অভুক্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া একজন আজহার মাকসুসি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক ।।  তার নাম পুরো নাম সৈয়দ উসমান আজহার মাকসুসি। ভারতের হায়দারাবাদের এই ব্যক্তিকে চেনে না, শহরে এমন লোক নেই। বিশেষত গরিব-দুঃখীদের কাছে তিনি প্রবাদপ্রতীম ব্যক্তি। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি সমানভাবে আদৃত।

কী কারণে এমন সর্বজনমান্য ব্যক্তি হলেন আজহার মাকসুসি?

হায়দারাবাদের এই আজহার মাকসুসি নিজ গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রতিদিন খাবার খাওয়ান প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ অনাহারী মানুষকে! বিগত ছয় বছর ধরে তিনি তার ভ্রাম্যমাণ লঙ্গরখানা চালিয়ে আসছেন ভারতের হায়দারাবাদসহ বিভিন্ন শহরে।

শুধু এক জায়গায় নয়, প্রায়ই তিনি ও তার স্বেচ্ছাসেবীরা হায়দারাবাদ শহর এবং শহরের বাইরে হাসপাতাল, রেলে স্টেশন, ফুটপাতে অভুক্ত থাকা মানুষদের খাবার দিয়ে আসে।

‘আমার বাবা যখন মারা যায় তখন আমার বয়স মাত্র চার বছর। তখন এমন বহুদিন গেছে যখন আমি এবং আমার পরিবার না খেয়ে রাত কাটিয়েছি।’ এভাবেই নিজের শৈশবের কষ্টকর অতীতের স্মৃতিচারণ করছিলেন আজহার মাকসুসি।

‘একদিন রাস্তার পাশে এক ক্ষুধার্ত মহিলাকে খাবার খুঁজতে দেখে আমি এগিয়ে যাই। তখন আমি কেবল অল্প পরিমাণ রোজগার শুরু করেছি। আমি আমার পকেটের টাকা দিয়ে তাকে খাবার কিনে দেই। সেদিন প্রথম আমি প্রতিজ্ঞা করি-আমি যতটুকু পারি, মানুষের ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করবো।’ নিজের প্রতিজ্ঞার কথা এভাবেই ব্যক্ত করেন তিনি।

সাত বছর আগে যখন তিনি দরিদ্র মানুষদের খাবার খাওয়ানো শুরু করেন, তখন তার আয় ছিল সামন্য। সামান্য আয় দিয়েই তিনি যথাসম্ভব চেষ্টা করতেন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে আহার তুলে দিতে।

তার একার উদ্যোগে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে থাকে সাধারণ মানুষ। সবাই কিছু না কিছু অংশগ্রহণ করতে থাকে। এভাবে একসময় তার একার উদ্যোগ পরিণত হয় শত শত মানুষের ভালোবাসার উদ্যোগে।

‘তখন আমি এই খাবার বিতরণ কার্যক্রমকে আরও বাড়াতে থাকি। বিশেষত হায়দারাবাদের গান্ধি জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০০ লোকের খাবার পাঠানো হয়। এছাড়া শহরের দেবীরূপা এলাকার আশেপাশে যারা ক্ষুধার্ত থাকে তারাও এখান থেকে খাবার পায়।’ তিনি বলছিলেন।

আজহার মাকসুসি তার এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের আরও কয়েকটি শহরে। বেঙ্গালুরু, রায়চুর, তান্ডোর এবং ঝাড়খণ্ড ও আসামেও ছড়িয়ে পড়েছে তার এই ফ্রি খাবার বিতরণ উদ্যোগ।

‘প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ মানুষ এই উদ্যোগে ফ্রি খাবার পাচ্ছে। তবে আমি চাই আমি যেন আরও মানুষকে খাবার দিতে পারি। ভারতের একজন মানুষও যেন ক্ষুধায় কষ্ট না করতে হয়।’ নিজের প্রত্যয়ে অবিচল আজহার মাকসুসি।

দরিদ্র ও অভুক্ত মানুষের জন্য এই অনন্য উদ্যোগে আপ্লুত হয়েছে ভারতের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চশ্রেণির মানুষও। এরই মধ্যে বলিউডের বড় বড় অভিনেতারা আজহার মাকসুসির এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তার এই স্বেচ্ছা প্রণোদনার কাজকে আরও বেগবান করতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন থেকে দেয়া হয়েছে একাধিক পুরষ্কার।

পূর্ববর্তি সংবাদবগুড়ায় মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার
পরবর্তি সংবাদআসিয়া বিবি ইস্যুতে বিক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মিছিলে গুলি, অনির্দিষ্ট কালের হরতাল