গোপালগঞ্জে ১৮টি লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিকে নিয়মিত চলছে অস্ত্রপচার

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ১৮টি লাইসেন্স বিহীন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত অস্ত্রপচার চলছে। ক্লিনিক মালিকরা অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লাইসেন্সের আবেদন করেই এসব ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

ক্লিনিকগুলোতে মানসম্মত কোনও অপারেশন থিয়েটার নেই। সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নেই। এমনকি পাস করা নার্স বা টেকনিশিয়ানও নেই। ক্লিনিক মালিক ও তাদের স্বজনরাই চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, আয়া, ওয়ার্ডবয় ও ক্লিনিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মান যাচাইয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তেমন তদারকি নেই। এই সুযোগে ক্লিনিকগুলো প্রতারণার ফাঁদ পেতে রোগী নিয়ে রমরমা বাণিজ্য করে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানিয়েছে, জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় ২১টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনেস্টিক সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে ১৮টিরই লাইসেন্স নেই। বাকি চারটির লাইসেন্স থাকলেও নবায়ন নেই।

লাইসেন্স বিহীন ইসলামিয়া হাসপাতাল এ্যাড ডায়গনেস্টিক সেন্টারের মালিক মুকসুদপুর কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম গাজী। তার স্ত্রী সানিয়া সুলতানাই হাসপাতালটি পরিচালনা করেন।

সানিয়া সুলতানা বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই আড়াইমাস আগে লাইসেন্সের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেই আমরা ক্লিনিক শুরু করেছি। এখনো ওটিতে এসি-সহ আধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হয়নি। তারপরও এখানে সিজারিয়ান-সহ সবধরনের অপারেশন করা হচ্ছে। আমাদের ক্লিনিকে কাগজে-কলমে একজন আরএমও-সহ তিনজন চিকিৎসক ও ছয়জন নার্সকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ক্লিনিকে সবসময় চিকিৎসক ও নার্স থাকার কথা কিন্তু তারা সরকারি চাকরি করেন। তাই অফিস শেষে অনকলে ক্লিনিকে এসে অপারেশন করেন।”

তিনি আরো বলেন, “এখন পর্যন্ত এই ক্লিনিকে ৬০টি অপারেশন হয়েছে। প্রতিদিনই অপারেশন চলছে। চিকিৎসক ও নার্স সবসময় থাকে না। তাদের অনুপস্থিতিতে আমরাই ক্লিনিকের রোগীদের চিকিৎসা প্রদানসহ ক্লিনিক পরিচালনার কাজ করি।”

ওই হাসপাতালের একজন নার্স সুষমা বলেন, “আমি ইন্টারমিডিয়েট পাস। গত আটবছর বিভিন্ন ক্লিনিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এখানে সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাচ্ছি।”

আরেক নার্স ফারজানা বলেন, “আমার একাডেমিক কোনও সার্টিফিকেট বা পড়াশোনা নেই। এখানে নার্সের দায়িত্ব পালন করছি। হাসপাতাল মালিকের স্ত্রী সানিয়া আপা আমাদের নার্সের কাজ শেখান।”

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ডলি আক্তার ও রত্না বেগম বলেন, “সিজারিয়ান আপরেশনের আগে আমরা ২০ হাজার টাকায় চুক্তি করেছি। অপারেশনের পর ডাক্তারের দেখা নেই। কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছি না। ক্লিনিক মালিকের স্ত্রী আর স্বজনরা চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও ওয়ার্ডবয়ের কাজ করেন। এখানে এসে চিকিৎসার নামে প্রতারণার ফাঁদে পড়েছি।”

এপ্রসঙ্গে গোপালগঞ্জে সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, “অনলাইনে ক্লিনিকের লাইসেন্সের আবেদন করার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্তের জন্য আমাদের কাছে কাগজপত্র পাঠাবে। আমরা তদন্ত করে সন্তোষজনক প্রতিবেদন দিলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লাইসেন্স দেবে। লাইসেন্স পাওয়ার পর ক্লিনিক শুরু করতে হবে। লাইসেন্স বিহীন ও লাইসেন্স নবায়ন নেই এমন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো।” –ঢাকা ট্রিবিউন

পূর্ববর্তি সংবাদকৃষ্ণসাগরে মার্কিন বোমারু বিমানের গতিপথ আটকে দিল রুশ জঙ্গিবিমান
পরবর্তি সংবাদকরোনাভাইরাসকে ‘প্রতারণা’ উল্লেখ করে বার্লিনে বিক্ষোভ, আটক ৩ শতাধিক