আবু তাশরীফ ।।
বায়তুল মোকাররমের দিক থেকে পুরানা পল্টনে যাওয়ার রাস্তাটায় সবচেয়ে বড় ভবন ছিল হাউজ বিল্ডিং। সরকারি গৃহঋণ সংস্থা। দশতলা ভবন। ওই হাউস বিল্ডিংয়ের নামেই অনেকে জায়গাটা চেনাতো। রিকশা ঠিক করত, বাস থেকে উঠা-নামা করত। ওই একটা ভবন ছাড়া আর সব বাড়ি-ঘর ছিল একতলা-দোতলা। পুরনো ধাঁচের বাড়ি। কাঠের গেট। লোহার বাঁকানো সিঁড়ি। বাড়ির ভেতরে ছোট্ট বাগান। ঝোপঝাড়, কলাগাছ। এই তো আশির দশকের কথা। আমার চোখেই দেখা। আরও আগে ছিল আরও অন্যরকম।

পুরানা পল্টনের সেই পুরনো দিনটা এখন আর নেই। স্মৃতির ছবিগুলোর বুকে এখন ভবনের খোপ। আকাশ-অন্ধকার করা উঁচু ইমারত। ভীড়ের পথচলা। পেছনের কথা মনে এলেই ঝুপ করে হাহাকার বুকের মধ্যে ঢুকে পড়ে। বড় রাস্তার মুখে ছিল দুটি টিনশেড হোটেল, পাশাপাশি। বিকেল থেকেই ভাজা হতো মুচমুচে পুরি। প্রথমে আটানা, পরে একটাকা। চারটা পুরির পর এককাপ চা- যে কোনো পাঁচ তারকা বুফের চেয়েও যেন দামি।
![]()
সেই টিনশেড কবে ‘উড়ে’ গেছে। ছিল বিত্তবান বিহারী পরিবারের কিছু হলুদরঙা ছোট বারান্দার বাড়ি। সেসবের গোরস্তানে এখন পরিকল্পিত বহুতল। ছিল রাস্তায় কম মানুষজন, টুং টাং রিকশার বেল। হঠাৎ হঠাৎ একটি-দুটি কচ্ছপমুখী প্রাইভেট গাড়ি। শান্ত-নীরব পথ। এখন সেখানে ক্রমেই বাড়তে থাকা ভীড়ের চাপ। উঁচু ভবনের অন্ধকারে ধাবমান জীবন। আবার এর মধ্যেই কঙ্কালের মতো দাঁড়ানো দুয়েকটি প্রাচীন বাড়ি-ভবন। পুরানা পল্টন।
অদ্ভুত, এত এত বদলে গেলেও পুরানা পল্টনে এখনো আপন আঙিনার চেনাগন্ধটা হারিয়ে যায়নি। পুরানা মানুষ, পুরানা মুখ আর পুরানা প্রাণের একটা আবহ ঠিকই ধরে রেখেছে এই পুরানা পল্টন। লেখক, শিল্পী, কর্মী, নেতা আর মফস্বল থেকে আসা বহু মাদরাসার দায়িত্বশীলের সঙ্গে পথের বাঁকে দেখা হয়ে যায়। কিছু ইসলামি দলের অফিস, প্রেস-ডিজাইন হাউজ, চেনা মানুষের আনাগোনায় পুরানা পল্টনের টানটুকু যেন এড়ানোই যায় না।
একসময় ঢাকার অভিজাত এই এলাকায় এখন ব্যবসাপাতির আয়োজনই বেশি। কাগুজে পণ্যের বাহারি দোকান। সঙ্গে কিছু অফিস-দফতর। আবাসিক ভবনগুলো যেন কুন্ঠিত দাঁড়িয়ে। মধ্য ঢাকায় বায়তুল মোকাররম ছোঁয়া এই এলাকাটি নানা উপলক্ষে এখনো দ্বীনপ্রাণ মানুষের একটি মিলনমোড়, সাক্ষাৎকেন্দ্র। মায়াবী হাতছানি।
















