ষেত্রে আমাদের পলিসি একই রয়েছে। আমরা জানি এখনও কিছু কাজ বাকি, সেই কাজই করছি আমরা। যাতে আরও স্বচ্ছভাবে এই সোশ্যাল মিডিয়া চালানো যায়, সেই কাজই করা হচ্ছে।” তারপরেও ফেসবুকের প্রতিনধিকে ডাকা হল সংসদীয় কমিটির সামনে। দ্যা ওয়াল

পূর্ববর্তি সংবাদ‘২১ আগস্ট হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে’
পরবর্তি সংবাদ‘দেশের মানুষের সেবা করার জন্যই হয়ত আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন’