বিভিন্ন সময় ভোটের মাধ্যমেও অনেক সুফল এসেছে: মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ

মারকাযুদ্দাওয়া আলইসলামিয়া ঢাকার রঈস, মাসিক আলকাউসার সম্পাদক মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ নির্বাচনের সময় ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে ভোট দিতে উৎসাহিত করে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। ইসলাম টাইমসসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রবন্ধটি প্রকাশ হয়। গণতন্ত্রের মতো শরিয়তবিরোধী একটি মত-ধারণা এবং সেই গণতন্ত্রের উপলক্ষ-নির্বাচনের বিষয়ে তিনি কোন যুক্তিতে উৎসাহিত করলেন? ভোটাররা কোন কোন বিবেচনা সামনে নিয়ে ভালো, মন্দের ভালো কিংবা কম মন্দ প্রার্থী বাছাই করবেন – এসব বিষয় নিয়ে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে তাঁর সামনাসামনি হয়েছিলেন আবু তাশরীফ


 

ইসলাম টাইমস : সম্প্রতি নির্বাচন বিষয়ক আপনার একটি প্রবন্ধে আপনি বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অংশ হচ্ছে ভোট।’ ভোট দেওয়ার পক্ষে সেখানে মতামত দিয়েছেন। তাতে কি গণতন্ত্রের মতো ইসলামবিরোধী একটি মতাদর্শের পক্ষে অবস্থানগ্রহণের অর্থ দাঁড়িয়ে গেল না? ইসলাম কি গণতন্ত্রকে সমর্থন করে?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : প্রবন্ধটি ভালোভাবে পড়লে দেখতে পাবেন এই লেখার বেশির ভাগ অংশেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মন্দ ও ত্রুটির কথা বলা হয়েছে। গণতন্ত্র নামক মত ও ধারণার পক্ষে অবস্থানের কথা তো তখনই বলা যায়, যখন গণতন্ত্রের পুরো প্রক্রিয়াকেই সমর্থন করা হয়। এখানে সেটা হয়নি। এমনকি গণতন্ত্রের যে ভোটব্যবস্থা তারও ব্যাপক সমালোচনা ও ক্রটি-বিচ্যুতি নিয়ে কথা বলা হয়েছে ওই প্রবন্ধে।

দেখুন, গণতন্ত্র কোনো রাষ্ট্রের নাম নয়। গণতন্ত্র হচ্ছে একটি রাষ্ট্রধারণার নাম, একটি ফিকরা। এর মন্দ বৈশিষ্ট্যের অভাব নেই। আমাদের রাষ্ট্রের সংবিধানের একটি মূলনীতি হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের অনেকগুলো উপাদান আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য উপাদান হচ্ছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যে কোনো রকম আইন প্রণয়ন করতে পারেন। আইন প্রণয়নে তাদের সার্বভৌম ও বাধাহীন ক্ষমতা থাকবে। এটা সরাসরি ইসলামবিরোধী। ইসলামের দৃষ্টিকোণ হচ্ছে হাকেমিয়্যাত বা সার্বভৌমত্ব আল্লাহ তাআলার। আল্লাহ তাআলার সার্বভৌমত্ব মেনে, আল্লাহর বিধানের আওতার মধ্যে থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থাগত ও শাখাগত আইন প্রণয়নের কাজটি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা করতে পারেন। ইসলামের মৌলিক বিধান, নীতি ও অনুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু করার ক্ষমতা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নেই।

