মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ।।
গত পরশুদিন ১৯ ডিসেম্বর কওমী মাদরাসার সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ২০২০ এর ফলাফল প্রকাশিত হয়। পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৭২.৬৫। ছাত্রদের পাশের হার ৮২.১০ আর ছাত্রীদের পাশের হার ৫৭.২১।
আল হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার ফলাফল ২০২০ এ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২২,৩৪২ জন, মোট উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬,২৩২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১১,৩৮০ জন এবং ছাত্রী ৪,৮৫২ জন। পাসের হার ছাত্র ৮২.১০, ছাত্রী ৫৭.২১। মুমতায (স্টার মার্ক) পেয়েছে ছাত্র ৯৩৩ জন এবং ছাত্রী ৫৬ জন। জায়্যিদ জিদ্দান (১ম) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৩,৫০০ জন, ছাত্রী ৭৭১ জন। জায়্যিদ (২য়) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৪,৮৯১ জন, ছাত্রী ২,২৮১ জন এবং মাকবূল (৩য়) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ২,০৫৬ জন, ছাত্রী ১,৭৪৪ জন।
মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকারকারী মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ইসমাঈল
ছাত্রদের মধ্যে মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার শরীফ মুহাম্মদ ইসমাইল। ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে চাঁদপুরের কচুয়া থানার বাসিন্দা এ নবীন আলেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে এটা আমার নিজের কোনো সফলতা নয়। মূলত আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণের দোআ, নেক-নজর, মেহনত এবং আমার মা-বাবার উৎসাহ, প্রেরণা ও সহযোগিতার ফলেই এ ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
করোনা মহামারির কঠিন অবস্থার মধ্যেও এমন চমৎকার ফল অর্জনে কিভাবে মেহনত করেছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা শরীফ জানান, বছরের শুরু থেকেই আমি মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য মেহনত করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার সংকল্পের কারণে করোনার সংকট আমার পড়াশোনার ওপর তেমন প্রভাব ফেলেনি। আমি বরং লকডাউনের বিরতিতে নিরিবিলি মুতালার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছি।
ভালো ফল অর্জনে গাইড ও নোটবুক কেন্দ্রিক মানসিকতার প্রসঙ্গে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করে এ মেধাবী তরুণ বলেন, নোটবই পড়ে কেউ হয়ত নগদ ভালো ফল অর্জন করলে করতেও পারে, কিন্তু তার মূল যোগ্যতা ও ইস্তেদাদ তাতে তৈরি হবে না। আদতে এটি তার ক্ষতি বয়ে আনবে বলে আমার উপলব্ধি।’
বর্তমানে এ নবীন আলেম চাঁদপুর ফুলছোঁয়া মাদরাসায় উচ্চতর তাফসীর বিভাগে অধ্যয়ন করছেন। ভবিষ্যতে তিনি তার মুরুব্বীদের পরামর্শে উচ্চতর হাদীস অধ্যয়নের জন্য ঢাকার মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়ায় পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেন।
শিক্ষাজীবন শেষে দেশ, জাতি ও উম্মাহর জন্য কী ধরনের কাজের স্বপ্ন দেখেন- এমন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আসলে আমাদের কওমী মাদরাসার পড়াশোনা তো দেশ ও জাতির কল্যাণের পড়াশোনা। দেশের মানুষের সহযোগিতায় এ মাদরাসাগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে। জাতির এ অবদানের ঋণ পরিশোধের জন্য আমি আমার যোগ্যতা অনুসারে কাজ করব। জাতির জন্য একজন নিবেদিত ও নিরলস কর্মী হবো- এটাই আমার প্রত্যাশা।
