ইসলাম টাইমস ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এতে চারজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আটিয়াতলীতে লাহারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানকে কুপিয়ে আহতের জের ধরে সৃষ্ট ঘটনায় বুধবার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায়, বুধবার সকালে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক যুবক লাহারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানকে কুপিয়ে আহত করে। কিছুক্ষণ পর দেলোয়ার হোসেনকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে পুলিশে খবর দেয় ফজলুর রহমানের লোকজন। পরে পুলিশ দু’জনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে দুপুরে হাসপাতালে ফজলুর রহমানকে দেখতে আসে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে দেলোয়ার হোসেনের ওপর হামলা করে। এতে পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা করে তারা। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এতে আহত হন সদর থানার এসআই আবদুল আলীম, এএসআই গিয়াস উদ্দিন, পুলিশ সদস্য নয়ন ও মেহেদী হাসান, সাংবাদিক মীর ফরহাদ হোসেন সুমন, জেলা যুবলীগ সভাপতি সালাহ উদ্দিন টিপু, সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমানসহ ১০ জন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পরে হাসপাতালে ও শহরে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলা (পশ্চিম) যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মাহাবুবুর রহমান, সদর পূর্ব যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রুপম হাওলাদার, পৌর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন, যুবলীগ নেতা আজগর হোসেন, মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ উল্যাহসহ ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০টি মোটরসাইকেল জব্দ করে নিয়ে যায়।
এদিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপু হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমিসহ ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। সামান্য ভুল বুঝাবুঝিতে নেতাকর্মীদের আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আসম মাহাতাব উদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতায় আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ দেলোয়ার হোসেন। দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পাল্টা হামলার শিকার হয় পুলিশ। এতে ৪ পুলিশ আহত হয়। হাসপাতাল ও শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযোন চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল ও শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।
















