মক্তব শিক্ষার ঐতিহ্যকে এখনও গুরুত্বের সাথে ধরে রেখেছে তিউনিসিয়া

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মক্তব শিক্ষার ঐতিহ্যকে এখনও গুরুত্বের সাথে ধরে রেখেছে তিউনিসিয়া। তিউনিসিয়ার শিক্ষার ব্যবস্থায় ‘মক্তব’ শিক্ষাকে এখনো বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মসজিদ ছাড়াও বিভিন্ন অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিরা মক্তব শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। তিউনিসিয়ার শিশুদের কোরআন পড়ার হাতেখড়ি মক্তবেই হয়। মক্তবে হাতেকলমে কোরআন শেখানো ও মুখস্ত করানো হয়। নির্দিষ্ট একটা বয়স পর্যন্ত মক্তবে শিক্ষা শেষে মাদরাসা কিংবা স্কুলে ভর্তি হয়। অনেক সময় দেখা যায়, মক্তবে পড়ার সময়ই কোরআনে কারিমের বড় একটা অংশ মুখস্ত হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের। মক্তবের শিক্ষকদের বেশ সম্মানের চোখে দেখা হয়। এমনও হয়, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সকালে মক্তবের শিক্ষক হিসেবে কোরআন শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

মক্তব শিক্ষাকে আরও আধুনিক করতে নানা ধরনের গবেষণা চলছে।

সম্প্রতি তিউনিসিয়ার ধর্মমন্ত্রী সেদেশের কনিষ্ঠ হাফেজ মারিয়াম ওসমানিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনার তেমন কোনো গুরুত্ব না থাকলেও তিউনিসিয়ার জন্য এটা বিশাল এক ঘটনা। কারণ, হাফেজদের তারা ভিন্নচোখে দেখে সর্বদা।

এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী আহমাদ আজুম বলেন, মারিয়াম ওসমানিকে সম্মান প্রদর্শন করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। মূলত কোরআন হেফজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান এবং তিউনিসিয়ায় জাতীয় নারী দিবস উপলক্ষে তাকে এই সম্মাননা প্রদর্শন করা হয়েছে।

তিউনিসিয়ার তুযার প্রদেশের দাক্বাশ শহরের বাসিন্দা মারিয়াম ওসমানির বয়স মাত্র নয় বছর। আগে থেকেই সে মক্তবে প্রায় অর্ধেক কোরআন মুখস্থ করেছিল। সম্প্রতি করোনার জন্য বন্ধ সময়ে বাকি ১৫ পারা কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। মারিয়ামকে দেখে আরও অনেকেই কোরআন শিক্ষা ও মুখস্থ করতে আগ্রহী হবেন, তাই তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তিউনিসিয়া আফ্রিকার উত্তর উপকূলে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। দেশটির পূর্ব উপকূলে অবস্থিত তিউনিস দেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। ১৯৫৬ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। আধুনিক তিউনিসিয়ার স্থপতি হাবিব বুর্গিবা দেশটির স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দেন এবং ৩০ বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিউনিসিয়া উত্তর আফ্রিকার সবচেয়ে স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ইসলাম দেশটির রাষ্ট্রধর্ম।

তিউনিসিয়ায় ইসলাম পৌঁছে সাহাবি হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনামলে সাহাবি উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে এলাকাটি বিজিত হওয়ার মাধ্যমে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সূচকে উচ্চশিক্ষা খাতে বিশ্বে তিউনিসিয়ার অবস্থান ১৭তম এবং প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ২১তম। ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের বসবাস। আয়তনের দিক দিয়ে এটি বিশ্বের ৯১তম এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে ৭৯তম বৃহত্তম দেশ।

পূর্ববর্তি সংবাদএসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা: দায়ীদের শনাক্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
পরবর্তি সংবাদনারীর সাথে হ্যান্ডশ্যাক না করায় লেবানিজ ডাক্তারকে নাগরিকত্ব দিল না জার্মানি