`ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বাক্যটি এই উম্মতের বৈশিষ্ট্য

লিসানুল হক ।। 

১. হজরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের রহ. বলেন, ইন্না লিল্লাহ পড়ার নির্দেশনা শুধু এই উম্মতকেই দেয়া হয়েছে। এই নেয়ামত থেকে পূর্বযুগের নবী ও উম্মতগণ বঞ্চিত ছিলেন। হজরত ইয়াকুব আ. সংকটকালে ياأسفي علي يوسف বলতেন। (ইবনে কাসির, ৩/১০)

২. একবার রাসুল সা.-এর জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে তিনি ইন্না লিল্লাহি পড়লেন। সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, এটাও মুসিবত?

রাসুল সা. বললেন, মুমিনের উপর যে অপছন্দনীয় কাজই পতিত হয় সেটাই মুসিবত। (তাবরানি আবু উমামার বর্ণনায়)

৩. হজরত ইবনে আব্বাস রা. রাসুল সা. থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি মুসিবতের সময় ইন্না লিল্লাহি পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার মুসিবত দূর করে দিবেন। তাকে পরকালে কল্যাণ দেবেন এবং তার হারানো/নষ্ট হওয়া বস্তুর বদলে উত্তম বস্তু দান করবেন। (দুররে মনসুর)

৪. হজরত উম্মে সালমা রা. বলেন, আমার স্বামী আবু সালমা একদা রাসুল সা.-এর কাছ থেকে আমার কাছে এলেন এবং খুব আনন্দের সাথে বলতে লাগলেন, আজকে তো আমি এমন হাদীস শুনেছি যে, আমি খুবই খুশি হয়েছি। হাদীসটি হলো, যে কোন মুসলমান ব্যক্তি যদি কোন কষ্ট পায় এবং মুসিবতে পড়ে তাহলে সে এই দুআ পড়বে– اللهم اْجرني في مصيبتي واخلف لي خيرا منها– হজরত উম্মে সালমা বলেন: আমি দুআটি মুখস্থ করে নিলাম।

৫.হজরত আলি রা. রাসুল সা. থেকে বর্ণনা করেন, যে মুসলমানের উপর কোনো বিপদ আপদ আসে, যদিও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হবার পর তার মনে পড়ে এবং সে ইন্না লিল্লাহি পড়ে নেয়; তখন বিপদে ধৈর্যের সময় যে পুরস্কার পেয়েছিল, এখনও সেই পুরস্কার পাবে। (মুসনাদে আহমদ)

৬. হজরত আবু সিনান রা. বলেন, আমি আমার এক শিশুসন্তানকে দাফন করলাম। কবর থেকে উঠার সময় আবু তালহা খওলানি আমার হাত ধরে বের করলেন এবং বললেন, শোনো, আমি তোমাকে সুসংবাদ শোনাচ্ছি।

রাসুল সা. বলেন, আল্লাহ তাআলা মালাকুল মউতকে জিগ্যেস করেন, তুমি আমার বান্দার চোখের শীতলতা আর তার কলিজার টুকরা কেড়ে নিয়েছ। বল সে কী বলেছে? মালাকুল মউত বলেন, প্রভু, সে তোমার প্রশংসা করেছে আর “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়েছে।

তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করো এবং ওই ঘরের নাম রাখো বায়তুল হামদ। (ইবনে মাজাহ, তাফসিরে ইবনে কাসির, ১/২২৮)

পূর্ববর্তি সংবাদযৌন হেনস্থার অভিযোগে এম জে আকবরের পদত্যাগ
পরবর্তি সংবাদকোনো এক বিকেলকে