তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে প্রথম লিখিত চুক্তি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: দীর্ঘ ১৯ বছরের যুদ্ধের অবসানে আফগান সরকার এবং তালেবান প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য লিখিত চুক্তি হয়েছে। শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতে উভয়পক্ষ প্রাথমিকভাবে এই প্রথম একটি লিখিত চুক্তিতে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সময় বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তালেবান এবং আফগান সরকার।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রায় দুই দশক ধরে চলা সংঘাত বন্ধে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তা লিখিত চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগান সরকারের প্রতিনিধি বার্তাসংস্থা রয়র্টাসকে বলেন, ‘যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা লিপিবদ্ধ করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হবে।’

কাতারের দোহায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে আফগান সরকারের প্রতিনিধি ও তালেবান নেতাদের মধ্যে। এতদিন সেই আলোচনা মতবিরোধের কারণে এগোচ্ছিল না। কিন্তু বুধবার যৌথ বিবৃতি দিয়ে সরকার ও তালেবান জানিয়েছে, প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে।

ভবিষ্যতে আলোচনা কীভাবে এগোবে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে কীভাবে আলোচনা হবে, তারই রূপরেখা তৈরি হয়েছে এই প্রাথমিক চুক্তিতে।  খবর ডয়চে ভেলের।

আলোচনায় আফগান সরকারের প্রতিনিধি নাদের নাদেরি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, আলোচনার পদ্ধতি ও প্রস্তাবনা চূড়ান্ত হলো। এ বার নির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুযায়ী আলোচনা চলবে। তালেবান প্রতিনিধিও টুইট করে এই বক্তব্য সমর্থন করেছেন।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হবে। তারা শান্তিচুক্তির এজেন্ডা কী হবে তার খসড়া তৈরি করবে।’

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সাদিক সিদ্দিকি টুইট করে জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিক চুক্তি হলো। এবার মূল বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এর মধ্যে আফগান মানুষের প্রধান দাবি, যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গও আছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দুই পক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘এই চুক্তি হলো মতৈক্যে পৌঁছনোর জন্য দুই পক্ষের নিরন্তর চেষ্টা ও ইচ্ছের যোগফল। দুই পক্ষ যাতে সহিংসতা কমিয়ে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছতে পারে, তার জন্য অ্যামেরিকা চেষ্টা করবে।’

জাতিসংঘের আফগান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জালমে খালিজাদ জানিয়েছেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে তিন পাতার প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক রোডম্যাপ তৈরি ও সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিধিনিয়ম ঠিক করা হয়েছে। সকলে মতৈক্যে পৌঁছেছেন।’

আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনী বনাম তালেবানের মধ্যে লড়াই এখনো চলছে। মাঝে মধ্যেই আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে দোহায় গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের আলোচনা চলছিল। তালেবান প্রথমে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলতেই রাজি ছিল না। তাদের বক্তব্য ছিল, আলোচনা অনেকটা এগোলে এ নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।

গত মাসে একবার মতৈক্যের খুব কাছে পৌঁছেছিল দুই পক্ষ। তালেবানের দাবি ছিল, চুক্তিতে আফগান সরকার কথাটা রাখা যাবে না। কারণ, বর্তমান সরকারকে তারা জনগণের আসল প্রতিনিধি বা ন্যায়সঙ্গত সরকার বলে মানে না। ফলে চুক্তি পিছিয়ে যায়।

এই পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়ে ওয়াকিবহাল এক পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন, ‘দুই পক্ষই কিছু বিবাদের বিষয় পাশে সরিয়ে রেখে এই চুক্তি করেছে। কারণ, দুই পক্ষই জানে পশ্চিমা দেশগুলির আর ধৈর্য থাকছে না। এই দেশগুলি চাইছে, আলোচনা এগোক।’

পাকিস্তান এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘এই চুক্তি প্রমাণ করে দিচ্ছে, দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নিতে চাইছে।’

এসএন

পূর্ববর্তি সংবাদএকদিনে সুস্থ ২৫৯৩, মৃত্যু ৩৫, শনাক্ত ২৩১৬
পরবর্তি সংবাদযে আমল ঋণ ছাড়া সব গুনাহ মিটিয়ে দেয়