আর্মেনিয়া যে শর্ত মানলে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে আজারবাইজান

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, নাগোরনো ও কারাবাখ পার্বত্য অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়া সেনা প্রত্যাহার করে নিলে তিনি ওই অঞ্চলে তার দেশের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবেন। তিনি বুধবার সীমান্ত সংঘর্ষে আহত সেনাদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে এ শর্তের কথা বলেন। খবর আনাদোলুর।

প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ বলেন, নাগোরনো ও কারাবাখ অঞ্চল থেকে আর্মেনীয় সেনাদের নিঃশর্ত প্রত্যাহার করা হলেই কেবল তিনি তার সেনাদের অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেবেন।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আজারবাইজান তার দেশের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সব ভূমি পুনরুদ্ধারের কাজে নেমেছে এবং এই কাজ করার অধিকার তার দেশের রয়েছে।

গত রোববার সকাল থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমান্তবর্তী বিতর্কিত নাগোরনো ও কারাবাখ অঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এতে এখন পর্যন্ত দুপক্ষের বেসামরিক নাগরিকসহ শতাধিক ব্যক্তি নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন।

কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ১৯৮৮ সালে উত্তেজনা শুরু হয়, যা ১৯৯১ সালে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। বিদেশি হস্তক্ষেপের কারণে বর্তমানে আবার সে সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

নাগোরনো-কারাবাখকে আজারবাইজান নিজেদের বলে দাবি করে এলেও আর্মেনীয় নৃগোষ্ঠীর লোকজন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে, আর্মেনিয়া তাদের সমর্থন দিচ্ছে। ১৯৮৮-৯৪ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে অঞ্চলটি আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও স্বাধীন দেশ হিসেবে এখনও কারও স্বীকৃতি পায়নি।

কিন্তু এ অঞ্চলটি নিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে যুদ্ধবিরতি পর বুধবার পর্যন্ত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ দুটির মধ্যে টানা চতুর্থ দিন পর্যন্ত সংঘাত চলছে।

তুরস্ক ইতিমধ্যে আজারবাইজানের পক্ষ নিয়েছে। একদিন আগেই আর্মেনিয়ার একটি জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করারও অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও তুরস্কের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনে গড়ানো এ সংঘাত বেশি দিন চললে এতে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মিত্র দেশগুলোও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: অনুরোধ করলে আজারবাইজানকে সামরিক সহায়তা দেবে তুরস্ক

পূর্ববর্তি সংবাদধর্ষণের অভিযোগে এবার ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার
পরবর্তি সংবাদকওমী মাদরাসা ছাড়া দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত