ঐক্যজোট প্রার্থীরা গুলশান কার্যালয়ে, বিকেলে ইসিতে স্মারকলিপি প্রদান

ইসলাম টাইমস ডেস্ক :  নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আজ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর আগে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকে বসেছে ধানের শীষের প্রার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় বেলা দেড়টায়।

বৈঠকের পর বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিতে বিকেল তিনটায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে যাবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বৈঠকে ১৭৪ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বিজয়ী পাঁচজন প্রার্থীও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হারুনুর রশীদ, আমিনুল ইসলাম, মোশারররফ হোসেন ও জাহিদুর রহমান।

২৯৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। বাকি দুটি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির অলি আহমেদ নিজ দলের প্রতীক ছাতা এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর হামিদুর রহমান আযাদ স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত বক্তব্যে প্রার্থীদের কাছে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার ভোটের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী করণীয় কী হতে পারে, তা বিস্তারিতভাবে বলতে প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ করেন।

বৈঠকে বিএনপির পাশাপাশি জেএসডি, গণফোরাম, খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী উপস্থিত হননি। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম উপস্থিত।

এ ছাড়া জেএসডির আ স ম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন, শহীদউদ্দিন মাহমুদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামে সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুলতান মো. মনসুর, আমসা আমিন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আবদুল কাদের, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পূর্বে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘৭০ সালের নির্বাচন ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন দেশ গড়ার জন্য। তখন সেনাবাহিনী, বিডিআর, পিপিআর, পুলিশ সিভিল প্রশাসন আমাদের পক্ষে ছিল। ৫৪ সালে সব যুক্তফ্রেন্টর পক্ষে ছিল। এবারের নির্বাচন হলো “ঘরের শত্রু বিভীষণ”।’ তিনি বলেন, ‘ঘরে নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আর অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মধ্যে পার্থক্য আছে।’

আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো স্বৈরাচার সরকার যদি চিরস্থায়ী না হয়ে থাকে তাহলে এই সরকারও টিকবে না।আমি ৫৪ সালে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। এই পর্যন্ত সব নির্বাচন দেখেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন পুঁজিবাদী, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন দেখেছি। ভোট ডাকাতি আমাদের আশপাশের দেশেও হয়। কিন্তু এমন জঘন্যতম এবং বেহায়াপনা ডাকাতির নির্বাচন আমি দেখিনি।’

জেএসডি সভাপতি বলেন, ‘আমাদের দেশের জনগণ ভোট দিতে চেয়েছিল কিন্তু ভোট ২৯ তারিখ রাতেই শেষ হয়ে গেছে। যেমন পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র শেষ, তেমনি ভোটের আগে ব্যালট পেপার শেষ। আমার এলাকায় কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে থেকেই গ্রেফতার, হুমকি, নির্যাতন, অফিসে আগুন লাগানো শুরু হয় আমার এলাকায় এবং কর্মীরা নির্বাচনে সময় বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি।’

আসম আবদুর রব বলেন, ‘অনেক বুদ্ধিজীবীরা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে না গিয়ে ভুল হয়েছে কিন্তু এবার কী প্রমাণিত হলো? আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠ থেকে উঠি নাই। অনেকে এখন প্রশ্ন করেন, আগে বুঝতে পারলেন নির্বাচন এমন হবে, তাহলে গেলেন কেন এমন নির্বাচনে? এবার নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত না থাকলে জনগণ বলত আপনারা আবার আগের মতোই ভুল করেছেন।’

পূর্ববর্তি সংবাদএখনও ঝুলছে নির্বাচনী পোস্টার
পরবর্তি সংবাদআওয়ামী লীগের সংসদ নেতা শেখ হাসিনা