এবছরে হাইআর দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার মেধাতালিকায় সারাদেশে ১-১০ম স্থান অধিকারকারী শিক্ষার্থীরা
* শরীফ মো: ইসমাইল ১ম। (আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা)
* মোহাম্মদ সাকের উল্লাহ ২য় (আলজামিআ আলইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম)
* জোবায়ের আহমদ ৩য় (ক) (আলজামিআতুল আরাবিয়া শামসুল উলূম কারবালা মাদরাসা বগুড়া)
* মো: আবু নাঈম ৩য় (খ) (জামিয়া রাব্বানিয়া আরাবিয়া জালকুড়ি, নারায়ণগঞ্জ)
* ফয়জুল্লাহ মুনির ৪র্থ (জামিয়া শরঈয়্যাহ মালিবাগ ঢাকা)
* মো: মাকসুদ ৫ম (জামিআ আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, সূত্রাপুর ঢাকা)
* মো: ওমর ফারুক ৬ষ্ঠ (ক) (আলজামিআতুল ইসলামিয়া কাসেমূল উলূম (জামিল মাদরাসা) বগুড়া)
* হাবিব উল্লাহ বাহার ৬ষ্ঠ (খ) (আলজামিআ আলইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম)
* মো: মাসউদ ৭ম (ক) (আলজামিআ আলইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম)
* মো: সাব্বির আহমেদ সিদ্দীকী ৭ম (খ) (জামিয়া শরঈয়্যাহ মালিবাগ ঢাকা)
* আলমগীর হোসেন জুনাইদ ৮ম (ক) আলজামিআতুল ইসলামিয়া কাসেমূল উলূম (জামিল মাদরাসা) বগুড়া
* মো: মাহবুবুর রহমান ৮ম (খ) দারুল উলূম আলহোসাইনিয়া ওলামাবাজার ফেনী।
* হাফেজ মো: মুঈনুল ইসলাম মুঈন ৮ম (গ) (আল-জামিআতুল ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানীনগর, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)
* মো: শরীফ উদ্দিন ৯ম (ক) (আল-জামিআতুল ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানীনগর, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ)
* আলিমুর রহমান ৯ম (খ) (জামিআতুল উলূমিল ইসলামিয়া, মুহাম্মদপুর, ঢাকা)
* মো: আবুল বাশার ১০ম (ক) (আলজামিআতুল ইসলামিয়া কাসেমূল উলূম (জামিল মাদরাসা) বগুড়া)
* মুহাম্মদ আরেফ জমিল ১০ম (খ) (আলজামিআ আলইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম)
* মো: আবু বকর ১০ম (গ) (আল-জামিআতুল ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানীনগর)
* মো: ইমরান আহমদ ফেরদৌস ১০ম (ঘ) (আল-জামিআতুল ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানীনগর)
* মোহাম্মাদুল্লাহ মাসরুর ১০ম (ঙ) (জামিয়া ইসলাময়িা দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী)
* মো: ফয়েজুল ইসলাম ১০ম (চ) (জামিআ রাব্বানিয়া আরাবিয়া, জালকুড়ি নারায়নগঞ্জ)
* মুহাম্মাদ আব্দুল মুমিন সেলিম ১০ম (ছ) (জামিয়া মুহাম্মদিয়া ইসলামিয়া কড়াইল টি এন্ডটি কলোনি গুলশান)
যেসকল মাদরাসার শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় অধিক সংখ্যক স্থান লাভ করেছে
করোনা মহামারির মধ্যেও এবারের হাইআর দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষায় পাসের হার ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৭২.৬৫। ছাত্রদের পাশের হার ৮২.১০ আর ছাত্রীদের পাশের হার ৫৭.২১। এখানে যেসকল মাদরাসায় অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান লাভ করেছে সেগুলির নাম উল্লেখ করা হলো।
১. জামিয়া শরঈয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা। মাদরাসাটিতে মেধাস্থান অর্জনকারী ছাত্রের সংখ্যা ১৪।
