বাজারের আগুন নেভাবে কোন দমকল?

ওয়ারিস রব্বানী।।

বড় রকম হইচই না হলে খবর হয় না। বড় কিছু ভেঙে না পড়লে আওয়াজ হয় না। এভাবেই নিঃশব্দে পাড় ভাঙতে ভাঙতে গ্রাম উজাড় হয়ে যায়। কেউ খবর রাখে না; ভুক্তভোগী ছাড়া। দেশে এখন করোনা-প্রণোদনা, শাসক দলীয় ধর্ষণ আর অবদান-উন্নয়নের জোয়ার চলছে। এরমধ্যে দ্রব্যমূল্যের আগুন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ার মতো নেতা-মন্ত্রী পাওয়াই দুস্কর হয়ে গেছে।

ভাবখানা এমন যে, সব ঠিকঠাক। গা-হাত-পা ঝাড়া দিয়ে একটা ফিটফাট ভাব বজায় রাখার কসরত চারদিকে। অথচ কাঁচা বাজারের আগুন মেঘ ছুঁইছুঁই। করল্লা-কাকরোলের কেজি ১০০ টাকা! পেঁয়াজ ১ কেজি ১০০ টাকায় দেওয়ার সময় দোকানদার একটা বাড়তি আত্মীয়তার ভঙ্গি করেছে! ৫০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি আলু কিনেছি, নিছক খাতিরের জোরে। মাছ-গোশত, ডিম, চালের কথা থাক। এভাবেই চলছে, কোন বিকার নেই কোথাও। সরকারের বড় বড় নেতা-মন্ত্রীরা তাদের কর্মী-ধর্ষক বাহিনী নিয়ে যতটা লজ্জিত, তার চেয়ে ঢের বেশি গর্বিত নতুন ধর্ষণ-আইনের কৃতিত্ব নিয়ে। দ্রব্যমূল্য আর ‘গরিব মারা’ কাঁচাবাজার নিয়ে কথা খরচ করার টাইম তাদের নেই।

আরো পড়ুন: ধর্ষণের খবর প্রচারেও দরকার সতর্কতা

শুধু দ্রব্যমূল্যের কথাই বা বলি কেন, সবাই চুপে চুপে এই জ্ঞান অর্জন করে ফেলেছি যে, আমাদের বিদ্যুৎ বিল গত ৫-৬ মাসে প্রায় দ্বিগুণে পরিণত হয়েছে।

কেউ দেখার নেই, কেউ বলার নেই। সবাই গোপনের মার গোপনে সয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঠেকেছে গরিব মানুষের ঘর-সংসার। মাছ-গোশত, ডিম দূরে থাক, কমদামি ঢেড়স-করল্লা খেয়ে যারা দিন পার করতো তাদের বাজারের ব্যাগ এখন ফাঁকা। এক কেজির জায়গায় এক পোয়া নিয়ে চলতে হচ্ছে। বেচাবিক্রির নতুন নিয়ম চালু হয়েছে, ঢাকা শহরের তরকারির ভ্যানগুলোতে! প্রথম চোটেই যে দাম বলবে, সেটা পোয়া হিসাবের। করল্লা ২৫ টাকার মানে হলো, একপোয়া(২৫০ গ্রাম) ২৫ টাকা। এরপর হিসাবের স্কেল উপরের দিকে উঠবে। নিম্নবিত্ত গরিবের নাভিশাস যাচ্ছে, কিন্তু বাজারের আগুন নেভানোর মতো কোন দমকল পাওয়া যাচ্ছে না।

সেদিন চোখে পড়লো, মোটামুটি কেতাদুরস্ত পোশাকের এক লোক  দুটি শসা আর গাজর সংখ্যা হিসেবে হাতে গুণে মেপে কিনে নিলেন। দ্রব্যমূল্যের এই চড়া মৌসুমে এমন দৃশ্য দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়। তাহলে কি টিকিট-ভিসা ছাড়াই আমরা ‘কলকাতার বাসিন্দা’ হয়ে যাচ্ছি? সামনে কি আমাদেরও বলতে হবে-‘দাদা, ৪টা ঢেড়স আর দুটা করল্লা দিন তো দেখি। আর এক ডজন কাঁচা মরিচ দিতে কিন্তু ভুলবেন না!’

আরো পড়ুন: সমাজচিত্র: উপড়ে ফেলতে হবে এই ঔদ্ধত্যের শেকড়

পূর্ববর্তি সংবাদফেসবুকের আসক্তি ঠাহর করার উপায়
পরবর্তি সংবাদস্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সাবধান হতে জরুরি বিজ্ঞপ্তি