পুলিশকে কি আপনারা রাস্তায় রাস্তায় আক্রমণ করতে, বাধা দিতে দায়িত্ব দিয়েছেন? : ইসিকে ড. কামাল

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘অবিলম্বে পুলিশকে তাদের পরিপন্থী কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলুন। ইসিকে বলছি, পুলিশকে কি আপনারা রাস্তায় রাস্তায় আক্রমণ করতে, বাধা দিতে দায়িত্ব দিয়েছেন? রাস্তায় রাস্তায় কেন এত পুলিশ, কিসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি এমন অবস্থায় চলে গেছে যে, রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকবে? এটাকে যদি কেউ সুশাসন বলে, তবে আমি বলবো সে মিথ্যা বলছে। এর মধ্যে সুশাসন আছে যে বলবে, আমি বলবো সে মিথ্যুক। উচিৎ কথা বলছি। পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে এ কথা বলবো। পারলে ধরে নিয়ে যান আমাকে।’

বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে ‘৭০তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০১৮’ ও বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘মানবাধিকার, সুশাসন ও ভোটাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফেডারেশন।

সরকারের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, ‘লাখ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন সংবিধান পেয়েছি। এটা ভুলে গেলে চলবে না। তথাকথিত নির্বাচনে যদি আপনারা ৩০০ সিট চান তাহলে বলেন, আমরা দিয়ে দেই। আপনারা চান— আমরা দিয়ে দেই। সবাই হাত তুলে সম্মতি জানিয়ে দিয়ে দেই। আপনারা তো ইতোমধ্যে বলেছেন— অসম্পন্ন কাজ করতে আরও পাঁচ বছর (ক্ষমতায়) থাকতে চান। ওই পাঁচ বছর পর অসম্পন্ন কাজ থাকলে বলেন— প্রয়োজনে আরও পাঁচ বছর সময় আপনাদের দেওয়া হবে। এটা নির্বাচনের নামে প্রহসন।’

ড. কামলা বলেন, দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন হচ্ছে। সরকার পুলিশকে মানুষের ওপর লেলিয়ে দিয়েছে। পুলিশকে ব্যবহার করে যেভাবে হয়রানি, গ্রেফতার করা হচ্ছে তা সংবিধানপরিপন্থী। তফসিল ঘোষণার পরও পুলিশ যেভাবে গ্রেফতার চালাচ্ছে সেটি লজ্জাকর। এর জন্য ক্ষমতাসীনদের শাস্তি পেতে হবে। এখানে কোনোভাবে পার পেলেও পরকালে পার পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান ও অনুরোধ জানিয়ে ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আর যে ১০ দিন আছে, এই সময়ে দেশের মানুষ ও স্বাধীনতার জন্য নির্বাচন কমিশন ক্ষমতার পুরোপুরি ব্যবহার করুন, নিজেদের ক্ষমতাকে কাজে লাগান। সরকার যদি পরিপন্থী কিছু করে, তবে তা থেকে বিরত রাখার, আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা আপনাদের (ইসি) আছে। পুলিশকে সরান। পুলিশ যেভাবে ভয়ভীতির সৃষ্টি করছে, এটা থেকে মানুষকে রক্ষা করা অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি। ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দেবে, এটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। এগুলো আপনাদের (ইসি) অবশ্যই জানা আছে। তবুও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আপনাদের (ইসি) ক্ষমতাগুলো কাজে লাগান।’

ড. কামাল বলেন, ‘যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তবে দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আমি দেখতে পাচ্ছি। আর তা না করে যদি নির্বাচনকে আঘাত দেওয়া হয় ভয়াবহ পরিণতি হবে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যে মানবাধিকারের কথা আমরা বলছি, সংবিধানে সে কথা স্পষ্ট করে বলা আছে যে, সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে পারবে না, পুলিশের এই ভূমিকা থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত সংবিধানে মানবাধিকার, আইনের শাসনের কথা যেভাবে বলা আছে, সেগুলো লঙ্ঘন করলে তাদের অসম্মান করা হয়, স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হয়।’

কামাল বলেন, স্বাধীন দেশে মানুষ যদি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে ব্যর্থ হয়, তবেই এটা স্বাধীনতার ওপরে আঘাত। এই আঘাত দেওয়া উচিৎ না। কেননা, এই আঘাত দেশদ্রোহিতার শামিল। কেউ যদি মনে করে দেশদ্রোহিতা করে পার পেয়ে যাবে, তবে তাদের বলছি, পুলিশের অপব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।’

ফেডারেশনের সভাপতি ড. মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন— সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদ প্রমুখ।

পূর্ববর্তি সংবাদধানের শীষের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
পরবর্তি সংবাদস্বচ্ছতা : মুমিনের বড় গুণ