গুলশানে রেস্টুরেন্টে রাতভর চলে  বিদেশি মদের দেদার কেনাবেচা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানে ‘হর্স অ্যান্ড হর্স’ নামের অভিজাত রেস্টুরেন্টে রাতভর চলে  বিদেশি মদের দেদার কেনাবেচা। বুধবার রাতে নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর  রেস্টুরেন্টটিতে অভিযান চালায়। জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, বিয়ার, হুক্কা ও শিশা।

জানা যায়, এই রেস্টুরেন্টটিতে পাশ্চাত্যের আদলে নিয়মিত তরুণ-তরুণীদের আড্ডা বসে। মদ বিক্রি হয় প্রকাশ্যে, খোলামেলা। কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই। অভিযোগ আছে, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে যাদের ব্যবস্থা নেয়ার কথা তারা নিশ্চুপ।

সব কিছু জেনেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। সম্প্রতি একটি দৈনিকের সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে রেস্টুরেন্টটির নানা অনিয়মের আদ্যোপান্ত।

সূত্র বলছে, রেস্টুরেন্টে মদ বিক্রির কোনো অনুমোদন নেই। চোরাই বাজার থেকে বিদেশি মদের বোতল এনে বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে। আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি বিয়ারও বিক্রি হচ্ছে দেদার।

বিক্রি হওয়া মদ-বিয়ারের বেশিরভাগ আসে ডিউটি ফ্রি ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যার হাউস থেকে। ওয়্যার হাউসের নির্ধারিত চোরাকারবারিরা রেস্টুরেন্টটিতে মদ-বিয়ার সরবরাহ করে। এছাড়া বিদেশ থেকে লাগেজ পার্টির মাধ্যমে চোরাইপথে আসা মদও বিক্রি হচ্ছে এখানে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, হর্স অ্যান্ড হর্স রেস্টুরেন্টে বার লাইসেন্স নেই। বেআইনিভাবে মদ বিক্রি ছাড়াও তারা অন্তত ১০ ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। প্রথমত, তারা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই মদ বিক্রি করছে।

দ্বিতীয়ত, বার পরিচালনার অনুমতি না নিয়ে মদ-বিয়ার কেনাবেচা করছে। তাছাড়া বার বন্ধের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মদ বিক্রির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

উপরন্তু, তারা কোনো ধরনের নিয়মের তোয়াক্কা না করে মধ্য রাত পর্যন্ত মদ-বিয়ার বিক্রি করছে। যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।

এতসব অনিয়মের পরও কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রতিবেদককে বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করেন। যে কোনো মুহূর্তে আমরা অভিযান চালাব।’

এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর হর্স অ্যান্ড হর্স রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায়। এ সময় রেস্টুরেন্টেই অবস্থান করছিলেন মালিক মেহেরীন মনসুর।

তবে আগেই অভিযানের খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বিএমডব্লিউ গাড়িতে চড়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনি সটকে পড়েন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, বিয়ার, হুক্কা ও শিশা জব্দ করা হয়।

এসময় বারের ম্যানেজারসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় বারে মদ পান করতে আসা একাধিক তরুণী মুখ ঢেকে পালানোর চেষ্টা করেন। মদ্যপানরত বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মোবাইল ফোনের আড়ালে মুখ ঢাকেন।

তাদের অনেকে কান ধরে ওঠবস করে ক্ষমা চান। তারা বলেন, জীবনে আর কোনোদিন মদ্যপান করব না, এবারের মতো ছেড়ে দেন। পরে তাদের অনেককে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক সামসুল কবির বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মাদক আইনে মামলা করা হবে।

পূর্ববর্তি সংবাদজার্মানিতে মাইকে আজান নিষিদ্ধের মামলায় জয় হল মুসলমানদের
পরবর্তি সংবাদমাগুরায় ফুটবল খেলা নিয়ে মারামারি, যুবক নিহত