মালয়েশিয়ায় হাফেজদের সমাবর্তন

মুকিম আহমাদ  ।।  মালয়েশিয়া থেকে

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর প্রদেশে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হলো হাফেজ ছাত্রদের সমাপনী অনুষ্ঠান ‘মজলিস কনভোকেশন হুফফাজ ২০১৮’ বা হুফফাজ সমাবর্তন অনুষ্ঠান। গত রবিবার (২৮ অক্টোবর) প্রদেশটির নিবন্ধিত ২৩৮টি তাহফিজ ইনস্টিটিউট থেকে সাত শ’রও অধিক হাফেজকে (বালক/বালিকা) তাহফিজ সমাপনের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশটির প্রধানমন্ত্রী আমীরুদ্দীন শারঈ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত তাহফিজ ইনস্টিটিউট সংগঠন PITAS-এর শূরা সদস্যগণ। হাফেজদের সমাবর্তনের অনুষ্ঠান দিনভর দেশটির বিভিন্ন জাতীয় চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘আসমাউল হুসনা’ সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর হাফেজগণ তাদের নির্ধারিত পারা থেকে তেলাওয়াত করেন। দিনভর তেলাওয়াত শেষে সনদ প্রদান করা হয় দুটি শ্রেণিবিন্যাসে। প্রথম শ্রেণি: সম্প্রতি হিফজ শেষ করেছেন যারা, তাদের দেয়া হয় সিজ্জিল বা সনদপত্র। দ্বিতীয় শ্রেণি: অনুষ্ঠানে যারা ‘তাসমি’ বা শুনিয়েছেন তারা পেয়েছেন শাহাদাহ বা প্রত্যয়নপত্র।

PITAS কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদককে জানান, সেলাঙ্গর প্রদেশে ১৭,৬৪৫ জন ছাত্র কুরআন হিফজ করছেন। হিফজকারী এই ছাত্রদের জন্য রয়েছেন ১,৮৩৮ জন নিবন্ধিত শিক্ষক। হাফেজ ছাত্ররা প্রত্যেকেই ১,২০০ রিঙ্গিত করে বৃত্তি পেয়ে থাকেন।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতি তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো, একটি কুরআনময় প্রজন্ম প্রতিপালন করা, যারা সমাজের বৈধ চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।’

উল্লেখ করার বিষয় হলো, মালয়েশিয়ায় কুরআন হিফজের প্রতি মানুষের প্রচণ্ড আগ্রহ থাকায় সন্তানদের দীর্ঘ একটা সময় আবাসিক মাদরাসায় রাখতে হয়। তবে হিফজ সম্পন্ন করে কোনো ছাত্র যেন অন্য পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে এজন্য আলাদা ইসলামিক কলেজ (KUIS) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যাতে হাফেজ ছাত্র-ছাত্রীরা এ কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়ে প্রচলিত পড়াশোনার সুযোগ পান।

পূর্ববর্তি সংবাদপাকিস্তানের স্কুল সিলেবাসে থাকবে খতমে নবুওয়াত বিষয়ক প্রবন্ধ
পরবর্তি সংবাদআবুধাবিতে ইসরাইলি নারী মন্ত্রীর মসজিদ পরিদর্শন ও আনন্দ অশ্রু