তবে গণতন্ত্রের এমন কিছু উপাদানও আছে যার মূল বিষয়ের সঙ্গে ইসলামের বিরোধ নেই। যেমন, মানবাধিকার এবং স্বেচ্ছাচারমূলকভাবে কেউ নিজেকে নিজে শাসক ঘোষণা করতে না পারা। এ দুটি উপাদান গণতন্ত্রে আছে। আবার ইসলামও এ দুটি উপাদান আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে থাকে। এখন যদি কেউ গণতন্ত্রের কিছুই নেওয়া যাবে না বলে মানবাধিকার গ্রহণ ও স্বৈরশাসকের পথ বন্ধ করা যাবে না বলে দাবি করে–সেটি কি যথাযথ হবে? সেটা কি ইসলামের বিধান ও নির্দেশনার সঙ্গে মিলবে? গণতন্ত্রের উপাদান হিসেবে আছে বলেই ‘মানবাধিকার’ রক্ষা করা হারাম–এটা কি বলা যায়? স্বঘোষিত স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ভোটের মাধ্যমে শাসক নির্বাচন করার কথা তুলে ধরে বলে এমন কি বলা যাবে যে স্বঘোষিত স্বৈরশাসকই ভালো?

ইসলাম টাইমস : গণতন্ত্রের ভোটব্যবস্থা আর ইসলামের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন বা সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা কি তাহলে এক রকম?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : না, এক রকম নয়। মিলটা শুধু মূল ধারণাগত পর্যায়ে। গণতন্ত্রের ভোটব্যবস্থার ত্রুটিগুলোর মাত্রা অনেক গভীর। গণতন্ত্রে নির্বাচক বা ভোটার হওয়ার মাপকাঠি হলো ১৮ বছর বয়স হওয়া। আর কিছুই শর্ত নেই। ভোটার হওয়ার জন্য যোগ্যতা, পাকাপোক্ত চিন্তার অধিকারী হওয়ার মতো কোনো বিষয় নেই। অথচ ১৮ বছর বয়সের যে সীমা গণতন্ত্রের নিয়মে রয়েছে –এরও মূল কারণ হিসেবে বলা হয় যে তখন একজন নাগরিক প্রাপ্তবয়স্ক হয়, পূর্ণ বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন হয়। এটা হলো তাদের যুক্তি।

ইসলামের নির্দেশনা হলো, এই নির্বাচক সত্ত্বার মৌলিক যোগ্যতা থাকতে হবে। বয়স দিয়ে এটা বিবেচনা করা  যাবে না। তাকে পরিপক্ক চিন্তা-বুদ্ধির অধিকারী হতে হবে। শরিয়তের পরিভাষা হলো ‘আহলুল হল্ল ওয়াল আকদ’। এই আহলুল হল্ল ওয়াল আকদ মনোনয়ন করবেন, নির্বাচন করবেন, মশওয়ারা করে চূড়ান্ত করবেন রাষ্ট্রপ্রধান বা রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য সরকার। মোটকথা, নিজেরা স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নিজেদের রাষ্ট্রশাসক ঘোষণা করতে না পারা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক নির্ধারণ করার এই মূল ধারণাটিতে ইসলাম ও গণতন্ত্রের মিল রয়েছে। প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনায় গণতন্ত্রের রয়েছে বহু ক্রুটি-বিচ্যুতি, গোঁজামিল আর ইসলামের নির্দেশনায় রয়েছে সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গতার বৈশিষ্ট্য।

আরেকটি দিক দেখুন, গণতন্ত্রের বিবেচনায় নির্বাচনে দাঁড়ানো বা ভোটের প্রার্থী হওয়ার জন্য জ্ঞান ও নৈতিকতায় বিশেষ কোনো যোগ্যতার শর্ত নেই। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিকোণ এ ব্যাপারে অত্যন্ত মজবুত ও সুন্দর। যোগ্য ও নীতিবান নাগরিক ছাড়া কেউ নির্বাচিত হওয়ার জন্য আলোচনাতেই আসতে পারবে না। নির্বাচক ও নির্বাচিত – এই দুই পাত্রের ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের ত্রুটি-বিচ্যুতির বিপরীতে ইসলামের নির্দেশনা সুস্থতাপূর্ণ ও যুক্তিপূর্ণ।

