ফিলিস্তিন সংগ্রামের নতুন প্রতীক আহেদ তামিমিকে সম্মান জানাল রিয়াল মাদ্রিদ

এবার তুরস্কের এরদোগান বা কাতারের আমির নয়, ইসরাইলি দখদারিত্বের মুখে সজোরে চপেটাঘাত করল জনপ্রিয় স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। সারা পৃথিবী যখন ঘৃণা ছুড়ে দিচ্ছে জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের দিকে তখন খ্রিষ্টান অধ্যুষিত স্পেনের এ ক্লাবটিও পিছিয়ে রইল না।

সম্প্রতি ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ সম্মান জানায় ইসরাইলি দুই সেনার গালে চড় মেরে ফিলিস্তিনে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠা কিশোরী আহেদ তামিমিকে। ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর ১৭ বছরের তামিমিকে মাদ্রিদে আমন্ত্রণ জানান ক্লাবটির কর্মকর্তারা। আমন্ত্রণের এ ঘটনাটি সারা পৃথিবীর ইসরাইলবিরোধী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

তামিমি ও তার বাবা বাসিম তামিমি গত সেপ্টেম্বর মাসে ২৯ তারিখে স্পেনের সান্তিয়াগো বার্নাবু স্টেডিয়ামে যান। সেখানেই ক্লাবটির সাবেক স্ট্রাইকার ও রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান পরিচালক এমিলিও বুতারাগুইনো তাঁকে স্বাগত জানান। তিনি তামিমিকে একটি ব্যক্তিগত জার্সি উপহার দেন। বিভিন্ন কনফারেন্সে বক্তব্য দেয়ার জন্য স্পেন ছাড়াও ইউরোপের কয়েকটি দেশ সফর করবেন তামিমি।

স্পেনে তামিমিকে সম্মান জানানোর পর ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইমানুয়েল নেসন টুইটারে একে ‘বিব্রতকর’ অবস্থা বলে উল্লেখ করেছেন। ইমানুয়েল নেসন টুইট করে বলেন, রিয়াল মাদ্রিদ একজন সন্ত্রাসীকে অতিথি করেছে। এর সঙ্গে ফুটবলের কী সম্পর্ক, তা জানি না।

ফিলিস্তিনের সাহিত্যিক রামজি বারোদ বলেন, তামিমি ফিলিস্তিনের বিদ্রোহী যুবকদের আইকনে পরিণত হয়েছেন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিম তীরের নবী সালেহ গ্রামে নিজেদের বাড়ির সামনে ইসরাইলের সেনাদের দেখে নিজেকে আর সংযত করতে পারেননি তামিমি। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে মেয়েটি ইসরাইলি সেনাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। প্রতিবাদে চিৎকার করতে থাকেন। সেনারা তাকে সরে যেতে বলে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি চলতে থাকে দুই পক্ষের মধ্যে। একপর্যায়ে এক  ইসরাইলি সেনার গালে চড় মারেন কিশোরী তামিমি। এরপরই শুধু পশ্চিম তীর নয়, গোটা ফিলিস্তিনেই তামিমি প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠেন।

কিশোরীর সেই চড় হজম করতে পারেনি ইসরাইলি সেনাসদস্যরা। ঘটনার কিছু সময় পর কিশোরী তামিমিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় তাঁরা। পরের দিন তার বাড়িতে হানা দিয়ে তছনছ করে সব। এ ঘটনায় সারা পৃথিবীতে তামিমির মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পুলিশ স্টেশনে গেলে মা নারিমান আল তামিমিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এর আট মাস পর এ বছরের জুলাইয়ে মা-মেয়ে মুক্তি পান। #

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

পূর্ববর্তি সংবাদদুই সপ্তাহের করুণা, দুই হাজার বছরের স্বপ্নসাধ
পরবর্তি সংবাদচীনের উইঘুর মুসলিমদের ওপর নীরবে চলছে নিপীড়ন