আনসার আব্বাসী ।।
ফ্রান্স আবারো একবার ইসলামের শত্রুতায় সীমা অতিক্রম করেছে। ফ্রান্সে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবমাননার কার্টুন প্রথমে পত্রিকায় ছাপানো হয়েছিল। এখন সেগুলো সরকারি ভবনের দেয়ালে প্রদর্শন করা হয়েছে। এই ঘৃণ্য খেলায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁও শামিল ছিল। যার সম্পর্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান একদম সঠিক বলেছেন যে, ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা করানো দরকার।
আমার তো মনে হয়, ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এবং শত্রুতায় সে পাগল হয়ে গেছে। অবমাননাকর কার্টুনগুলো সরকারি ভবনের গায়ে দেখানোর পৃষ্ঠপোষকতা তো ম্যাক্রোঁ করেছে। কিন্তু এ কাজের আঞ্জামদাতা সেই শার্লি হেবদো ম্যাগাজিন। যারা কয়েক বছর যাবত এই নাপাক কাজে লেগে আছে। অথচ শার্লি হেবদোর অফিসে কয়েকজন মুসলিম তরুণ কর্তৃক চার-পাঁচ বছর পূর্বে একটি হামলাও সংঘটিত হয়েছিল। তখন এই ম্যাগাজিনের কর্মকর্তাসহ ১২ জন মারা পড়ে।
ওই সময় খ্রিস্টান ধর্মগুরু এবং পোপরা পর্যন্ত শার্লি হেবদোর ঘটনায় এধরনের কথা বলেছিলেন যে, যদি আপনি কারো মা-বাবা নিয়ে কটূক্তি করেন বা গালি দেন তাহলে এর প্রতিক্রিয়ায় আপনার চেহারায় ঘুষি তো পড়বেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও শার্লি হেবদো এবং ফ্রান্স সংশোধন হয়নি এবং এই ন্যাক্কারজনক পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে, যা মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণ।
কয়েক সপ্তাহ পূর্বে ফ্রান্সে বসবাসকারী জনৈক পাকিস্তানী যুবক অবমাননাকর কার্টুন প্রচার করায় ছুরিকাঘাতে শার্লি হেবদোর কয়েকজন কর্মকর্তাকে জখম করেছিল। এই তো সেদিন ফ্রান্সেই বসবাসরত আরেক চেচেনে মুসলমান ছেলে, যার বয়স মাত্র ১৫-১৬ হবে। সে তার স্কুল শিক্ষককে হত্যা করেছে। যে শ্রেণিকক্ষে নিজের ছাত্রদেরকে অবমাননাকর কার্টুন দেখিয়েছিল।
এসব সত্ত্বেও ফ্রান্স এই মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধি করতে পারল না যে, মুসলমান বেদয়াদবি মূলক পদক্ষেপকে কোনোভাবেই বরদাশত করতে পারবে না। এবং এই ইস্যুতে যে কোনো মুসলমান আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে। এখন তারা বেয়াদবিমূলক কাজে আরো অগ্রসর হয়ে ফ্রান্সের সরকারি বিল্ডিংয়ে অবমাননাকর পোষ্টার প্রদর্শন করেছে। যার ফলে পুরো দুনিয়ার মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত লেগেছে। এ ঘৃণ্য পদক্ষেপে মুসলিম দুনিয়া ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। এ ঘটনা হয়েছে তিনদিন হলো। কিন্তু গত দু’দিন যাবত সোশাল মিডিয়ায় এর সর্বাত্মক নিন্দা অব্যাহত রয়েছে।
একদিকে তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ বেয়াদবিমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে কুয়েত ওইসব মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষে, যেখানে প্রতিবাদ স্বরূপ ফ্রান্সের পণ্য এবং খাদ্যদ্রব্য বয়কট করা হয়েছে। এবং দোকান-সুপারশপগুলো থেকে ফ্রান্সের প্রোডাক্টসমূহ তুলে দেওয়া হয়েছে।
রোববার দিন দুপুরবেলা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষ থেকে টুইটারে একটি বিবৃতি সামনে এসেছে। যার মধ্যে তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এই মূর্খতাপ্রসূত আচরণ সম্পর্কে বলেছেন, এই বেয়াদবি সারা বিশ্বের মুসলমানদের অনভূতিতে মারাত্মক আঘাত করেছে।
আমি আশা করছিলাম যে, ইমরান খান যিনি পশ্চিমাদের এধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও কথা বলেছেন। যা প্রশংসনীয়। এবার তিনি ফ্রান্সের পণ্য বয়কট করার ঘোষণা দেবেন এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত ফ্রান্সের দূতকে প্রতিবাদস্বরূপ পাকিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার আদেশ দেবেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি। (আমরাও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এমনটাই আশা করছি।–অনুবাদক।) হয়ত অচিরেই এধরনের পদক্ষেপ সামনে আসবে যার জন্য জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
গতকাল থেকে মুসলিম দেশগুলোর সোশাল মিডিয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু আফসোস, মুসলমান রাজনীতিবিদরা তাদের ক্ষমতার লড়াই নিয়ে ব্যস্ত। আমরা আশাবাদী মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাজনীতিবিদগণ এই ব্যাপারে আওয়াজ তুলবেন এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
আফসোস তো হয় তখন, যখন দলীয় নেতার বিরুদ্ধে কেউ কটূক্তি করলে প্রতিবাদ, হামলা, মামলা ও বিবৃতি দানকারী নেতাদের অভাব থাকে না। কিন্তু বিশ্বজাহানের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবমাননার প্রতিক্রিয়ায় আমাদের রাজনীতিবিদদের চুপ মেরে রয়েছেন।
কেউ আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে একটু জানিয়ে দিন যে, ফ্রান্স কী জুলুম করেছে? কেউ তাদেরকে বলুন যে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানও একজন রাজনীতিবিদ, কিন্তু কেমন সাহসিকতার সঙ্গে তিনি মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। যে অবস্থা আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের, অনেকটা একই অবস্থা মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের। আর এটাই এখন মুসলিম দুনিয়ার সবচে বড় ট্রাজেডি।
ভাষান্তর: সাইফ নূর
