গণতন্ত্রে এমন কিছু উপাদান আছে, যার মূল বিষয়ের সাথে ইসলামের মিল আছে এবং ইসলামে সেগুলোর সৌন্দর্য্য ও পূর্ণাঙ্গতা বিদ্যমান। ওই মূল বিষয়গুলোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করার অর্থ এটা নয় যে, গণতন্ত্রের যে কুফরির অংশ আছে–তার প্রতিও সমর্থন জানানো। একইভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সব বিচ্যুতি ও ত্রুটি সম্পর্কে সজাগ থেকে কেউ যখন ভোটদানে অংশ নেয় বা নিতে বলে তারও অর্থ এটা দাঁড়াতে পারে না যে, গণতন্ত্রের পুরো কাঠামোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়ে গেল।

আরও পড়ুন: ইসলামী দৃষ্টিকোণ: ভোট অবশ্যই দিতে হবে

ইসলাম টাইমস : গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এই ভোট পদ্ধতিতে আসলে কি কোনো সুফল কোথাও এসেছে?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : সুফলের একটি উদাহরণ বলি। কামাল আতাতুর্ক পরবর্তী তুরস্কের কথা। খেলাফত পরবর্তী সময়ে তুরস্কে কামাল আতাতুর্ক এমন এক দমবন্ধ সেক্যুলারিজম চালু করেছিলেন যে, সেখানে হিজাব, আজান, প্রকাশ্যে নামাজ, আরবি ভাষা – সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আর এই কট্টর সেক্যুলারিজম তারা রাষ্ট্রের সবগুলো শাখায় বিস্তার ঘটিয়েছিল। আদালত, সেনাবাহিনী, প্রশাসন, শিক্ষাব্যবস্থা – সব জায়াগায় ইসলাম নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে যে একটা পরিবর্তন হয়েছে এবং হচ্ছে তা ভোটের মাধ্যমেই হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভোটের সুযোগ নিয়ে যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করতে চেয়েছে, তৃণমূল পর্যায়ে থেকে নির্বাচন করে, নির্বাচিত হয়ে এখন এমন একটি পর্যায়ে এসেছে যে, আজান, মসজিদ-মাদরাসা, হিজাব, দাঁড়ি রাখার অনুমোদন আছে দেশটিতে। এখন ইসলামি শাসন নেই সেখানে, কিন্তু কামালের কট্টর ইসলাম উচ্ছেদের ব্যবস্থাপনা থেকে বের হয়ে আসছে। এ পর্যায়টিতে তারা এসেছে ভোটের মাধ্যমে। এখন কেউ যদি বলে, কুফরি গণতান্ত্রিক ভোটের সুযোগ নিয়ে যারা ইসলামের এই অনুশাসনগুলো পালনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে তারা কুফরি করেছে, তাহলে কি তার কথা সঠিক হবে?

ভোটের সুফলের আরেকটি উদাহরণ আপনি নিন। বহুদিন পর্যন্ত ইলম ও হিকমার কেন্দ্র ছিল মিশর। সেই মিশরে সেক্যুলার স্বৈরশাসক চেপে বসার পর পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যায়। প্রকাশ্যে ইসলাম পালনের পথও অনেক ক্ষেত্রে রুদ্ধ হয়ে যায়। এরপর যখন প্রথম নির্বাচনের সুযোগ এলো, ইসলামি অনুশাসনের পক্ষের একটি শক্তি ক্ষমতায় এলো। তখন বহু সম্ভাবনার দরজা উন্মোচিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বড় আরব দেশগুলো আতঙ্কিত হয়ে মিশরে এজেন্ট নিয়োগ করে ওই সরকারকে ব্যর্থ করে না দিলে মিশরের ইসলামি অনুশাসনের চিত্রটা হয়তো আরো অনেক সুন্দর হয়ে উঠতো।

