নাগরিকত্বের জন্য নারী-পুরুষের হ্যান্ডসেক ব্যাধতামূলক করলো ডেনমার্ক, মুসলিমদের প্রতিবাদ

নাগরিকত্ব লাভের জন্য নারী-পুরুষের হ্যান্ডসেক বাধ্যতামূলক করলো ডেনমার্ক। এখন থেকে কোনো নারী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে হ্যান্ডসেক করতে অস্বীকার করলে সে ডেনমার্কের নাগরিকত্ব পাবে না। তবে ডেনমার্কের মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায় এই নৈতিকতা বিরোধী আইনের তীব্র সমালোচনা করছে।

গত বৃহস্পতিবার দেশটির ডানপন্থী জোট সরকার এই আইন পাশ করে। আগামী বছর ১ জানুয়ারি থেকে এই আইন কার্যকর হবে। তখন কোনো ব্যক্তি ডেনমার্কের নাগরিকত্বের আবেদন করলে তাকে সামাজিকিকরণের অংশ হিসেবে অংশ হিসেবে বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে হ্যান্ডসেক করতে হবে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এই বিষয়ে সত্যায়ন গ্রহণ করতে হবে।

ইউরোপের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনের সমালোচনা করছে। তারা বলছে, এই আইনের ধারা বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠিকে টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে। বিশেষত ধার্মিক মুসলিমদের।

ডেনমার্কের মুসলিম ও ইহুদি কমিউনিটিগুলো এই আইনের তীব্র সমালোচনা করছে। তারা বলছে, এই নির্লজ্জতা, অনৈতিক এবং ধর্ম বিরোধী। উল্লেখ্য, ইসলাম ও ইহুদি ধর্ম মতে মানুষ বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে হ্যান্ডসেক করতে পারে না।

গত জুনে এই আইন সংসদে ওঠার পর থেকে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিক এই আইনের বিরোধিতা করে আসছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডেনমার্কের বিভিন্ন গণমাধ্যমের করা জরিপেও ৫২ ভাগ নাগরিক এই আইনের বিরোধিতা করেছে। তবে কট্টর জাতীয়তাবাদী ও অভিবাসন বিরোধী বর্তমান ডানপন্থী সরকার সব মতামত উপেক্ষা করেই এই আইন পাশ করলো।

ধারণা করা হচ্ছে, মুসলিম অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতেই এই আইন করা হয়েছে।

গত আগস্টেও ডেনমার্ক জনসমাগমে নারীর পুরো মুখ ঢেকে রাখে এমন আইন পাশ করে। অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর উপ-পরিচালক (ইউরোপ) ফটিস ফিলিপিও এই আইনের সমালোচনা করে বলেছেন, এই আইনের উদ্দেশ্য যদি নারীর প্রতি বৈষম্য বা সামাজিকিকরণ হয় তবে তা অবশ্যই ব্যর্থ হবে। ডেনমার্ক নারীকে তার পোশাক নির্বাচনের অধিকারকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা দিলো এবং তার স্বাধীনতার নামে তার সঙ্গে উপহাস করলো।

নিউজউইক থেকে আবরার আবদুল্লাহ-এর অনুবাদ

পূর্ববর্তি সংবাদআগামীকাল দেশে ফিরবেন এরশাদ
পরবর্তি সংবাদখোঁটা দেওয়ার কুফল অনেক