২. আল-জামিআতুল ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানীনগর, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। মেধাস্থান অর্জনকারী ছাত্র ১১ জন।
৩. আলজামিআতুল ইসলামিয়া কাসেমূল উলূম (জামিল মাদরাসা) বগুড়া। মেধাতালিকা স্থান লাভকারী ছাত্রসংখ্যা ৯।
৪. জামিয়া রাব্বানিয়া আরাবিয়া, জালকুড়ি, নারায়ণগঞ্জ। মেধাস্থান অর্জনকারী ছাত্র ৯
৫. জামিআ আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, সূত্রাপুর ঢাকা। মেধাস্থান অর্জনকারী ছাত্র ৮জন।
৬. আলজামিআ আলইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম। মেধাস্থান অর্জনকারী ছাত্র ৮।
৭. বাইতুল উলুম ঢালকানগর ঢাকা, মেধা স্থান অর্জনকারী ৮।
৮. আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী,চট্টগ্রাম
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা
জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী, ঢাকা। এ তিনটি মাদরাসায় মেধাস্থান অর্জনকারী ছাত্র সংখ্যা ৬।
৯. জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা, জামিয়াতুস সুন্নাহ শিবচর মাদারীপুর, জামিয়া রাহমানিয়া আলী এন্ড নূর রিয়েল এস্টেট, মুহাম্মদপুর এবং জামিআতু ইব্রাহীম মাহমুদ নগর ডেমরা মাদরাসাসমূহে মেধাতালিকায় স্থানলাভকারী ছাত্র সংখ্যা ৫।
এছাড়াও দেশের আরো বহু মাদরাসার শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় স্থান লাভ করেছেন।
ছাত্রীদের মধ্যে মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান অধিকারকারী:
এক. ছাত্রীদের মেধা তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকার ফাতেমাতুজ্জুহরা (রা.), সাত মসজিদ হাউজিং, মোহাম্মদপুর মাদরাসার নাঈমা হুসাইন।
দুই. ২য় স্থান অধিকার করেছে ঢাকার জামি’আ মিল্লিয়া মাদানিয়া আরাবিয়া মিরপুর আজমা মহিলা মাদরাসার মারিয়া তাবাস্সুম।
তিন. ৩য় স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে ২ জন; ময়মনসিংহের মিফতাহুল জান্নাত গলগন্ডা মহিলা মাদরাসার সানজিদা সাউদা এবং শরীয়তপুরের বেগম লুৎফুন্নেছা মহিলা মাদরাসার সাওদা আখতার।
চার. ৪র্থ স্থান অধকিার করেছে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার রিফাত জাহান জেরিন।
পাঁচ. ৫ম স্থান অর্জন করেছে জামিয়া মিল্লিয়া মাদানিয়া আরাবিয়া (মিরপুর আজমা মহিলা মাদরাসা) পল্লবীর আয়েশা সিদ্দিকা বুশরা।
ছয়. ৬ষ্ঠ স্থান র্অজন করছেে উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদরাসা ভাটারা ঢাকার ফাহিমা আলম।
সাত. সপ্তম স্থান অধিকার করেছে যৌথভাবে তিনজন। উম্মে হানি বালিকা মাদরাসা ও এতিমখানার আছমাউল হুছনা তাবাচ্ছুম। আলহুদা মহিলা মাদরাসা, মীরের হাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রামের মোছাম্মদ কানিজ ফাতেমা মিলি এবং একই মাদরাসার হালীমাতুস সাদিয়া।
আট. অষ্টম স্থান অধকিার করছেে জাময়িা মল্লিয়িা আয়শো সদ্দিকিা ললিবানাত পল্লবীর ফারিহা আক্তার ৮ম।
নয়. নবম স্থান অধকিার করছেে আয়েশ সিদ্দিিকা রা. মহলিা মাদরাসা স্বল্প মারিয়়া, সদর কিশোরগঞ্জ এর মাইমুনা আক্তার।
দশ. দশম স্থান অধিকার করেছে আলজামিআতুল ইসলামিয়া রানাভোলা, উত্তরা ১০নং সেক্টর এর তাজমিরা বদরুন।
(বি.দ্র. এই প্রতিবেদনে সীমিত সাধ্যের মধ্যে ছোট্ট পরসংখ্যান বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতি খুঁজে পেলে ইসলাম টাইমসকে মেইলে অবহিত করার বিনীত অনুরোধ রইল।)
-এসএন
