সেখানে আরেকটি ট্রাজেডি দেখুন! মুরসি সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে কথিত জিহাদপন্থী সালাফিরা সিসিকে প্রথমে সহযোগিতা করলো এবং পরে আফসোস করছে যে, আমরা কত বড় ভুল করেছি। নির্বাচিত সরকারের প্রতি মিশরের সালাফিদের আস্থা ছিল না। তারা আরো গরম গরম কথা বলেছে এবং তাদের তখনকার পলিসি অনুযায়ী মুরসির বিরুদ্ধে গিয়ে সিসিকেও সহযোগিতা করেছে। পরে আফসোস করেছে। সেক্যুলারিজম থেকে মিশরকে উদ্ধার করার জন্য মুরসি এবং তার দল যে ভোটে অংশগ্রহণ করেছিল এবং একটি সুফল নিয়ে এসেছিল–সেটাকেও কি কুফরি বলতে হবে?

পেছনের যুগে ভোটের সাহায্যে ইসলামবিরোধী শক্তির হাত থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা এবং ইসলাম পালনের পরিবেশ নির্মাণের চেষ্টার অনেক গ্রহণযোগ্য উদাহরণ আছে। এই ভোট চূড়ান্ত ভালো কোনো প্রক্রিয়া নয়, কিন্তু মন্দের ভালো একটি প্রক্রিয়া। ভারত-পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন, রেফারেন্ডামের মাধ্যমে সিলেটের পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্তিসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ইতিহাস এই ভোট থেকেই পাবেন। চরম বৈরী অবস্থা থেকে একটু স্বস্তিপূর্ণ অবস্থায় উত্তরণের অনেক ঘটনা ভোটের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। এজন্য ভোটকে কুফরি গণতন্ত্রের কুফরি কাজ আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যানযোগ্য মনে করার সুযোগ নেই।

একইভাবে যারা গণতন্ত্রের সব হাকিকত চোখের সামনে রেখে ভোট প্রদান করছেন বা ভোট প্রদানের কথা বলছেন–তাদেরকেও কুফরি গণতন্ত্রের সমর্থক বা স্বীকৃতিদাতা মনে করা আসলে চিন্তার একটি দুর্বলতা। এরপরও যারা ভোট মানেই কুফরি, ভোট মানেই পরিত্যাজ্য–এমন কথা বলেন, তারা আসলে সামগ্রিক বিষয়ে চিন্তা করেন না। তাদের চিন্তা ও বিশ্লেষণ একপেশে ও দুর্বল।

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : আপনার প্রবন্ধটির শেষে আপনি বলেছেন- ‘গণতন্ত্র ও বর্তমান নির্বাচনপদ্ধতির যতই ত্রুটি থাকুক, এর কারণে ভোটদানে বিরত থাকা সমীচীন হবে না; বরং বুদ্ধি-বিবেচনা খরচ করে, ভেবেচিন্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে ভালো, মন্দের ভালো অথবা অন্তত কম মন্দের পক্ষে।’ প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটারদের এ ভাবনাচিন্তার কিছু উপায় ও বিষয় কি একটু খোলাসা করে বলবেন?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : এ প্রবন্ধটিতে ভোট দিতে প্রার্থীদের আহ্বান জানানো হলেও ভোটব্যবস্থার ত্রুটি এবং প্রার্থীদের পরিস্থিতি যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে- তাতে ভোটারদের জন্য ভালো কিছু বিবেচনা করার মতো অংশ বা বিষয় সম্পর্কে পরামর্শ দেয়ার সুযোগ একেবারেই কম। সেরকম প্রার্থী আপনি খুব একটা পাবেন না। তারপরও দুটি বিষয় বিবেচনায় নিতে আমি ভোটারদের কাছে অনুরোধ রাখতে পারি।

