ইসলাম টাইমস ডেস্ক: কর্মজীবী নারীদের ওপর করা এক জরিপে বলা হয়েছে, ৬৫ শতাংশ নারী হয়রানির শিকার হচ্ছে কর্মস্থলের ম্যানেজার কিংবা বসের দ্বারা।
জরিপে আরো বলা হয়, করোনাকালে নারীদের অনেকেই কর্মস্থলে ১ থেকে ১০ বার পর্যন্ত যৌন হয়রানি শিকার হচ্ছে। মৌখিকভাবে হয়রানির পরিমাণ ৬০ শতাংশ।
শনিবার সকালে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের যৌথ আয়োজনে অনলাইনে অনুষ্ঠিত অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় এ জরিপ তুলে ধরা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্লামেন্টারিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার। গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি। অতিথি হিসেবে ছিলেন সংসদ সদস্য সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, ইক্যুয়ালিটি ও রাইটস একটিভিস্ট এবং সোস্যাল এনালিস্টের শিপা হাফিজা, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ঢাকা এবং পোর্টফলিও ম্যানেজার আফরোজ মহল, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি ও নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আক্তার ডলি, অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু।
গবেষণা তথ্য উপস্থাপনায় নাছিমা আক্তার জলি জানান, প্রাথমিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ৩৯০ জন নারীর একটি তালিকা তৈরি করা হয় (রেন্ডম স্যাম্পলিং)। পরবর্তীতে এ জরিপটিতে যৌন হয়রানি শিকার হয়েছেন এমন ১৩৫ জন কর্মজীবী নারী অংশ নেন। গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালিত হয় জুলাই মাসে ও তথ্য নেয়া হয় ৮ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত।
জরিপে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী ১৩৫ জন নারীর শতভাগই নিজ কর্মস্থলে কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪১.৪৮ শতাংশ ২-৩ বার, ২৫.৯৩ শতাংশ নারী ৪ থেকে ৫ বার এবং ২২.৯৬ শতাংশ নারী ১ বার করে এবং ৮.৮৯ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬ থেকে ১০ বার। জরিপে বলা হয়, ১৩৫ জনের মধ্যে ৬১ জন শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে (৪৫.১৯ শতাংশ), ৮০ জন মৌখিকভাবে (৫৯.২৫ শতাংশ) সরাসরি যৌন আবেদনের শিকার হয়েছেন। ৬৪ জন অর্থাৎ ৪৭.৪১ শতাংশ নারী, ৬০ জন (৪৪.৪৪ শতাংশ) সুপারভাইজার দ্বারা, ৮৮ জন (৬৫.১৯ শতাংশ) ম্যানেজার বা বস দ্বারা, ৮ জন (৫.৯৩ শতাংশ) নারী তাদের নিয়োগকর্তার দ্বারা হয়রানি হয়েছেন।
উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪৬ জন (৩৪.০৭ শতাংশ) নারী বলেছেন, তাদের কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে মাত্র ১৫.৫৬ শতাংশ নারী নীতিমালাগুলো দেখেছেন, অন্যরা পলিসি দেখেননি বা পড়েননি। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিবিষয়ক নীতিমালা থাকা প্রয়োজন তা ৮৯ জন নারীই জানেন না। এ স¤পর্কে হাইকোর্টের একটি গাইডলাইন আছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী মধ্য থেকে ১১৮ জন (৭৯.৪০ শতাংশ) মনে করেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইন প্রয়োজন। শতকরা ৮৫.১৯ নারী বলেছেন, আইন হলেই হবে না, তা যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, নারীর প্রতি যৌন হয়রানি রোধে সমন্বিত আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছি। এ বছরের মধ্যে আইনটি সংসদে উপস্থাপন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অ্যাডভোকেট সামসুল হক টুকু এমপির মতে, জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। তাদের ওপর এরকম অত্যাচার চলতে থাকলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নারীর ওপর পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মনোভাবই এর মূল কারণ।
















