নির্বাচনী প্রচার : প্রার্থীদের করণীয় ও বর্জনীয়

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : বিভিন্ন দলের চূড়ান্ত মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাচ্ছেন আজ।  প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন তারা।

নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হবে। প্রচারণার বন্ধ করতে হবে ভোটগ্রহণ শুরু ৩২ ঘণ্টা আগে। অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত। সে হিসেবে এবার প্রার্থীরা ১৯ দিন প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।

তবে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর বিধি-নিষেধ অনুযায়ী প্রার্থীরা যা করতে পারবেন এবং যা করতে পারবেন না তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো,

১. নির্বাচনী পোস্টারের সাইজ দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যানার কোনভাবেই তিন মিটারের বেশি হবে না। পোস্টার রঙ্গিন করা যাবে না। পোস্টারে প্রার্থী ছাড়া দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে এবং তা দড়িতে ঝুঁলিয়ে প্রচার করতে হবে।

২. ৪শ’ বর্গফুট এলাকার বেশি বড় কোনো প্যান্ডেল করে প্রচার চালানো যাবে না।

৩. কাপড়ের তৈরি ব্যানার করে প্রচার চালানো গেলেও ডিজিটাল ডিসপ্লে ব্যবহার করা যাবে না।

৪. জনসাধারণের চলাচলের অসুবিধা হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে হবে।

৫. প্রচারের অংশ হিসেবে যে কোনো প্রকার দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটানো দণ্ডনীয় অপরাধ।

৬. মাইকে প্রচার চালানো যাবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। পাশাপাশি একই নির্বাচনী এলাকাতে কোনো অবস্থাতেই তিনটির বেশি লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।

৭. নির্বাচনী এলাকায় প্রতি ইউনিয়ন আর পৌর এলাকার ওয়ার্ড প্রতি একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প করা যাবে না।

৮. মোটর সাইকেলসহ যে কোনো মোটরগাড়িতে করে মিছিল, মশাল মিছিল বা শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৯. কোনো প্রকার বিদ্যুতিক আলোকসজ্জা করা যাবে না।

১০. নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণীর ব্যবহার নিষিদ্ধ।

১১. প্রচারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

১২. কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অন্য কোন প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনা ব্যক্তি সম্মানহানিকর কিছু করতে পারবে না। উস্কানিমূলক কোনো বক্তব্যও দেয়া যাবে না।

১৩. প্রচারণায় সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সব সুবিধা ত্যাগ করে প্রচার কাজে অংশ নিতে হবে। ডাক বাংলো, সরকারি গাড়ি ব্যবহারসহ প্রটোকল ছেড়ে এলাকায় যেতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ আইনে অনুমতি থাকায় নিরাপত্তার কারণে প্রটোকল পাবেন। দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৬৭ জন ও বাকি ৪৯৮ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। গত ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন ৫৪৩ জন। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২৪৩ জন। এ ছাড়া রোববার উচ্চ আদালতে রিট করে আরও কয়েকজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার রায় পেয়েছেন।

পূর্ববর্তি সংবাদপ্রতীক পাচ্ছেন প্রার্থীরা, শুরু হচ্ছে মাঠের লড়াই
পরবর্তি সংবাদআজ রাতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন এরশাদ