তবে কি শেষমেশ আসাদেরই জয় হল?

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে দামেস্কে দূতাবাস পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আসন্ন বছরে বাহরাইন, কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ার সঙ্গে ফের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চিন্তা করছে। সদস্য পদ বাতিলের ৭ বছর পর আরব লিগ আবার সিরিয়াকে সদস্য করার কথা বিবেচনা করছে।তাহলে কি শেষমেশ বেসামরিক নাগরিকদের রক্তের হোলি খেলায় মত্ত আসাদেরই জয় হল? গত পাঁচ-সাত মাসের আন্তর্জাতিক রাজনীতির পটপরিবর্তনে অনেকের মনেই এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী নৃশংস যুদ্ধে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার হলেন বেসামরিক নাগরিক। লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ছাড়াও অন্তত পনের লাখ মানুষ স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ছিয়াশি হাজার মানুষ হাত পা হারিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৬১ লাখ মানুষ। আর বিদেশে চলে গেছে ৫৬ লাখ সিরিয়ান। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী দেশ লেবানন, জর্ডান ও তুরস্কে। সেখানে অনেকে মানবিক সহায়তা পর্যন্ত পাচ্ছে না।

আসাদ রাসায়নিক অস্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১০৬টি রাসায়নিক হামলা হয়েছে।অথচ ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তিতে (সিডব্লিউসি) সই করে দেশের রাসায়নিক অস্ত্রের ভাণ্ডার ধ্বংস করতে সম্মত হয়েছিলেন আসাদ।

রাসায়নিক হামলার জন্য পশ্চিমারা আসাদ ও তার মিত্র রাশিয়াকে দায়ী করেছে। কিন্তু আসাদ রাসায়নিক হামলার দায় বরাবরই বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে আসছেন। তার ভাষ্য, ২০১৩ সালে হস্তান্তরের পর থেকে তার সরকারের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র আর নেই।

সিরিয়ার কারাগারে বন্দিদের হত্যা ও পুড়িয়ে মারার অভিযোগ রয়েছে আসাদের বিরুদ্ধে। সিরিয়ায় সামরিক কারাগারের বন্দি হত্যার তথ্য গোপন করতে ‘লাশ পোড়ানোর চুল্লি’ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রশাসন।

স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব নিয়ার ইস্টার্ন অ্যাফেয়ার্সের ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী স্টুয়ার্ট জোনস এ তথ্য দেন।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, দামেস্কের সেডনায়া কমপ্লেক্সের ছাদের বরফ গলে যাচ্ছে। ক্রিমেটোরিয়ামের উত্তাপের কারণেই এমনটা হয়েছে। জোনসের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন বন্দিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

পূর্ববর্তি সংবাদনতুন নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচী দেবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো
পরবর্তি সংবাদআন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন