আবরার আবদুল্লাহ ।।
সাদপন্থীদের পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে দিন দিন। তবুও থেমে নেই তাদের ধোঁকা, প্রতারণা ও মিথ্যাচার। যদিও এই মিথ্যাচারের পরিণতি বরাবর তাদেরই ভোগ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে উলামায়ে কেরাম কিছুটা বিব্রত ও পেরেশান হলেও চূড়ান্ত পরাজয় হচ্ছে সাদপন্থীদের। তারপরও পেছনের রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে যেতে চায় তারা।
সম্প্রতি ঢাকার দক্ষিণখানে সাদপন্থীদের এমনই একটি প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম. তোফাজ্জল হোসাইনকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি স্থগিতাদেশ দেখিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমার মাঠে সাদপন্থী সন্ত্রাসীদের হামলার পর গত ১৭ ডিসেম্বর স্থানীয় উলামায়ে কেরামের কয়েকজন দক্ষিণখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব এস.এম. তোফাজ্জল হোসাইনের সঙ্গে দেখা করেন। তারা তার সামনে সাদপন্থীদের ভ্রান্তিসমূহ ও টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম তুলে ধরেন। এতে তিনি খুবই ব্যথিত হন এবং দক্ষিণখান ইউনিয়নে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে বলে ঘোষণা দেন। সাথে সাথে উক্ত ইউনিয়নের মসজিদগুলোতে সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

এরপরই প্রতারণার আশ্রয় নেয় সাদপন্থীরা। তারা ২০ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসাইনের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তবে তিনি তাদের কথা শুনতে রাজি না হলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত একটি পরিপত্র (যা ২৪ সেপ্টেম্বর স্থগিত করা হয় এবং এই নির্দেশনা জারি করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উপসচিবকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।) দেখিয়ে জনাব তোফাজ্জলকে বিভ্রান্ত করে।
সাদপন্থীরা সত্য গোপন করে তাকে জানায়, আপনার নির্দেশনা সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থী। তাদের কথার প্রেক্ষিতে তিনি নতুন নির্দেশনা জারি করেন। নতুন নির্দেশনায় তিনি ১৭ ডিসেম্বর জারিকৃত নির্দেশনা স্থগিত করার পাশাপাশি সাদপন্থীদেরও দক্ষিণখানের মসজিদগুলোতে কাজ করার অনুমতি দেন।
সাদপন্থীদের এই প্রতারণা প্রকাশ পেলে উলামায়ে কেরাম ২২ ডিসেম্বর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আবারও দেখা করেন এবং ১৮ সেপ্টেম্বর জারিকৃত পরিপত্র স্থগিত করে ২৪ সেপ্টেম্বর জারিকৃত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রটি দেখান। এতে চেয়ারম্যানের ভুল ভাঙ্গে। তিনি সাদপন্থীদের প্রতারণায় ক্ষুব্ধও হন।
তবুও তিনি পরের দিন উভয়পক্ষকে সাথে নিয়ে বসার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী গতকাল ২৩ ডিসেম্বর বৈঠকে উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন। তবে বৈঠকে সাদপন্থীরা বহিরাগতদের দিয়ে দল ভারি করায় বিষয়টি নিয়ে কিছুটা উত্তেজনার তৈরি হয়।
বৈঠকে সাদপন্থীরা তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে উলামায়ে কেরাম কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মাওলানা সাদের বিভ্রান্তিগুলো স্পষ্ট করেন। তারা জনাব তোফাজ্জল হোসাইনকে ২০ ডিসেম্বর জারিকৃত নির্দেশনার ব্যাপারে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।

উলামায়ে কেরামের দাবির প্রেক্ষিতে গতকাল ২৩ ডিসেম্বর নতুন নির্দেশনা জারি করেন দক্ষিণখানের চেয়ারম্যান। নতুন নির্দেশনায় ২০ ডিসেম্বরের নির্দেশনা বাতিল করার পাশাপাশি দক্ষিণখানের সকল মসজিদে উলামায়ে কেরাম এবং মসজিদের ইমাম-খতিবদের তত্ত্বাবধানে তাবলিগের কাজ পরিচালিত হবে বলে ঘোষণা দেন।
এই বিষয়ে দক্ষিণখানের তাবলিগি সাথী মনসুর তালুকদার বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি বরাবরই উলামায়ে কেরামকে সম্মান করেন এবং এলাকার মাদরাসা-মসজিদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখেন। আজ থেকে ৬ মাস আগে দক্ষিণখানে ওজাহাতি জোড় হলে তিনি তাতে সহযোগিতা করেন এবং দীর্ঘ সময় মঞ্চে উপস্থিত থাকেন। সেদিন তিনি তার আলোচনায় উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে দীনের কাজ পরিচালিত হওয়ার পক্ষে মত দেন। কিন্তু সম্প্রতি সাদপন্থীরা তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আল হামদুলিল্লাহ! চূড়ান্তভাবে তারা তা করতে সক্ষম হয়নি। চেয়ারম্যান সাহেব আবারও উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে তাবলিগের কাজ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।’
