প্রথম বিষয়টি হলো, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ থেকে মুক্ত হয়ে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয়। বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন ও মাথা উঁচু করা মুসলিম রাষ্ট্র। এখন এ দেশটির স্বাধীনতা রক্ষা করা একটি বড় কর্তব্য। স্বাধীনতার বিভিন্ন উপাদান ও উপলক্ষ রক্ষা করার জন্য ভোটের সময় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, অর্থনীতি, মর্যাদা, মুসলিম ইমেজ, সমুদ্র, সমু্দ্রবন্দর, সীমান্ত, খনিজ সম্পদ, নদী-পানি, দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা যে দল বা পক্ষের হাতে কম ঝুঁকিপূর্ণ- তাকে বেছে নিতে হবে। এযুগে দেশ দখলের ধরন বদলে গেছে। আগের মতো সরাসরি দখল না করে কৌশলে লুটে নেওয়া হয় দেশের প্রাচুর্য-সম্পদ। এসব বিষয় পুরোপুরি হয়তো কোনো দলের কাছেই নিরাপদ নয়, কিন্তু এক্ষেত্রেও কিছু কম-বেশ অবশ্যই আছে। সব বিচারে রাষ্ট্রের জন্য অনুকূল চিন্তা ও চেষ্টা যারা একটু বেশি করবে বলে মনে হয়–তাদেরকে বেছে নেওয়া যায়।

বিবেচনার দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, যিনি বা যারা নির্বাচিত হলে অন্তত ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিকভাবে ইসলাম পালনে বাধা সৃষ্টি করবে না–তাদের প্রতি সমর্থন দেওয়া যায়। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তো ইসলাম প্রতিষ্ঠার কোনো পদক্ষেপ নেই। অন্তত ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইসলাম পালনের পথ যেন কারো দ্বারা বন্ধ না হয়–ভোটের সময় সে চেষ্টা করা যায়।

ওয়াজ-মাহফিলের বক্তব্য সীমিত করে দেওয়া, মসজিদের খতিবদের বক্তব্যের ‘অপব্যাখ্যা’ বন্ধে নেতাকর্মীদের জুমার নামাজে শরিক হতে বলার মতো পরিবেশ যারা তৈরি করতে চায়–তাদেরকে ভোটপ্রদানে বিরত থাকা। রাষ্ট্র বা জনপ্রতিনিধির কাছে ইসলামের অনুকূল সেবা না পেলেও যারা এসবে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না–তাদের বেছে নেওয়া যায়। ইসলাম পালনকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসায় ভীতিকর খবরদারি করার মতো প্রার্থী ও দলকে ভোট না দেওয়া। এভাবেই দেশ ও ইসলামের স্বাধীনতা ও মর্যাদার দুটি ইস্যুতে ভোটাররা তাদের বিবেচনা ও বোধ-বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে পারেন।

ইসলাম টাইমস : নির্বাচনে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীর গুণাগুণ নাকি যে দল বা মত-পথের প্রার্থী–সেই দল ও মতটাকে বড় করে দেখা আপনি বেশি দরকারি মনে করেন?

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : এটা জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই ভোটে সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপ ঠিক হয়। এরকম জাতীয় নির্বাচনে ব্যক্তির চেয়ে দলের বিষয়টি বড়, দলের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভূমিকাটাই বড়। স্থানীয় নির্বাচনে ব্যক্তির গুণাগুণের প্রশ্নটি বড় হয়ে আসে। তবে, এটাও ঠিক যে তুলনামূলকভাবে কম মন্দ দলের বা সার্বিক বিচারে ভোট দেওয়া যায়–এমন কোনো দলের কোনো প্রার্থী যদি একেবারেই খারাপ লোক হয়–তবে তাকেও প্রত্যাখান করা উচিত। দল ও ব্যক্তির সমন্বয়ে বিবেচনার ধাপগুলো হতে পারে এমন : ভালো, কম ভালো, কম খারাপ। এর মধ্য থেকেই কোনো প্রার্থীকে বাছাই করে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

ইসলাম টাইমস : আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে শোকরিয়া।

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ : আপনাদেরও অনেক শোকরিয়া।

পূর্ববর্তি সংবাদমোনাজাত শেষে বিমানবাহিনীর ১১০ কর্মকর্তা মালির উদ্দেশে রওনা
পরবর্তি সংবাদঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে: সিএমএইচ-এ শেখ হাসিনা