ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাজধানীর সবুজবাগের একটি কওমী মাদরাসায় প্রকাশ্যে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে আল্লাহর রাসূল দাবি করে এমনকি পরিষ্কার ভাষায় তাকে ‘২য় মুহাম্মাদ সা.’ আখ্যা দিয়ে মাদরাসাটির মুহতামিম ও ছাত্রদেরকে কাদিয়ানী ধর্মমত গ্রহণের দাওয়াত দিয়েছে বিশ্বব্যাপী অমুসলিম হিসেবে পরিচিত কথিত আহমদিয়া মুসলিম জামাত।
গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সবুজবাগের জামিয়া ইসলামিয়া দক্ষিণগাঁও মাদরাসার মুহতামিম মুফতী শিব্বির আহমদ সাহেবের নামে প্রেরিত এক চিঠিতে এ দাওয়াত দেওয়া হয়।
চিঠিটির প্রেরকের নাম মুহাম্মাদ আহমদ। ঠিকানা: হাই কমান্ড, ওয়াল্ড আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি, ৪২৫ সাউথ গোরান, খিলগাঁও, ঢাকা।
মাদরাসাটির মুহতামিম মুফতী শিব্বির আহমদ সরাসরি ইসলাম টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘প্রিয় মুহতামিম, আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটি হজরত মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আলাইহিস সালামকে (১৮৩৫-১৯০৮) আল্লাহর নবী/রসূল বলে বিশ্বাস করে এবং হজরত মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আলাইহিস সালামকে ২য় মুহাম্মাদ সঃ বলে মান্য করে।
may i invite you, your colleagues and friends to ahmadiyyat (real islam)’’

মাদরাসাটির মুহতামিম মুফতী শিব্বির আহমদ ভীষণ ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, অতীতে আমরা তাদের অনেক কাগজ-চিঠিপত্র পেয়েছি, কিন্তু এবারের চিঠিটা সম্পূর্ণই ব্যতিক্রম। যে বিষয়গুলো তারা সাধারণত স্বীকার করে না বা এড়িয়ে যায় সে কথাগুলো এখানে তারা সরাসরি স্পষ্টভাবে লিখে পাঠিয়েছে। এমনকি আমাকে এবং আমাদের ছাত্রদেরকে তাদের দলভুক্ত হওয়ারও দাওয়াত দিয়েছে!
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কত বড় স্পর্ধা হলে প্রকাশ্যে মির্জা গোলাম আহমদ কাদয়ানীকে ২য় মুহাম্মাদ দাবি করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের ঈমান আনার দাওয়াত দিতে পারে!
আরো পড়ুন: ‘কাদিয়ানী ফেতনা সম্পর্কে সর্বাত্মক সচেতনতা এখন সময়ের দাবি’
মুফতী শিব্বির আহমদ মনে করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলমানদেরকে উত্তেজিত করতে কাদিয়ানীরা এ চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ চিঠিটি পাঠিয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
ধারণা করা হচ্ছে, এধরনের চিঠি আরো কোনো কোনো মাদরাসায় পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞজনেরা মনে করেন, এঘটনার মাধ্যমে রাজধানীসহ সারাদেশে কাদিয়ানীদের তৎপরতার আরেকটি চিত্র সামনে আসল। কাদিয়ানীরা এখন আগের ন্যায় তাদের কুফরী বিশ্বাস প্রকাশ করতে দ্বিধা করে না। কিছুদিন পূর্বে বিবিসি বাংলার এক অনুষ্ঠানে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মুখপাত্র জনাব আবদুল আওয়াল মির্জা গোলাম আহমদের নবুওত দাবি নিয়ে ঘোলাটে কথাবার্তা বললেও এখন সম্প্রদায়টির নীতিতে পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সচেতন মুসলমানরা। এ ঘটনা যার স্পষ্ট প্রমাণ।

মুফতী শিব্বির বলেন, সামনে তারা আরো কিছু ঘটাবে- এঘটনা তার ইঙ্গিত দেয়। তাদের এ আচরণকে উদ্দেশ্যমূলক উস্কানি বলে ব্যক্ত করেন তিনি।
এ বিষয়ে খতমে নবুওত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাওলানা আবু নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দুয়ে দুয়ে চার’ যেমন স্বতসিদ্ধ বিষয় তেমনি খতমে নবুয়তের আকীদাও মুসলমানদের নিকট একটি স্বতসিদ্ধ বিষয়। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শেষ নবী হিসাবে অমান্যকারী ব্যক্তি ও সম্প্রদায় কাফির এ কথা মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস রাখেন। কুরআনে খতমে নবুয়তের বিষয়ে অনেক আয়াত রয়েছে। এবং হাদীস ভাণ্ডারে এ বিষয়ে রয়েছে অসংখ্য হাদীস।
তিনি আরো জানান, তা সত্ত্বেও অজ্ঞতা কিংবা ধোঁকা খেয়ে অনেক মুসলমান আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নিজেদের ঈমান-আকীদা হারাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিচ্ছে আমাদের দেশের তথা কথিত আহমদিয়া নামধারী জামাত। তারা সাধারণ মানুষের ঈমান আকীদা ছিনিয়ে নিচ্ছে কৌশলে। তাদের অপকৌশল থেকে দেশের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার দায়িত্ব আলেমদের পাশপাশি দেশের সরকারের উপরও বর্তায়। তাই সরকারের উচিত আলেমদের দাবি মেনে তথাকথিত আহমদিয়া জামাতের সকল প্রতারণাপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে নিষিদ্ধ করে দেশের সাধারণ নাগরিকদের ঈমান আকীদার হেফাজত করা।
আরো পড়ুন: মির্যা কাদিয়ানীর কুরআন বিকৃতির অপচেষ্টা : কিছু দৃষ্টান্ত
নিজ পরিচয়ে কাদিয়ানীরা দেশে থাকতে সমস্যা নেই : আহমদ শফি
কাদিয়ানী ফেতনা : “ভেজাল ধর্মের কবল থেকে জনগণকে বাঁচানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব”
অনলাইনে থেমে নেই কাদিয়ানীদের প্রচার তৎপরতা!
এক পাকিস্তানি ডাক্তার পরিবারের কাদিয়ানি মত থেকে ইসলামে প্রত্যাবর্তনের গল্প
কাদিয়ানী মতবাদ কেন অসার: আনওয়ার শাহ কাশ্মীরীর অসাধারণ বিশ্লেষণ
ফিরে দেখা: খতমে নবুয়ত আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক দিন- ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
















