ইসলাম টাইমস ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতির কথা বলে এ বছরের নয় মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পর এবার এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য ফেব্রুয়ারিতে স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জুনে এসএসসি এবং জুলাই-আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর এ দু’টি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আগামী ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলারও ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল- এই সময়কালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে পড়ানোর উদ্যোগ নেবো, সেই চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি যদি অনুকূলে থাকে ২০২১ সালের জুন নাগদ এই পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করবো। স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা করবো। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণি যেন নতুন সিলেবাসে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করে পরীক্ষা দিতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত হয়তো ক্লাসরুমে নিয়ে ক্লাস করানো হবে। কাস্টমাইজ সিলেবাস ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জানিয়ে দিতে পারবো। জুলাই-আগস্ট নাগাদ এই পরীক্ষা নেওয়ার আশা প্রকাশ করছি।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। দফায় দফায় বাড়ানো হয় এই ছুটি। সবশেষ আরেক দফা বাড়িয়ে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ১৬ মার্চ থেকে প্রত্যক্ষ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ২০২১ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ করা সম্ভব হয়নি। সিলেবাস কাস্টমাইজ করার কার্যক্রম চলছে। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে জানাতে পারবো। পরের স্তরে যেতে যেগুলো প্রয়োজন সেগুলোকে মাথায় রেখে সিলেবাস কাঁটছাট করে ছোট করা হবে, সেটি আমরা জানিয়ে দেবো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল- এই সময়কালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে পড়ানোর উদ্যোগ নেবো, সেই চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি যদি অনুকূলে থাকে ২০২১ সালের জুন নাগদ এই পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করবো। স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা করবো। দশম ও দ্বাদশ শ্রেণি যেন নতুন সিলেবাসে ক্লাসে ক্লাস করে পরীক্ষা দিতে পারে।
‘এইচএসসির ফলাফল তৈরি হয়ে আছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। অধ্যাদেশ হয়ে গেলে সাথে সাথে ফল প্রকাশ করা যাবে। ’
বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই সব শিক্ষার্থীদের পাস করানোর জন্য এই অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
জেএসসি এবং এসএসসি’র ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
গত ৭ই অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন যে এবছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।
মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমানের পাঠ্যসূচী অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সমন্বয়কৃত মূল্যায়ন করে একটি গ্রেড নির্ধারণ করা হবে।
এক্ষেত্রে আট সদস্য বিশিষ্ট যে পরামর্শক কমিটি করা হয়েছে তাদের পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে কোন বিষয় কোন বিষয়ের সঙ্গে প্রতিস্থাপন করে গ্রেড নির্ধারণ করা হবে।
তবে সনদে প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ থাকবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
ফলাফলে কোন শিক্ষার্থী সংক্ষুব্ধ হলে রিভিউ চেয়ে নিজ নিজ বোর্ডে আবেদন করতে পারবেন।
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা না হওয়ায় ফরম পূরণ বাবদ আদায়কৃত অর্থের অব্যয়িত অংশ ফেরত দেয়া হবে।
ফল প্রকাশের পরই প্রত্যেক বোর্ড ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেয়া হবে।
















